অটো চয়েজ তাসকিনের চ্যালেঞ্জ

শুরুর পথচলা ভয়ঙ্কর সুন্দর তাসকিনের। ২০১৪ সালে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেকে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের একাই গুঁড়িয়ে দেওয়া তাসকিন দেখেছেন মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। গতি আর সুইংয়ে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের কাঁপন ধরানো এই ডানহাতি ক্রিকেট পাড়ায় পরিচিত মুখ।

দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাঠেও প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। আবার এমনও সময় গেছে তার যেখানে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচেও একাদশে ঠাঁই হয় নি। তবে নিজেকে ফিরে পাওয়ার মিশনে পিছ পা হননি তাসকিন। জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার পর পরিশ্রম করে গেছেন। মাঝে থাবা দেয় ইনজুরি। সেটি কাটিয়ে আবারো ফিরেন ঘরোয়া ক্রিকেটে। সদ্য সমাপ্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) পর চলমান বিপিএলে নিজেকে ফিরে পাবার আশায় লড়ে যাচ্ছেন।

৪ বছর আগে অভিষিক্ত হওয়া তাসকিনের মধ্যে এসেছে বেশ পরিবর্তন। গতি আর সুইংয়ের পাশাপাশি বোলিং লেন্থ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন। বিপিএলে তার বোলিংয়ে সেই প্রভাব দেখা যাচ্ছে। একই সাথে ফিট থাকা এবং পারফর্ম করে ফিরতে চান জাতীয় দলে। প্রথম ধাপ পূর্ণ হলেই চোখ রাখবেন বিশ্বকাপে। তাসকিন আহমদের কথা শোনেছেন আশিক উদ্দিন…

এসএনপিস্পোর্টসঃ বিপিএলে পরিশ্রমী এক তাসকিনকে দেখা যাচ্ছে…

তাসকিনঃ জাতীয় দলে খেলার সুযোগের চেয়ে সেখানে জায়গা ধরে রাখা কঠিন। আমার ইনজুরি ছিল, পারফর্ম করতে পারিনি বিধায় জাতীয় দল থেকে বাদ পড়েছি। এখন বিপিএলে পরিশ্রম করে যাচ্ছি। ভালো পারফর্ম করতে পারলে ইনশাল্লাহ আবারো সুযোগ পেতে পারি জাতীয় দলে খেলার।

এসএনপিস্পোর্টসঃ সিলেট সিক্সার্সের হয়ে বিপিএলের শুরুটা নিজে কতটুকু মূল্যায়ন করছেন?

তাসকিনঃ বিপিএল নিঃসন্দেহে অনেক বড় একটি টুর্নামেন্ট। এখানে দেশি-বিদেশি অনেক নাম করা ক্রিকেটাররা খেলছেন। চলতি আসরে আমার শুরুটা ভালো হয়েছে। প্রথম তিন ম্যাচে কিছু উইকেট পেয়েছি। এ জন্য শোকরিয়া। সবার দোয়া চাই যেনো এই পারফর্ম ধরে রাখতে পারি। সেরাটা দিয়েই খেলি আমি। আমার এই পারফর্মেন্স ও ফিটনেস ধরে রেখে খেলতে পারলে জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ থাকবে আশাকরি।

এসএনপিস্পোর্টসঃ গত বছরে ইনজুরির কারণে অনেক খেলা মিস করেছেন!

তাসকিনঃ ২০১৮ সালে ইনজুরি ও অফ ফর্মের কারণে অনেক ম্যাচে মাঠে নামা হয় নি আমার। ঘরোয়া ক্রিকেটের ম্যাচ মিস করায় খারাপ লেগেছে। এখানে ভালো করতে পারলে অবশ্যই নির্বাচকরা আমাকে নিয়ে ভাবতেন, সেটি হয় নি। এ বছর অনেক খেলা আছে জাতীয় দলের। আমি বিপিএল ভালোভাবে শেষ করতে চাই।

এসএনপিস্পোর্টসঃ জাতীয় দলের পাইপলাইনে শরিফুল-খালেদদের মত তরুণ পেসার উঠে আসায় নিজের জায়গা কতটুকু শক্ত মনে করছেন?

তাসকিনঃ ওরা (শরিফুল-খালেদ) অনেক ভালো বোলার। ঘরোয়া ক্রিকেট বা ‘এ’ দলের হয়ে খেলে আসছে। এখন জাতীয় দলে কে আসতেছে এটা নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন না। আমার বিশ্বাস আমি ইনজুরি মুক্ত থাকবো এবং পারফর্ম করবো।

এসএনপিস্পোর্টসঃ ওয়াকার ইউনুস একজন লিজেন্ডারি পেসার। সেই সাথে সতীর্থ হিসেবে পেয়েছেন মোহাম্মদ ইরফান এবং সোহেল তানভীরের মত বোলারদের। উপকৃত হচ্ছেন কিছুটা?

তাসকিনঃ ওরা অনেক হেল্পফুল, অভিজ্ঞও। অনেক বেশি খেলার অভিজ্ঞতা আছে তাদের। আমি সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে চাই। ওয়াকার নিঃসন্দেহে অনেক বড় মাপের কোচ। ছোট-খাটো অনেক বিষয় আছে যা তার কাছ থেকে সমাধান করা যায়। আমি সেই চেষ্টায় আছি।

এসএনপিস্পোর্টসঃ বিশ্বকাপ নিয়ে কিছু ভাবছেন?

তাসকিনঃ গত বিশ্বকাপে আমি দলের সাথে ছিলাম। ঐ বারের মত এবার বিশ্বকাপও হবে বাউন্সি উইকেটে। এর আগে আমার লক্ষ্য জাতীয় দলে ফেরা। জাতীয় দল বিশ্বকাপের আগে নিউজিল্যান্ড সফরে যাবে। এখন আমি যদি এই সিরিজে সুযোগ পাই তাহলে লক্ষ্য স্থির করবো বিশ্বকাপকে ঘিরে। সবকিছুর আগে আমাকে ভালো খেলে সুযোগ করে নিতে হবে।

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/১১০/০৪