আরেকটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যু পাচ্ছে সিলেট

    নিজস্ব প্রতিবেদক:: সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনেকটা সাপোর্ট দেওয়ার জন্যই তৈরি হচ্ছিলো আউটার স্টেডিয়ামে। ঘরোয়া লিগ (বিপিএল, এনসিএল, বিসিএল) বা আন্তর্জাতিক সিরিজ চলাকালে দলগুলোর জন্য একাধিক অনুশীলন ভেন্যুর প্রয়োজন পড়ে। সিলেটের স্থানীয় ক্রিকেটেও আছে মাঠ সঙ্কট। সিলেট আউটার স্টেডিয়াম তৈরি করা হচ্ছিলো এসব সঙ্কট কাটাতেই।

    সুযোগ-সুবিধায় এগিয়ে থাকায় সেই আউটার স্টেডিয়াম রূপ পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়ামে। বিসিবি এখানেই থেমে থাকতে চাইছে না। আউটারের আদলে তৈরি হওয়া পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়ামটিকে আন্তর্জাতিক ভেন্যুর স্বীকৃতির জন্য আবেদন করছে। আন্তর্জাতিক মানের সকল সুযোগ-সুবিধা থাকায় আউটার স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক ভেন্যুর স্বীকৃতি দিতে বোর্ড আইসিসির কাছে আবেদন করছে। সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিসিবি পরিচালক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল।

    বিসিবি পরিচালক ও মহিলা বিভাগের চেয়ারম্যান শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল নব নির্মিত আউটার স্টেডিয়ামকে আউটার বলছেন না। জানিয়েছেন, এটিকে আউটার বলা যাবে না। সেটি পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়াম। আউটারের বদলে নামকরণ করা হয়েছে ‘সিলেট গ্রাউন্ড-২’। একই সঙ্গে বিসিবি সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নামও পরিবর্তন করতে যাচ্ছে। অনুমোদন পেলে নতুন নাম হবে ‘সিলেট ক্রিকেট স্টেডিয়াম।’

    আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের দক্ষিণ পার্শ্বে নব নির্মিত নয়নাভিরাম স্টেডিয়ামটি এখনো খাতা-কলমে আউটার স্টেডিয়াম থাকলেও আদতে তা পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়াম। প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ হবে, দেশি-বিদেশী দলগুলো অনুশীলন করবে। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট ম্যাচ হওয়া মানে ভালো মানের একটা স্টেডিয়াম। সুযোগ-সুবিধায় যেনো তার চেয়েও এগিয়ে সিলেটের এই নতুন স্টেডিয়াম। জেলা স্টেডিয়াম বা অন্য অনেক স্টেডিয়ামের চেয়ে সুযোগ সুবিধায় এগিয়ে থাকবে সিলেট আউটার স্টেডিয়াম। এই মাঠটি সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক আদলে তৈরি। মাঠের পুরোটাই জুড়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাও বিশ্বমানের। ৮টি উন্নত মানের স্পোটিং উইকেট নিয়ে সিলেটের ক্রিকেটাঙ্গনের জন্য সু-খবর বয়ে আনছে স্টেডিয়ামটি।

    নতুন আন্তর্জাতিক ভেন্যুর স্বীকৃতির অপেক্ষায় থাকা এই স্টেডিয়ামে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের গ্রীণ গ্যালারির হাহাকার পুষিয়ে দেবে। দুই পাশেই সবুজের সমারোহ। মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে টিলা। টিলার উপরে সবুজ ঘেরা ঘাস, তার উপর থাকছে সারি সারি গাছের বাগান। ফলজ, ঔষধী সহ নানা ফুল গাছে ভরপুর থাকবে স্টেডিয়ামের চারপাশ। দর্শকদের জন্য গ্যালারি বা চেয়ার থাকবে না, তবে চাইলেই সবুজ ঘাসের ওপর গা এলিয়ে আরাম-আয়েসে ম্যাচ দেখতে পারবেন তারা।

    একটি, দু’টি নয়, চার চারটি উন্নত মানের ড্রেসিং রুমে থাকছে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা। ড্রেসিং রুমেই থাকছে আইস বাথসহ আন্তর্জাতিক মানের সকল সুবিধা। সাংবাদিকদের বসার জন্যও থাকছে পৃথক ব্যবস্থা।। আম্পায়ার, ম্যাচ রেফারিসহ অফিসিয়ালদের জন্যও থাকছে পৃথক পৃথক রুম। চারটি ড্রেসিং রুম থাকায় এক সঙ্গে চারটি দল অবস্থান করতে পারবে মাঠে। স্টেডিয়ামটির পাশেই থাকছে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধার একাডেমিক ভবন।

    ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের দক্ষিণ পার্শ্বে ৮.৭৩ একর জায়গা জুড়ে ২৪ কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে আউটার স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিছুটা বিলম্বে গত বছরের মার্চে এনএসসির ঠিকাদাররা কাজ শুরু করেন। শুরুতে ২৪ কোটি টাকা ব্যায় ধরা হলেও পরবর্তীতে এই ব্যয় বেড়ে ২৮ কোটি টাকায় গিয়ে টেকেছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)’র ৩ জন ঠিকাদার কাজ করছেন। এই বছরের মধ্যেই কাজ শেষ হওয়ার কথা। সিলেটের ক্রীড়া কর্মকর্তারাও বলছেন, আগামী মাস তিনেকের মধ্যেই কাজ শেষ হয়ে যাবে নতুন এই স্টেডিয়ামটির। টিলাসমৃদ্ধ গ্যালারিতে ইতিমধ্যে ঘাসের চারা রোপণ করা হয়েছে। ঘাসও গজিয়ে উঠেছে। গাছ-গাছালিও লাগানো হচ্ছে। ড্রেসিং রুম, আম্পায়ারদের রুমসহ অফিসিয়ালদের জন্য নির্ধারিত ভবনের কাজও শেষ। আউট ফিল্ডের কাজও প্রায় শেষের কাছাকাছি।

    বোর্ড পরিচালক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আউটার স্টেডিয়ামের কাজ শেষ করে এনেছি। তবে এটিকে আর আউটার স্টেডিয়াম বলা হবে না। এরই মধ্যে আমরা এটি সিলেট গ্রাউন্ড-২ নামকরণ করেছি। আর এটি যেন আন্তর্জাতিক করা হয় সেটির জন্য আইসিসির কাছে অনুমোদন চাওয়ার প্রক্রিয়াগুলোও শুরু করেছি।’

    এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/ডেস্ক/০০