‘অটো চয়েজ’ লিটনের ব্যর্থতা অব্যাহত

‘অটো চয়েজ’ লিটনের ব্যর্থতা অব্যাহত

সাগর রায়ঃ লিটন দাস! দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে প্রতিভাবান তকমা পাওয়া ক্রিকেটার তিনি। ডানহাতি এই ব্যাটার সেই যোগ্যতা রাখেনও। কেননা উইকেটে যখন থাকেন, তখন তার দৃষ্টিনন্দন ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ হন খোদ সমালোচকরা। নিজের দিনে বিশ্বের সেরা নান্দনিক ব্যাটারদের কাতারে নিয়ে যান তিনি। কিন্তু সেই লিটনই এখন সবার মাথা ব্যাথার কারণ। একাদশেই যেন দেখতে চান না কেউ এখন!

প্রতিভার কমতি নেই। এমনকি ঘরোয়া ক্রিকেটেও পারফর্ম করে জাতীয় দলে জায়গা করে নেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আসলেই ধারাবাহিকতায় খেই হারিয়ে ফেলেন। নেটিজেনরা এর জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রলে বিদ্ধ করতে ভুল করেন না বিন্দুমাত্রও।

বর্তমানে অধারাবাহিকতার অপর নাম লিটন দাস। চলতি বছর কিংবা চলমান টি-২০ বিশ্বকাপ, লিটন নিজে যে একজন ব্যাটার সেটাই হয়তো ভুলে গেছেন তিনি। রানের খরা চলছে তো চলছেই। সাদা পোশাকে লিটন যতটা রঙিন, বিপরীতে রঙিন পোশাকে ঠিক ততটাই ধূসর হয়ে আছেন। রান করার নেশা যার হওয়ার কথা ছিল, সেই তিনি শুরু করেছেন উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসে দলকে বিপদে ফেলে দেওয়ার নেশা।

যদিও একজন ক্রিকেটার ইচ্ছাকৃতভাবে কখনোই খারাপ খেলেন না কখনো। ইচ্ছাকৃতভাবেই উইকেট দিয়ে আসেন না। কিন্তু একজন ক্রিকেটার উইকেটে টিকে থাকবেন কিভাবে, রান করবেন কিভাবে, সমস্যা থাকলে সেগুলো মেটাবেন কিভাবে সেটা বোঝার দায়িত্বও তার। কোচিং প্যানেল যার জন্য আছে, সেখানে টোটকা নিয়ে মাঠে নামতে অসুবিধে কই! অবশ্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হতে পারে মানসিকতা। ম্যাচকে রিড করতে না পারার ক্ষমতা। কিন্তু দীর্ঘ ছয় বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে সেটা কি এখনও করতে পারেন না লিটন?

চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১৪টি টি-২০ ম্যাচ খেলেছেন লিটন। যেখানে একটি ইনিংসে ব্যাট করেননি। বাকি ১৩ ইনিংসে ব্যাট করে নেই কোনো ফিফটি। সর্বোচ্চ স্কোর ৩৩। সব মিলিয়ে রান করেছেন ১৩ ইনিংসে মাত্র ১৪০। গড় মাত্র ১০.৭৬। একজন ওপেনারের এমন পারফর্মেন্স হতাশাজনক নিঃসন্দেহে। এদিকে চলমান টি-২০ বিশ্বকাপে প্রথম চার ম্যাচ খেলে লিটন খেলেছিলেন যথাক্রমে ৫, ৬, ২৯ ও ৬ রানের ইনিংস।

এরপর আজ পঞ্চম ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেললেন ৯ রানের ইনিংস। প্রথম ওভারে দারুণ শুরুর পরও, বিগড়ে গিয়ে বিলিয়ে দিয়ে এসেছেন নিজের উইকেট। যে মঈন আলিকে প্রথম দুই চার মেরেছিলেন, সেই মঈনের বলেই তৃতীয় ওভারে ক্যাচ তুলে দিয়ে এসেছেন। স্মার্ট ক্রিকেট বলে যে কথা ছিল, সেটা হয়তো ভুলেই গিয়েছিলেন লিটন! যার ফলে নিজেকে আরও একবার প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। স্বাভাবিকভাবেই তাই প্রশ্ন উঠে আসে, আর কতো ‘অটো চয়েজ’ হয়ে সুযোগ পাবেন লিটন?

ব্যাট হাতে ব্যর্থতার খোলস থেকে একেবারের বের হতেই পারছেন না ২৭ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। নিজেকে হারিয়ে খোঁজা এই তারকা ক্রিকেটারের পক্ষে বরাবরই সমর্থন জানিয়ে এসেছে বাংলাদেশের টিম ম্যানেজম্যান্ট। মনে কিছুটা আক্ষেপ থাকলেও, এই বুঝি প্রতিভা মেলে ধরবেন, সেই আশায় বুক বাঁধেন দলের সবাই। টানা ব্যর্থ হওয়ার পরও তাই তুমুল সমালোচনাকে পাশ কাটিয়ে বার বার টিম ম্যানেজম্যান্ট ডেকে নেয় দলে এবং একইসাথে রেখে দেয় একাদশে।

চলমানে টি-২০ বিশ্বকাপে অধিনায়ক তামিম ইকবালের অনুপস্থিতিতে লিটন দাসের উপর বড় দায়িত্ব ছিল। বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের ভরসার জায়গা ছিল। কিন্তু সেখানে নিজেকে ব্যর্থতার মাঝেই তালুবন্দি করে রেখেছেন লিটন। সমালোচনার মাঝে নিজেকে বিদ্ধ করেছেন আরও সমালোচনায়। ব্যর্থতার গ্লানি টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। এরপরও কী টিম ম্যানেজম্যান্ট একাদশ গঠন করতে গিয়ে সেই আশাই করবেন যে এবার নিজের চেনা রূপে জ্বলে উঠবেন লিটন, তাকে দেওয়া হোক আরও একটি সুযোগ? প্রশ্নটা অমূলক নয় মোটেও।

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/সা