অল্প টার্গেটে খেলতে নেমে দুই উইকেট হারিয়ে দিন শেষ করলো বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক:: বোলারদের নৈপুণ্যে সফরকারী আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ১৩২ রানের টার্গেট পেয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তুু এই অল্প টার্গেটে খেলতে নেমেও দিন শেষে দুই উইকেট হারিয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ ‘এ’ দল। শেষ বিকেলে খেলতে নেমে টি-২০ স্টাইলে শুরু করেন শান্তরা। দুই উইকেট হারিয়ে মারমুখী মেজাজের খেসারতও দিয়েছেন তারা।

বাংলাদেশ ‘এ’ দল তৃতীয় দিন শেষ করেছে ১১ ওভারে দুই উইকেটে ২৭ রান সংগ্রহ করে। ১৪ রানে সাদমান ও ১৯ রানে আল আমিন জুনিয়র অপরাজিত আছেন। কাল সকালে আবারো এ দুই ব্যাটসম্যান ব্যাটিংয়ে নামবেন।

অল্প টার্গেট পেয়ে সাদমান ও জাকির ইনিংস উদ্বোধন করতে নেমে টি-২০ স্টাইলে শুরু করেন। সাদমান ৪ হাঁকিয়ে রানের খাতা খুলেন। জাকির হাসানও বাউন্ডারী দিয়ে রানের খুলেন। তবে এরপর আর কোন রান তিনি সংগ্রহ করতে পারেননি। দলীয় ৮ রানে জাকির ব্যক্তিগত ৪ রানে ফিরে যান সাজঘরে। জাকিরের বিদায়ের পর উইকেটে এসে শান্তও ফিরে যান শুন্য রানে। শান্তর বিদায়ের পর ব্যাটিংয়ে নামেন আল আমিন।

এর আগে স্পিনার সানজামুলের ঘূর্ণি জাদুতে দ্বিতীয় ইনিংসে অল্পতেই আটকে যায় আয়ারল্যান্ড ‘এ’ দল। স্বাগতিক বাংলাদেশ ‘এ’ দলের বোলারদের তোপে পড়ে আইরিশরা অলআউ হয়েছে ২১৩ রানে। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ লিড নিয়ে ছিলো ১২২ রানের। ফলে জয়ের জন্য শান্ত-সাদমানদের করতে হবে ১৩২ রান। এখনো হাতে সময় আছে পুরো একদিন।

দ্বিতীয় ইনিংসে আয়ারল্যান্ড ব্যাট করেছে ৬০.২ ওভার। সানজামুলের বোলিং ঘূর্ণিতে পড়ে দলটি অলআউট হয় ২১৩ রান। সানজামুল একাই নিয়েছেন ৫টি উইকেট। সফরকারীদের হয়ে ইনিংস সর্বোচ্চ ৯০ রান করেছেন ওপেনার জেমস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৬ রান করেছেন শেইন। এছাড়া অন্য কোন ব্যাটসম্যান তেমন রান সংগ্রহ করতে পারেননি। ২০ রান করেছেন সিন টেরী।

বাংলাদেশের হয়ে সানজামুলের ৫ উইকেটের পাশাপাশি মেহেদী ৩টি, ইবাদত ও জুবায়ের ১টি করে উইকেট নিয়েছেন।

১৩২ রানের টার্গেটে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামবে বাংলাদেশ।

এর আগে আয়ারল্যান্ড প্রথম ইনিংসে ২৫৫ রান সংগ্রহ করে। বাংলাদেশ আজ সকালে অলআউট হওয়ার আগে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৩৭৭ রান সংগ্রহ করে। সকালে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। ডকরেলের শিকারে সাজঘরে ফেরত যান স্বীকৃত ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহান। ব্যাটিংয়ে নেমে নিজের নামের পাশে ৩ রান যোগ করে ৫৪ রানেই আউট হন তিনি। তার বিদায়ের পর বেশিক্ষণ টিকেননি সানজামামুলও। গতকালের চার রানের সঙ্গে আজ আরো ১০ রান যোগ করে রানআউট হয়ে ১৪ রানে ফিরে যান তিনিও।  বাংলাদেশের বড় লিডের স্বপ্ন তাই শেষ হয়ে যায়।

সানজামামুলের বিদায়ের পর জুবায়ের হোসেন লিখন ১ রানে ও ইবাদত শুন্য রানে ফিরলে ১১৬.৪ ওভারে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। রাব্বি অপরাজিত থাকেন এক রানেই।

প্রথম ইনিংসে গতকাল আজ লাঞ্চ বিরতির আগে কোন উইকেট না হারানো বাংলাদেশ বিরতির পরই দ্রুত উইকেট হারিয়ে অনেকটা বিপাকে পড়ে। সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে সাজঘরে ফেরত যান দলপতি নাজমুল হোসেন শান্ত। আইরিশদের বিপক্ষে দলীয় ১৩৮ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

লাঞ্চ বিরতির পর উইকেটে গিয়েই আউট হয়ে যান ৬৯ রানে অপরাজিত থাকা নাজমুল হোসেন শান্ত। এর আগে শান্ত ও সাদমান দু’জনে মিলে ১৩৭ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশকে শক্ত অবস্থান নিয়ে যান। শান্তর বিদায়ের পর উইকেটে আসা আল আমিন হোসেন জুনিয়রও ফিরে যান শুন্য রানে।

পরপর দুই উইকেট হারিয়ে বসা বাংলাদেশকে সঠিক পথেই রাখেন সাদমান। ব্যক্তিগত শতক হাঁকিয়ে সাদমান ফিরে যান দলীয় ২৪৩ রানে। সাদমান ২১৯ বলে ১৫টি চারে ১০৮ রানের ইনিংসটি সাজান তিনি। এছাড়াও ইয়াসির আলী ও মেহেদী হাসান ৩৫ রান করে সংগ্রহ করেন।

আইরিশদের হয়ে ডকরেল ৩টি ও এন্ড্রো ৩টি করে উইকেট লাভ করেন।

এর আগে বুধবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে সিমি সিং ও বোলার এন্ড্রোর ব্যাটে চড়ে প্রথম ইনিংসে  আইরিশরা অলআউট হওয়ার আগে ২৫৫ করে।

শুরুতেই উইকেট হারালেও টপঅর্ডারের ব্যাটসম্যান সিমি সিংয়ের প্রতিরোধে ঘুরে দাঁড়ায় দলটি। সিমি শতক হাঁকান। দশ নম্বরে নেমে এন্ড্রো অর্ধশক হাকিয়ে সফরকারীদের ইনিংসকে বড় করতে দারুণ সহায়তা করেন।

দলীয় ৮ রানে প্রথম উইকেট হারানো আইরিশরা লাঞ্চের আগেই হারায় ৩টি উইকেট। লাঞ্চের পরই বিপর্যয় ঘটে দলটির ব্যাটিং ইনিংসে। দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে দলটি। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে দারুণ ব্যাট চালাতে থাকেন সিমি।

শেষ দিকে এন্ড্রো ও সিমি ৪৮ রানের জুটি গড়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেন।  এর দলীয় ২১৭ রানে ১২১ রান করা সিমি ফিরে গেলেও অবিচল থাকেন এন্ড্রো।  ১৯১ বলে ৯৯ রানে সিমি ১৯২তম বলে বাউন্ডারী হাঁকিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। শতকের ইনিংসটি সাজান সাত চার ও ৪টি বিশাল ছয়ে। ১৫৯ বলে ১২১ রান করে মেহেদী হাসানের শিকারে সিমি ফিরে যান সাজঘরে। তার ইনিংসে দশটি চার ও চারটি ছয়ের মার ছিলো।

শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে বোলার এন্ড্রো যখন আউট হন তখন তার নামে পাশে লেখা হয়ে গেছে ৫৭ রানের এক ঝলমলে ইনিংস। ৮টি চারের মারে তিনি ইনিংসটি সাজান। শেষ উইকেট জুটিতে নাথান স্মিথকে নিয়ে এন্ড্রো ৩৮ রানের শক্ত জুটি গড়েন।

বাংলাদেশের হয়ে মেহেদী হাসান ৩টি, জুবাযে, ইবাদত ও রাব্বি ২টি করে উইকেট লাভ করেন।

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/০০