অস্ট্রেলিয়ায় সিলেটের চার ক্রিকেটার, ফিরছে সুদিন!

otete-lekokতানজীল শাহরিয়ার অলী, অতিথি লেখক:: সিলেটের ক্রিকেট অঙ্গনে কি আবারো অতীত গৌরব ফিরছে? এক সময় এই সিলেট শহরের কৃতি ক্রিকেটার এনামুল হক জুনিয়র, অলক কাপালি, রাজিন সালেহরা নিয়মিত খেলেছেন বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলে, বিভাগের অন্য জেলা হবিগঞ্জের নাজমুল হোসেনও জায়গা করে নিয়েছিলেন বাংলাদেশ দলে। তখন বাংলাদেশ দল যে ফরম্যাটেই ম্যাচ খেলতে নামুক না কেনো, দলে একাধিক সিলেটি ক্রিকেটার মাঠে থাকতেন।

টেস্ট ইতিহাসের প্রথম জয় এসেছিলো এনামুল হক জুনিয়রের জাদুকরি স্পিন বোলিং নৈপুণ্যে। এশিয়া কাপে টেস্ট খেলা দেশের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরি করার কৃতিত্ব অলক কাপালির। তাপস বৈশ্য, নাজমুল হোসেন বল হাতে পারফর্ম করেছেন। জাতীয় দলে দীর্ঘদিন খেলেছেন রাজিন সালেহ। সিলেটের এই কিংবদন্তি ক্রিকেটার অধিনায়কত্ব করেছেন টাইoli-biগারদের।

এতোদিন এসব সুখস্মৃতি রোমন্থন করেই সিলেটের ক্রিকেট অনুরাগীদের সময় কাটত। এবার সম্ভাবনা জেগেছে, সেই গৌরব ফিরে আসার। বাংলাদেশের হাই পারফরম্যান্স (এইচ পি) দলে সুযোগ পেয়েছেন চার জন সিলেটি ক্রিকেটার। সিলেটের ইমতিয়াজ হোসেন তান্না, এবং, আবু জায়েদ চৌধুরী রাহি, মৌলভিবাজারের আবুল হাসান রাজু, এবং, এবাদত হোসেন চৌধুরীরা সিরিজ খেলতে দলের সঙ্গে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছেন।

ঘরোয়া ক্রিকেটে দীর্ঘদিন থেকে খেলছেন ইমতিয়াজ হোসেন তান্না, সিলেট বিভাগীয় দলের এই নির্ভরযোগ্য ওপেনার হবে জাতীয় লিগে খেলছেন এক যুগেরও বেশি সময় ধরে। গত দুই আসরের ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের অন্যতম সেরা পারফর্মার ছিলেন তিনি। ব্যাট হাতে দারুণ সব ইনিংস খেলেছেন ডান হাতি স্টাইলিশ এই ব্যাটসম্যান। বয়স তিরিশের কোঠা পেরিয়ে গেলেও সামর্থ্য আর সম্ভাবনা দু’টোই বেশ ভালো আছে তাঁর। দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতটাও সহায়ক হবে যেকোনো পরিস্থিতিতে পারফর্ম করার জন্যে।

জাতীয় লিগ, বিসিএল এর দুর্দান্ত পারফর্মার আবু জায়েদ চৌধুরী রাহি। গত দুই বিপিএল আসরেও বোলিং দিয়ে বাজিমাত করে দিয়েছেন সিলেটের এই তরুণ পেসার। সুইং আর ধারাবাহিকভাবে ভালো জায়গায় বল করা রাহি’র এইচপি দলে সুযোগ পাওয়াটা প্রত্যাশিত ছিলো। হায়দ্রাবাদ টেস্ট খেলার আগে প্রস্তুতি ম্যাচের জন্যে বাংলাদেশ দলে ডাক পেয়েছিলেন তিনি। স্বপ্ন তাঁর এবার নিজের জায়গা অর্জন করে নেবার। বয়সভিত্তিক ক্রিকেট খেলে উঠে আসা এই তরুণ শুরু থেকেই ধারাবাহিক পারফর্ম করে আসছেন। এবারের এই সফর রাহি’র জন্যে খুব গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় দলের একাধিক পেসার ফর্ম হারানোয় তাঁর জন্যে সফরে পারফর্ম করে জায়গা করে নেয়ার সুবর্ণ সুযোগ।

কুলাউড়ার আবুল হাসান রাজু জাতীয় দলে খেলার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ক্রিকেটার। টেস্ট ক্রিকেটে দশ নাম্বারে নেমে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরির করার অনন্য রেকর্ডও আছে তাঁর। বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডে আর টি২০ ম্যাচেও খেলেছেন এই বোলিং অলরাউন্ডার। প্রতিশ্রুতিশীল এই ক্রিকেটার জাতীয় দলে সুযোগ পেলেও বল হাতে প্রত্যাশা মেটাতে পারেননি, ইনজুরির কারণে ছিটকে পড়েন ক্রিকেট থেকে। ইনজুরি থেকে ফিরে ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্ম করে আবারো জাতীয় দলে ঢোকার সম্ভাবনা তৈরি করেছেন, ডাক পেয়েছেন এইচ পি দলে। এবারের অস্ট্রেলিয়া সফরে পারফর্ম করলে দলে ফেরার জোর সম্ভাবনা আছে আবুল হাসান রাজু’র।

রবি পেসার হান্ট এর মাধ্যমে নজর কাড়েন এবাদত হোসেন চৌধুরী। দুর্দান্ত গতির এই বোলারকে নিয়ে আশাবাদি ক্রিকেট অনুরাগীরা। বাংলাদেশে গতিময় বোলারের সংখ্যা কম, এবাদত পেইসার হান্ট এর মাধ্যমে সুযোগ পেয়ে তাঁর গতি দিয়ে প্রশংসা আদায় করে নিয়েছেন। সিলেট বিভাগীয় দলের হয়ে জাতীয় লিগ, এবং বিসিএল ফ্রাঞ্চাইজির হয়ে পারফর্ম করেছেন। বিসিবি তাঁকে সফরকারী বিভিন্ন দলের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে খেলার সুযোগ করে দিয়েছিলো। বল হাতে সেখানে এবাদত বেশ নজর কেড়েছেন। এইচ পি দলের হয়ে এবারের এই সফরে তাঁর পারফরম্যান্স তাঁকেও জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন পূরণের পথ খুলে দিতে পারে।

এই চারজন সম্ভাবনাময় এবং প্রতিশ্রুতিশীল ক্রিকেটার সিলেটের আশার প্রদীপ। দীর্ঘ কাল ধরে জাতীয় দলে সিলেটের কোনো ক্রিকেটার জায়গা করে নিতে পারেননি বলে অনেক ক্রিকেট অনুরাগীর মনেই হতাশা বিরাজ করছে। এবারের এই এইচ পি দলে সুযোগ পাওয়া চার ক্রিকেটার পারফর্ম করে জাতীয় দলে জায়গা করে নেবেন, সেই প্রত্যাশা সকল সিলেটি ক্রিকেটপ্রেমির।

শুধু এই চারজনই নয়, সিলেট বিভাগীয় দলের তরুণ পারফর্মার নাসুম আহমেদ, রাহাতুল ফেরদৌস জাভেদও সর্বশেষ ইমার্জিং এশিয়া কাপে খেলেছেন। সিলেটবাসীর আশা তাঁরাও একদিন সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিজেদের জায়গা করে নেবেন। সিলেট তার পুরোনো দিনের গৌরব ফিরে পাবে। ওদের পারফরম্যান্স এবং জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হওয়ায় সিলেটের ক্রিকেট অনুরাগীদের মধ্যে সেই আশার সঞ্চার হয়েছে।

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/অ/০০