অসহযোগিতার মধ্য দিয়ে আমাদের বেড়ে উঠা: ইয়ামীন মুন্না

13250349_1158772744153290_820410143_nইয়ামীন মুন্না, তারকা লেখক, এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম:: বাংলাদেশ ফুটবলের আকাশচুম্বি জনপ্রিয়তা হয়তো এখন আর নেই। গ্রামে-গঞ্জের ফুটবল কেবল গ্রামে-গঞ্জেই আছে। তাইতো জেলা শহর গুলোতে ফুটবলের খবর রাখেন না তেমন কেউ। আমাদের সিলেটের দিকে চেয়ে দেখুন। ফুটবলের কি করুণ হাল!

ফুটবলটা আমার রক্তে মাংশে মিশে গেছে। ফুটবল নিয়েই পড়ে থাকি সারা দিন। ছোট বেলা থেকে ফুটবলের প্রতি আমার যে আকর্ষন ছিলো তা আজ আমার ক্যারিয়ারে পরিণত হয়েছে। গোলাপগঞ্জের হিলালপুর গ্রামের খোলা মাঠেই আমার বেড়ে উঠা। গ্রামের মাঠেই ফুটবল নিয়ে কেটেছে শৈশব-কিশোর। জেলা শহরে ফুটবল তখন ছিল কিনা সন্দেহই আছে। এখনই যেখানে ফুটবলের খবর নেই সেখানে আর ৪/৫ বছর আগে কেমন ছিলো ভাবাই যায়!।

শুধু আমি কেন? সিলেট থেকে আমরা যারা বিশেষ করে ওয়াহেদ, তকলিসরা জাতীয় ফুটবল দলে খেলছি আমরা কি কোন সুযোগ পেয়ে ছিলাম স্থানীয় পর্যায়ে। জাতীয় দলে আসা পর্যন্ত যেখানে কিনা জীবনে আমার একবারই সিলেটের লিগ খেলার সুযোগ হয়ে ছিলো। অথচ ফুটবলার তৈরির কারখানা কিন্তুু স্থানীয় পর্যায়েই। জেলা পর্যায়ে যদি খেলোয়াড়দের তৈরির সুযোগ না দেওয়া হয় তাহলে খেলোয়াড় তৈরি হবে কোথা থেকে?

ভাগ্য ভাল থাকায় আমি সহ আমরা আরো কয়েকজন হয়তো ঢাকায় খেলে জাতীয় ফুটবলে আসার সুযোগ পেয়েছি। ফেডারেশন স্থানীয় ফুটবলের উন্নয়নের জন্য পৃথক ফুটবল এসোসিয়েশন গঠন করেছে। আমাদের সিলেটেও আছে এমন ডিএফএ ও জেলা ক্রীড়া সংস্থা। ফুটবলটা কি তাদের নজড়ে কখনো আসে না? আমরা কয়েকজন খেলছি, আরো কিছু দিন হয়তো খেলবো। কিন্তুু আমরা চলে যাওয়ার পর সিলেটের আর কোন ফুটবলার জাতীয় দলে খেলবে? সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থা, সিলেট জেলা ফুটবল এসোসিয়েশন আগামির ফুটবলের জন্য কাদের তৈরি করছে? এসব চিন্তা কি আদৌ তাদের মধ্য আছে?

ভাবতেই অবাক লাগে আমার জীবনে মাত্র একবারই সিলেটের ফুটবল লিগ খেলেছি, নিয়মিত লিগ আয়োজন না হলে, আমাদের সুযোগ করে না দিলে এই দায়-দায়িত্বটা কার? একবার লিগ খেলে কি আদৌ জাতীয় দলে যাওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়। সিলেটে মাঠে যদি আমার পারফর্ম করার ব্যবস্থা না থাকে, যারা আগামিতে ফুটবলে আসবে তাদেরকে যদি স্থানীয় ভাবে প্রতিভা দেখানোর সুযোগ দেওয়া না হয়, তবে কি এই দায়িত্ব এড়াতে পারবেন সিলেটবাসী।

নিজেদের প্রবল ইচ্চা শক্তি আর মনোবল ছিল বলেই আমি সহ আমরা কয়েকজন এতদূর আসতে পেরেছি। আমার এই স্বপ্ন যাত্রায় যদি সিলেটের ফুটবলাঙ্গণের কোন সহযোগিতা পেতাম তাহলে ভালো লাগতো।

যদি মাসুক ভাই না থাকতেন তাহলে হয়তো সিলেটে ফুটবল বলে কিছু থাকতো না। এই একজন মানুষ আছেন বলেই সিলেটের ফুটবল এখনো জীবিত আছে! একজন মাসুক ভাই আর কতদিন একা লড়াই করবেন? আমার বেড়ে উঠার পিছনে যদি সিলেটের কারো অবদান থাকে সেটা কেবল মাসুক ভাইয়েরই। কিন্তুু সিলেট জেলা ফুটবল এসোসিয়েশন, সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থা থাকতে মাসুক ভাই আর কতদিন লড়াই করবেন?

কয়েক দিনে আগে এই এসএনপস্পির্টোসটোয়েন্টিফোর-এ জাতীয় কোচ জিলানী ভাইয়ের লেখা পড়ে ছিলাম। তার লিখনিতেই উঠে এসছিলো সিলেটের ফুটবলের করুণ অবস্থা। স্থানীয় ভাবে ফুটবলের তেমন আয়োজন না থাকায় সিলেটের মেধাবী ফুটবলাররা হারিয়ে যাচ্ছেন। সুযোগ-সুবিধা না থাকায় সিলেটের ফুটবলাররা ‘খ্যাফ’ খেলার জন্যই মনোযোগী হচ্ছেন।

জাতীয় ফুটবল দলে আমার অভিষেক হয় ২০১১ সালে। মায়ানমারের বিপক্ষে স্বপ্নের লাল-সবুজের জার্সি আমার গায়ে উঠে।  এটা আমার জীবনের একটি সেরা পাওনা। এর আগে জাতীয় অনুর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে কুয়েতের বিপক্ষে খেলি। জাতীয় দলে যাওয়ার আগে কেবল একবারই আমি সিলেটের ফুটবল লিগ খেলেছি। এই ভাবে চলতে থাকলে সিলেটের ফুটবলের অতীত ইতিহাস হারিয়ে যাবে, যে ইতিহাসের সাক্ষী আমাদের শ্রদ্ধাভাজন অনেক ফুটবলার আছেন। যাদের নাম আজও বাংলাদেশ ফুটবলরে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাদের কয়েক জনের নাম না বললইে নয়, রণজিত দাস, কাওসার হামিদ, মানু সিং, ভিজন চক্রবর্তী, হানিফ আলম চৌধুরী, ভানু দা, রেহান ভাই, রামা লুসাই, দন্দন লুসাই, ইকরাম রানা, জাহেদ আহমদ চৌধুরীর মত তারকারারা প্রতিনিধিত্ব করে গেছেন সিলেটের ফুটবলের।

লেখক: ফুটবলার, জাতীয় ফুটবল দল।

অনুলিখন/এসএনপস্পির্টোসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/তারকা-১/মু/০০