আব্দুল সামাদঃ কাশ্মীরের গলি থেকে ভয়ডরহীন এক ব্যাটসম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জম্মু-কাশ্মীরের মাওলানা আজাদ স্টেডিয়াম, বাবার হাত ধরে এক ছোট্ট বালক আসল ক্রিকেট শিখতে। যেখানে সান্নিধ্য পেলো কোচ রণধীর সিংহ মানসের। এই ক্রিকেট গুরু এরপর সেই ছোট্ট বালককে গড়ে তোলার দায়িত্ব নেন। এরপর একাডেমি, জেলা দল, রাজ্য দল মাতিয়ে ক্রিকেট বিশ্বের সেরা ফ্র্যাঞ্জাইজি লিগে পদচিহ্ন রেখেছে সেদিনের সেই বালক। নাম তার আব্দুল সামাদ। সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের হয়ে আইপিএল খেলছেন দু’মৌসুম হতে চলল। সামাদের বাবা মোহম্মদ ফারুক ছিলেন ভলিবল খেলোয়াড়। ভারত-পাকিস্তান সীমান্তঘেঁষা জম্মু-কাশ্মীরের মোহাম্মদ ফারুক খেলেছেন স্থানীয় ক্লাব ক্রিকেটেও। পরবর্তীতে তিনি শারীরিক শিক্ষার প্রশিক্ষক হিসেবেও কাজ করেন। পরিবারেই খেলাধূলার প্রচলন ছিল সামাদের। রক্তে খেলাধূলা মিশে থাকা এই কাশ্মীরি ছেলের ক্রিকেটের বড় মঞ্চগুলো আসীন হওয়ার গল্প বেশ রোমাঞ্চকর। মূলত প্রতিভার জোরেই এসেছেন রঞ্জি মাতিয়ে আইপিএলের মত বড় মঞ্চে।

সামাদকে খুঁজে পেয়েছিলেন ভারতের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার ইরফান পাঠান। জম্মু-কাশ্মীর দলের মেন্টর থাকার সময় তিনি বেশ কিছু নতুন ক্রিকেটার খুঁজে আনেন। যাঁদের মধ্যে অন্যতম সামাদ। যা ছিল জেলা পর্যায়ে। এরপর আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের মেন্টর ভিভিএস লক্ষ্মণকে সামাদের খোঁজ দেন তার ছেলেবেলার সতীর্থ মিলাপ মেওয়াদা। যিনি জম্মু-কাশ্মীরের কোচের ভূমিকা পালন করেছেন। ২০১৯’র  ডিসেম্বরে ট্রায়ালে ডাকার জন্য লক্ষ্মণ ভালো কোনো তরুণ ক্রিকেটারের খোঁজ করেন মেওয়াদার কাছে। সামাদকে তিনিই পাঠান হায়দরাবাদের ট্রায়ালে। এরপরের গল্প সবারই জানা!

আইপিএল আসার আগে রঞ্জি ট্রফিতে প্রতিভার ঝলক দেখান সামাদ। সবশেষ আসরে আসামের বিপক্ষে জম্মু-কাশ্মীরের ১৮ বছরের এই তরুণ সেঞ্চুরি করেন। মাত্র ৭২ বলে ১০৩ রান করেন তিনি। যেখানে ছিল মোট ২১ টি চার এবং ১ ছক্কা। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১০টি ম্যাচ খেলে ৫৯২ রান করেছেন সামাদ। জম্মু ও কাশ্মীরের হয়ে দুটি শতরানও রয়েছে তাঁর। সর্বোচ্চ স্কোর ১২৮। তবে মূল চমক ছিল অন্য জায়গায়। বড় দৈর্ঘ্যের ম্যাচেও স্ট্রাইক রেট ছিল প্রায় ১১৩! তার ব্যাট থেকে ছক্কা আসে ৩৬টি, অনায়াসেই যা ছিল আসরের সর্বোচ্চ।

বিজয় হাজারে ট্রফি, সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফিতে দারুণ কয়েকটি ক্যামিও খেলে নজর কাড়েন সামাদ। ছক্কার সামর্থ্যের কথা জেনেই আইপিএলের নিলামে তাকে দলে নেয় সানরাইজার্স। ২০২০ আইপিএল নিলাম থেকে ২০ লক্ষ টাকায় তাঁকে আইপিএলে কিনে নেয় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। ডান হাতি সামাদ অনেকটা ইউসুফ পাঠানের মতো। বড় বড় শট খেলতে পারেন তিনি বড় ক্রিকেট শুরুর আগে থেকেই!

সামাদ এখন পর্যন্ত খুব চোখধাঁধানো কিছু করতে পারেননি আইপিএলে। তবে কেন তাকে নিয়ে এত আলোচনা, সেটি ঠিকই দেখাতে পেরেছেন ছোট্ট কয়েকটি ইনিংস ও দারুণ কিছু শটে। ভয়ডরহীন ব্যাটিংয়ের কারণেও প্রশংসা কুড়িয়েছেন সাবেকদের। ২০২১ আইপিএলে নিজেদের প্রথম ম্যাচে কলকাতার বিপক্ষে হেরেছিল হায়দ্রাবাদ। সেই ম্যাচে ৮ বলে ১৯ রানের ছোট্ট ইনিংস খেললেন সামাদ। তাঁকে সাত নম্বরে নামিয়েছিল হায়দরাবাদ। তিনি যখন ব্যাটিংয়ে নামেন তখন হায়দরাবাদের ১১ বলে ৩৭ রান দরকার ছিল। কলকাতার ১৫ কোটির পেসার প্যাট কামিন্সকে এক ওভারে দুটি ছক্কা হাঁকান ১৯ বছরের সামাদ। যা নিয়ে ক্রিকেট মহলে আলোচনা তুঙ্গে।

এর আগে সামাদ ছক্কা হাঁকিয়েছেন জাসপ্রিত বুমরাহ, কাসিগো রাবাদা, আরনিখ নর্জের মতো পেসারদের। যেখানে কামিন্সের ৮ বল মোকাবেলায় তিনটি ছক্কা হাঁকিয়েছেন সামাদ। বুমরাহর ৬ বল খেলে দুটি ছক্কা। রাবদার বিরুদ্ধে একটি বল খেলেই ছয় মেরেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার আরেক পেসার নর্জের ৮ বল খেলে একটি ছক্কা হাঁকিয়েছেন তিনি।

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/১১০