আগের রাতে মাশরাফী জাদু, পরের রাতে তামিম শো সাগরিকায় পূর্ণতা

নিজস্ব প্রতিবেদক:: এ যেনো আগে লেখা গল্প। তবে মাঠের বাইশ গজে কখনো আগের লেখা গল্প মেলে না। নতুন নতুন গল্প লেখা হয়, রচিত হয় নতুন চিত্রের। মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে পরপর দুই ম্যাচে পঞ্চাশউর্ধ্ব ইনিংস, একটিও রূপ দিতে পারেননি শতকের ইনিংসে।

ঢাকায় বিপিএলের প্রথম পর্বে তাই সেঞ্চুরির অপূর্ণতা নিয়েই ঘরে ফিরে ছিলেন তামিম ইকবাল। সেই ঘরের মাঠেই অপূর্ণতাকে পূর্ণতা দিলেন। সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে দিলেন। আরো একবার হুঙ্কার দিয়ে জানিয়ে দিলেন তামিম ইকবাল শেষ হয়ে যায়নি। টি-২০ ফরম্যাটেও তামিম যে এখনো দেশসেরা ওপেনার।

আগের রাতে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা বললেন, তামিম তুই কালকে সেঞ্চুরি কর, ম্যাচ আমরা জিতবো। পরের রাতেই তামিম তা করলেন। তামিমের জ্বলে উঠার দিনে জ্বলে-পুরে ছারখার হলো সিলেট। কুয়াশাচন্ন সাগরিরকার শান্ত বাইশ গজে মাশরাফী জাদুতে যেনো ব্যাটের আগুতে তামিম শো। আগের দেখায় ঢাকাকে হারানো সিলেটকে এবার উড়িয়ে দিলেন তামিম ইকবাল। সাগরিকার বাইশ গজ থেকে মোসাদ্দেকের দলকে ব্যাটে উড়িয়ে যেনো ফেললেন পাশের সাগরে।

৬৪ বলে ১১১ রানের নান্দনিক এক ইনিংসের আগের দিন ড্যাশিং ওপেনার জানিয়ে দিয়েছেন জাতীয় দলের হয়ে তিনি আর টি-২০ খেলতে চান না। অন্তত আগামি ছয় মাস নয়। এরপরও ফিরতে চান না। তার চাওয়া এই সময়টা অন্য ওপেনাররা নিজেদের জায়গা দখল করে নেবেন। এমন ঘোষণার পরের দিনই তামিম এই টি-২০ ফরম্যাটেই হয়ে উঠলেন ভয়ঙ্কর। মনের গহীতে থাকা সব রাগ-ক্ষোভ যেনো উপরে ফেললেন সিলেটের বোলারদের কুপোকাত করে।

টি-২০ ক্রিকেটে তামিম চলেন না, ডট খেলেন বেশি, কতশত আলোচনা-সমালোচনা তাঁকে নিয়ে। সেই তিনি তাই গত প্রায় বছর খানেক থেকে নেই জাতীয় দলের টি-২০ ফরম্যাটে। আর তার সাময়িক বিরতিতে এই ফরম্যাটে জাতীয় দল কতটা ভুগেছে, সেটা নিশ্চয় আবার স্মরণ করিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

বিপিএল দিয়ে অনেক দিন পর টি-২০ ফরম্যাটে মাঠে নামা তামিম শুরু থেকেই আছেন ছন্দে। প্রথম দুই ম্যাচে দু’টি অর্ধশতক করেও দলকে জেতাতে পারেননি। এবার সেঞ্চুরি করে দলকে ৯ উইকেটের বড় জয় উপহার দিলেন তিনি। বিপিএল শুরুর দিন ২১ জানুয়ারি মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে খুলনা টাইগার্সের হয়ে মিনিস্টার ঢাকার এই ওপেনার করে ছিলেন ৫০ রান। পরের দিন ২২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে ৫২ রান। পরের দুই ম্যাচে ব্যাট হাতে সফল হতে পারেননি। তৃতীয় ম্যাচেই শতক। বিপিএলে এখন পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচ খেলা তামিমের দু’টি অর্ধশতক আর একটি শতক।

ছয় মাস বা নিজের মতে একেবারেই অবসরে চলে যেতে যাওয়া তামিমকে বিসিবি নিশ্চয়ই ফেরাতে চাইবে টি-২০ ফরম্যাটে। তবে এই ছয় মাস তামিম বিহীন টি-২০ দল কতটা ভুগবে? নাকি তরুণরা নিজেদের প্রমাণ করে দেবেন? নাকি ব্যাটে-বলে জানিয়ে দেবেন তামিম ভাই আপনি চাইলে টি-২০ থেকে অবসরেও যেতে পারেন? তবে আপাতত দেশের টি-২০ ওপেনারদের কঙ্কাল দশা বলছে তারা হয়তো সেটি পারবেন না। তামিম ফিরবেন তামিমের মতো করেই।

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/০০