অস্ট্রেলিয়া চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি রেখে পালাচ্ছে না কেন?

তানজীল শাহরিয়ার অলী, অতিথি লেখক:: ইংল্যাণ্ডে জুনের ১ তারিখ থেকে শুরু হয়েছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। র‍্যাঙ্কিং এর সেরা আট দল নিয়ে চলছে এই ক্রিকেট আসর।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শুরুর আগে লন্ডনে নৃশংস বোমা হামলা করে সন্ত্রাসীরা। ম্যানচেস্টারের সেই সন্ত্রাসী হামলায় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে।oli-bi

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শুরু হবার পর কিছুদিন আগে আবারো সন্ত্রাসী হামলা ঘটে লন্ডন ব্রিজ এলাকায়। এই হামলায়ও ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে।

এরকম ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পরেও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অংশ নেয়া কোনো দলই নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে টু শব্দটিও করেনি। ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা আইসিসিও কোনো উদ্বেগ প্রকাশ করেনি।

সন্ত্রাসী হামলার পর বাংলাদেশ অজিদের সাথে ওভালে ম্যাচ খেলেছে। এই অজিরাই দুই বার বাংলাদেশ সফর বাতিল করেছে নিরাপত্তার অজুহাতে। বাংলাদেশের সাথে নির্ধারিত সিরিজ খেলেনি, পূর্ব নির্ধারিত সময় বদল করে নতুন সূচি নির্ধারণ করা হলেও পুরোনো অজুহাতে বাংলাদেশ সফর বাতিল করেছে। বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপেও দল পাঠায়নি।

সাউথ আফ্রিকা, ইংল্যাণ্ডও নিরাপত্তা নিয়ে অনেক খুতখুতে আচরণ দেখিয়েছে। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার আশ্বাস পাবার পরে ওরা বাংলাদেশ সফরে এসেছিলো।

বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ইংল্যাণ্ড, ফ্রান্স বা পাকিস্তানের মতো ভয়াবহ জঙ্গি বা সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেনি। ইন্ডিয়া বা শ্রীলঙ্কার মতো জাতিগত কোনো দাঙ্গা হাঙ্গামাও হচ্ছে না। কিছু চোরাগোপ্তা হামলা, জঙ্গি আস্তানা ঘেরাও করার পর গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে মারাত্মক জঙ্গি হামলা ছিলো গুলশান এর হলি আর্টিজানের ঘটনা। সেটাতেও সব মিলিয়ে ২০ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিলো।

অথচ, ম্যানচেস্টারের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাতেই অনেক মানুষ নিহত হয়েছেন। ঘটনার ভয়াবহতা বিবেচনায় এটি অত্যন্ত মারাত্মক এবং নিরাপত্তার জন্যে চরম হুমকিস্বরূপ। কিন্তু, এরপরেও আইসিসি বা অংশগ্রহনকারী দলগুলোর কেউই এসব নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি, নিরাপত্তার প্রশ্ন তোলেনি।

আইসিসি’র সর্বশেষ সভায় তিন মোড়লের পরিকল্পনা নস্যাত হয়ে গেলেও তাদের আচার আচরণে খুব একটা পরিবর্তন নেই। এমন আশঙ্কাজনক অবস্থাতেও তিন মোড়লের কেউই নিরাপত্তা নিয়ে কোনো কথা বলেনি। দলবল নিয়ে কেউ দেশে ফিরে যায়নি, বা, বাড়তি নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন জানায়নি আইসিসি বা ইসিবি’র কাছে।

ব্যাপারটা ডাবল স্ট্যান্ডার্ড বা দ্বিমুখি আচরণ হয়ে গেছে। বাংলাদেশ বলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কে অবজ্ঞা করে দল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানানোটা সহজতর। ইংল্যাণ্ড এর লন্ডন অঞ্চলে অল্প কয়েদিনের মধ্যে দুই বার সন্ত্রাসী হামলা সত্ত্বেও নিরাপত্তা নিয়ে কোনো উদ্বেগ বা আশঙ্কা আছে বলে মনে করছে না কেউই।

বিশেষ করে আমি অস্ট্রেলিয়ার কথাই বলবো। এই অস্ট্রেলিয়া বার বার বাংলাদেশে আসা থেকে বিরত থাকছে নিরাপত্তার অজুহাতে। এরা এখন রক্তাক্ত লন্ডনে কিভাবে খেলছে? এতদিনে তাদেরতো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি রেখে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার কথা!

নাকি বাংলাদেশ বলেই এমন অজুহাত দেখিয়ে তারা আমাদের ‘বঞ্চিত’ করে রাখতে চায়? সম্ভবত এটাই করতে চায় অস্ট্রেলিয়া। না হলে নিরাপদ বাংলাদেশকে কেন ‘অনিরাপদ’ বলবে? ‘নিরাপদ’ বাংলাদেশ তাদের কাছে ‘অনিরাপদ’ হলে এই রক্তাক্ত লন্ডন তাদের জন্য ‘নিরাপদ’ কেন? এই প্রশ্নের উত্তরটা জানতে চায় বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রেমীরা।

এই দ্বিমুখি আচরণ ক্রিকেটের জন্যে হুমকি। ক্রিকেটকে বিশ্বব্যাপি ছড়িয়ে দিতে হলে সবাইকে অবদান রাখতে হবে। কোনো গণ্ডির ভেতরে ক্রিকেটকে আবদ্ধ করে রাখলে তা ক্রিকেটের জন্যে অমঙ্গল ডেকে আনবে। সন্ত্রাসীর ভয়ে ক্রিকেটকে বোতলবন্দি করে রাখলে পরাজয় ক্রিকেটের।

আইসিসি ফিফা’র কাছ থেকে শিক্ষা নিতে পারে। যে সময়ে নিরাপত্তার ঠুনকো অজুহাতে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দল বাংলাদেশে আসেনি, সেই সময়েই তাদের ফুটবল দল বাংলাদেশে এসে খেলে গেছে। ফিফা’র কাছে নিরাপত্তার আশঙ্কা জানিয়ে ম্যাচ না খেলার আবদার ধোপে টেকেনি। সকারুদের খেলতে বাধ্য করেছে ফিফা।

আইসিসি কি পারবে এরকম শক্ত অবস্থানে যেতে? যদি যেতে না পারে তাতে ক্ষতি হবে ক্রিকেটের। জনপ্রিয়তার বিচারে এখনো ক্রীড়াবিশ্বে পিছিয়ে থাকা ক্রিকেট হয়ত আরো পেছনে পড়বে।

লেখক: ক্রীড়া লেখক।

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/অতি/০০