অবশেষে এলো সাফল্য, মিস হলো ক্যাচও

নিজস্ব প্রতিবেদক:: প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের করা ৩৬৫ রানের জবাবে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করছে সফরকারী শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশ দল একটি উইকেটের জন্য প্রাণান্তকর চেষ্টা করে যাচ্ছিলো। কিন্তুু কাঙ্খিত উইকেটের দেখা মিলছিলো না। এবাদতের করা ২৬তম ওভারে এলবিডাব্লিউর ফাঁদে পড়েন লঙ্কান ওপেনার করুনারত্মে।

ওই ওভারের তৃতীয় বলে বাংলাদেশের ফিল্ডারদের জোরালো আবেদন প্রত্যাখান করেন আম্পায়ার। বাংলাদেশ দল রিভিউ নিতে চাইছিলো। বোলার এবাদত ছিলেন উইকেটরক্ষক লিটন দাসের দিকে। লিটন তখন অসম্মতি জানান। পরে টিভি রিপ্লেতে দেখা যায়, করুনারত্মেএলবিডাব্লিউ ছিলেন। অবশেষে ওই ওভারের পঞ্চম বলে সাফল্য পায় বাংলাদেশ। এবাদশান্তর হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফিরে যান ফার্নান্দো। দলীয় ৯৫ রানে ভাঙে লঙ্কানদের উদ্বোধনী জুটি। এই ওপেনার আট চার ও এক ছয়ে ৯১ বলে ৫৭ রান করেন।

পরের ওভারেই তাইজুল উইকেটের দেখে পেতে পারতেন। তবে মাহমুদুল হাসান জয় লঙ্কান ওপেনার দিমুথ করুনারত্মের ক্যাচ মিস করেন। তখন ৩৫ রানে ব্যাট করছিলেন এই ওপেনার। জয় ক্যাচটি লুফে নিতে পারলে ২৭তম ওভারের দ্বিতীয় উইকেটের দেখা পেতো বাংলাদেশ। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সফরকারীদের সংগ্রহ ২৭.১ ওভারে এক উইকেটের বিনিময়ে ১০১ রান। করুনারত্মে ও কুশল মেন্ডিস অপরাজিত আছেন।

এর আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৩৬৫ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। মধ্যাহ্ন বিরতি থেকে ফেরার খানিক পরেই অলআউট হয়ে যায় টাইগাররা। রান আউট হয়ে এবাদত হোসেন ফিরলেই স্বাগতিকদের ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে।

মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে আগের দিনের করা ৮৫ ওভারে ৫ উইকেটে ২৭৭ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। সেখান থেকে ১১৩ ওভারে ৯ উইকেটের বিনিময়ে ৩৬১ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশন পার করেছে স্বাগতিকরা। মধ্যাহ্ন বিরতি থেকে দ্বিতীয় সেশনে ফেরার পর ৩.২ ওভার মাত্র ব্যাট করতে পারে বাংলাদেশ। এরপরই ৩৬৫ রানে অলআউট হয় দল।

পাঁচ উইকেটে ২৭৭ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ নিজেদের ষষ্ঠ উইকেট হারিয়েছে ২৯৬ রানে। সকালে খুব বেশি সময় ঠেকেনি মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাসের বীরত্বগাঁথা জুটি। উইকেটরক্ষক ব্যাটার লিটনের বিদায়ে ভাঙে মুশফিকের সাথে তার ইতিহাস গড়া ২৭২ রানের অসামান্য এক জুটির।

টেস্ট ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস খেলে ফিরেন লিটন দাস। দলের বিপর্যয়ে মাঠে নেমে হাল ধরেছিলেন। দলকে অনেকটা নিরাপদে পৌঁছে দ্বিতীয় দিন সকালের প্রথম সেশনে তিনি ফিরেছেন ব্যাক্তিগত ১৪১ রান। ২৪৬ বলের ঝলমলে আর দায়িত্বশীল ইনিংসটি তিনি সাজিয়েছেন ১৮টি চার ও ১টি ছক্কায়। সাদা পোশাকে এর আগে ১১৪ রান ছিল তার ক্যারিয়ার সেরা।

লিটনের বিদায়ের পর উইকেটে আসা মোসাদ্দেক কোনো রান সংগ্রহের আগেই ফিরেছেন সাজঘরে। ৩ বল খেলে ‘ডাক’ মেরে রীতিমতো উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছেন এই ব্যাটার। একই ওভারে লিটন-মোসাদ্দেককে ফিরিয়ে কাসুন রাজিথা পূরণ করেন পাঁচ উইকেট। ক্যারিয়ারে যেটি তার এবারই প্রথম।

পরবর্তীতে উইকেটে আসেন তাইজুল ইসলাম। তিনি এসে মুশফিককে বেশ ভালোভাবেই সঙ্গ দিচ্ছিলেন। তবে দুজনের ৪৯ রানের দারুণ জুটির সমাপ্তি হয় তাইজুলের বিদায়ে। আসিথা ফার্নান্দোর বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তাইজুল। এর আগে খেলে যান ৩৭ বলে ২ বাউন্ডারিতে ১৫ রানের ইনিংস। উইকেটে আসা খালেদ আহমেদ ফিরেন ২ বলে ডাক মেরে।

শেষ উইকেটে লড়াই চালান মুশফিক ও এবাদত। দুজনের ১২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে মধ্যাহ্ন বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। যদিও এর মাঝে একবার রিভিউ নিয়ে জীবন পান এবাদত। তবে মধ্যাহ্ন বিরতি থেকে ফেরার খানিক পর এবাদত রানআউট হয়ে ফিরলে ভেঙে যায় তার সাথে মুশির ১৬ রানের জুটি। এবাদত ১৬ বল খেলে কোনো রান না করেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন। এতে করে ইনিংসে ষষ্ঠ ব্যাটার হিসেবে ডাক মারলেন তিনি।

তবে একপ্রান্তে অপরাজিত থেকে গেছেন লড়াই করা মুশফিকুর রহিম। ৩৫৫ বলে ২১ বাউন্ডারিতে ১৭৫ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছেড়েছেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল। অল্পের জন্য হলো না আরও একটি ডাবল সেঞ্চুরির।যদি সেটি হতো তাহলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় ও ক্যারিয়ারের চতুর্থ ডাবল সেঞ্চুরির দেখা পেতেন। তবে সেটা না হলে, বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের প্রথম ব্যাটার হিসেবে পাঁচ বার দেড়শ পার করা ইনিংস খেলেছেন তিনি।

আর তাঁর এই ইনিংস ইতিহাসে থাকবে অনন্যভাবে। ধ্বংসস্তূপ থেকে দলকে তিনি আর লিটন দাস ২৭২ রানের জুটি গড়ে যেভাবে টেনে তুলে ছিলেন, সেটা ছিল অনবদ্য। বাংলাদেশের তো বটেই টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে ২৫ রানের মধ্য পাঁচ উইকেট হারানোর পর এমন জুটি কেউই করতে পারেনি। তাই স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে দুজনের এই জুটি।

এর আগে ১৯৫৯ সালে উইন্ডিজের বিপক্ষে ২২ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর ৮৬ রান যোগ করেছিলেন পাকিস্তানের ওয়ালিস ম্যাথিয়াস ও সুজাউদ্দিন। এবার তাদের ছাড়িয়ে গিয়ে নতুন উচ্চতা স্থাপন করেছেন মুশফিক-লিটন। এর বাইরে বাংলাদেশের হয়ে ষষ্ঠ উইকেটে বাংলাদেশের হয়ে রেকর্ড জুটি করেছেন লিটন ও মুশফিক। বাংলাদেশ যখন টপ অর্ডারে তামিম-সাকিবদের ‘ডাক’ মেরে ফিরে যাওয়ায় ধুঁকছিল, তখনই এমন অনবদ্য ব্যাটিং করে ম্যাচের মোড় পাল্টে দেন দুজন। এসবের বাইরে ব্যর্থ হন নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হকরাও।

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/০০