আত্মহননে আশাভঙ্গ সিলেট ইউনাইটেডের

রিফাত বিন জামাল:: শিরোপা প্রত্যাশী দল ছিলো। পুরো টুর্ণামেন্ট জুড়ে খেলেছেও দুর্দান্ত। বিসিবির মৌলভীবাজার জেলা কোচ রাসেল আহমদের শিষ্যরা শিরোপার মঞ্চে যাওয়ার পথেই ছিলেন। কিন্তুু সেমিফাইনালের মতো ‘মহাগুরুত্বপূর্ণ’ ম্যাচে ক্যাচ মিস করে ফাইনাল মিস করেছেন তারা। অথচ ক্যাচ মিস তো মিচ মিস- এ নীতিবাক্যের যথার্থতা এর আগে হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে তাদের প্রতিপক্ষ। অথচ বিশেষ করে তাদের অধিনায়ক জাকির হাসান। এদিন ক্যাচ মিসের মাশুল উল্টো গুনতে হয়েছে সিলেট ইউনাইটেডকে। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ওপেনার সায়েম আলম রিজভী জীবন পেয়েছেন দুবার। সেই সায়েম পরে ৭৭ করে থেমেছেন, সিলেট ইউনাইটেড থেমেছে ৮৯ রানে।

একবার লং অফে রিহাদ খানের হাতে সহজ ক্যাচ মিসের পর আবার রিজভীর ক্যাচ উঠেছে মিড অফে। তখন রিহাদ খানের মনে হয়তো দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়ে সবাইকে আগের ভুল ভুলিয়ে দেওয়ার বাসনা। তাই আকাশে উড়তে থাকা বল লুফে নেওয়ার জন্য তিনি লং অফ থেকে প্রায় সার্কেলের ভিতর, মিড অফে চলে আসেন। সেখানেও ভাগ্যের সঙ্গে সঙ্গে হাত তারঁ সহায় হয়নি, আবারও রিহাদের হাত থেকে ফসকে যায় রিজভীর ক্যাচ। এরপরে রিজভীর প্রতি রানেই হয়তো আফসোসের আগুনে জ্বলে পুড়ে মরেছেন রিহাদ খান। কিংবা তা ভুলে গিয়ে ব্যাট দিয়ে ভুলিয়ে দিতে চেয়েছেন ফিল্ডিংয়ে ঘটে যাওয়া সবকিছু।

আরাফাত সানি জুনিয়র রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে ক্রিজ ছাড়ার পরপরই আজির উদ্দিনের ফেরার পরে ক্রিজে এসে প্রথম বলে সুইপে বোল্ড হয়ে সুযোগের স্বদ্যব্যবহার করতে যদিও ব্যর্থ হন রিহাদ। ওপেনে নামা শানাজের দুই সঙ্গী রান আউট হয়ে ফিরেছেন, শানাজও সপ্তম ওভারে দলের রান যখন মাত্র ১৭ তখন ফিরে গেছেন রান আউট হয়ে। তারঁ আগে সানজামুলের বলে রিহাদের বোল্ড হওয়ার পরে বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন আরিফুল হকও। শেষে আঙ্গুলে ব্যাথা পেয়ে মাঠ ছাড়া আরাফাত সানি জুনিয়র মাঠে নেমে ৩৩ বলে ৪৮ করে দলের হারের ব্যবধানই শুধু বাড়তে দেননি। প্রথম ছয় ব্যাটসম্যানের তিন জনের আত্মহননে ম্যাচ থেকে এর আগেই বলতে গেলে ছিটকে গিয়েছিল সিলেট ইউনাইটেড।

অথচ কি দারুণভাবেই না শুরু করেছিল সিলেট ইউনাইটেড। প্রথম ১০ ওভারে ১ উইকেট তুলে নিতে পারলেও অপরদিকে রানও বাড়তে দেননি ইউনাইটেডের বোলাররা। অফ স্পিনার মুজাক্কির জাকির ৪ ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়েছেন। এরপর সময় যত গড়িয়েছে ততই মনে হয়েছে- ইউনাইটেডের ইউনিটি হারিয়ে তারাঁ যেন দেখাচ্ছে কিভাবে হারতে হয়! ইনিংসের প্রথমার্ধে ৫৬ আনার পরের অর্ধে ১০১ রান এনেছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন ওয়ারিয়র্স।

টেস্ট দলের নিয়মিত পেসার আবু জায়েদ রাহীর ও সায়েম আলম রিজভী দুজনের ফার্স্ট ক্লাস অভিষেক একইসাথে। দুজনে দুজনাকে চেনেন ভালো করেই, তবে আজ সে চেনাটা উপকারে এলো রিজভীরই৷ রাহী ৪ ওভারে ৪৬ রান দিয়ে থেকেছেন উইকেটশুন্য৷ রিজভীর সাথে শেষের ঝড়ে অবশ্য শামিল হয়েছিলেন শাহনুর ও ফরহাদ রেজাও৷ শাহনুর ২৫ বলে ৩০ আর জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার ফরহাদ রেজা ৯ বল খেলেই করেছেন ১৭ রান।

এরপর ১৫৮ রানের লক্ষ্য তাড়ার চাপে ঝুকি নিয়ে শট খেলতে গিয়ে ১৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে সিলেট ইউনাইটেড। প্রথম সাত ব্যাটসম্যানের একজন বাদে কেউই ৫ রানের বেশি করতে পারেননি। শানাজ-আজির-জাভেদের আত্মহননে ফাইনালের আশাভঙ্গের শুরু, সানজামুল-জয়নুলের দারুণ বোলিংয়ে ১৭.১ ওভারে অলআউট হয়ে ইউনাইটেডকে সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয় ৬৮ রানে হেরে৷ ৪ ওভারে মাত্র ৫ রান দিয়ে ২ উইকেট নিলেও ম্যাচ সেরার পুরস্কার উঠে তারই দলের সতীর্থ সায়েম আলম রিজভীর হাতে।

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/০০