‘এই অপমান না করলেও পারতেন’

তানজীল শাহরিয়ার: কিছুদিন আগে দেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ১ম শ্রেণির ক্রিকেটে ৫০০ উইকেট শিকারের মাইলফলক অতিক্রotete-lekokম করেছেন আব্দুর রাজ্জাক রাজ। জাতীয় দলের সতীর্থরা তাঁকে এই অনন্য অর্জনের জন্যে সম্মাননা প্রদান করেছিলেন। জাতীয় দল থেকে ছিটকে পড়া আব্দুর রাজ্জাকের জন্যে সেই সম্মাননা ছিলো অনির্বচনীয় আনন্দের। তবে সেই আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই চমকদার আরেকটি খবর আসলো- টেস্ট সিরিজের স্কোয়াডে ডাক পেয়েছেন আব্দুর রাজ্জাক।

তাঁকে টেস্ট দলে ডাকায় ক্রিকেট অনুরাগীরা খুব আনন্দিত হয়েছিলেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফর্ম করা রাজ কে আবারো জাতীয় দলে ডাকায় নির্বাচকদের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন অনেকেই। কেউ কেউ রাজ টেস্ট ক্রিকেটে একদিনের oli-biক্রিকেটের মতো উজ্জ্বল নন, এই কথা বললেও, সাকিববিহীন বোলিং আক্রমণে তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। ৩৬ বছর বয়সের একজন ক্রিকেটার কে ডেকে বিসিবিও সিনিয়র ক্রিকেটারদের যেনো একটা বার্তা দিয়ে রেখেছিলো- জাতীয় দলের দুয়ার পারফর্মারদের জন্যে খোলা।

হাথুরুসিংহে থাকতে দল নির্বাচন নিয়ে বিতর্কের অন্ত ছিলো না। পারফর্ম না করেও জাতীয় দলে দীর্ঘদিন খেলেছেন অনেকে। সেসব নিয়েও ক্রিকেট ভক্তদের মনে ছিলো তীব্র অসন্তোষ। আব্দুর রাজ্জাককে ফের দলে ডাকায় সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমি সহ ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফর্মারদের মনেও আশার সঞ্চার হয়েছিলো।

রাজকে ডাকার পরে আলোচনা শুরু হয় সাকিব বিহীন স্পিন বোলিং আক্রমণে তিনি থাকবেন তো। ক্যরিয়ারের এই গোধূলি লগনে এসে টাইগারদের হয়ে আবারো মাঠে নামার সুযোগ পাবেন তো?

সেই আলোচনা থেকে শুরু হয়ে যায় চাপা গুঞ্জন- আব্দুর রাজ্জাক সুযোগ পাচ্ছেন না মাঠে নামার। অনেকেই মত প্রকাশ করেন তাঁকে দলে ডেকে মাঠে না নামানোর সিদ্ধান্তটা বেশ দৃষ্টিকটু হয়ে উঠবে। একজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে বিব্রত করবে।

কিন্তু, সকল আশার গোড়ায় পানি ঢেলে গুঞ্জনটা সত্যি হয়ে গেলো। চট্টগ্রাম টেস্টের প্লেইং ইলেভেনে জায়গা পাননি আব্দুর রাজ্জাক রাজ! শুধু তাই নয়, এই টেস্টেই অভিষেক হলো বাঁ-হাতি স্পিনার সানজামুল ইসলামের। অভিজ্ঞ রাজকে বাদ দিয়ে সানজামুলকে বেছে নেয়া হলো। শুধু তাই নয়, সানজামুল কে টেস্ট ক্যাপ পরিয়ে দিলেন আব্দুর রাজ্জাক! এ যেনো একজনের শেষ থেকে আরেকজনে শুরুর এক প্রতীকী দৃশ্যের অদ্ভুত মঞ্চায়ন।

এতদিন পরে দলে ফেরা আব্দুর রাজ্জাক ক্রিকেটের প্রতি নিবেদিত বলেই সেদিন মুখে হাসি ধরে রেখে টেস্ট ক্যাপ পরিয়ে দিয়েছিলেন। অথচ, নিজে বাদ পড়ার বেদনায় হৃদয়ে রক্তক্ষরণের স্রোত যে বয়ে চলেছে, সেটা কারো না বোঝার কথা নয়। তাঁকে যদি খেলানোর পরিকল্পনা না থেকে থাকে, তবে দলের সাথে রেখে বেঞ্চে বসিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেয়া কেনো?

এরপরে অন্য একজনের টেস্ট ক্যাপ তাকেই পরিয়ে দিতে হলো। এটা যেনো কাটা ঘায়ে নুনের ছিটার মতোই হয়ে গেলো দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই স্পিনারের জন্যে। সানজামুল হয়ত এতে আনন্দিত হয়েছেন, সিনিয়র ক্রিকেটারের কাছ থেকে টেস্ট ক্যাপ পেয়ে। কিন্তু, আব্দুর রাজ্জাক এর মানসিক অবস্থাটা বিবেচনা করার তাড়না বোধ করেননি কেউই।

সাবেক কোচের খামখেয়ালি আচরণ বাংলাদেশের ক্রিকেটে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে অনেক ক্ষেত্রেই। আব্দুর রাজ্জাককে জাতীয় দলে ডেকে সেসব ক্ষতে প্রলেপ দেবার প্রচেষ্টা করায় নির্বাচকদের প্রতি ক্রিকেট অনুরাগীদের সন্তুষ্টি প্রকাশিত হয়েছিলো বিভিন্নভাবে। তবে, রাজকে মাঠে না নামিয়ে অতিরিক্ত খেলোয়াড় কোটায় রাখায় অনেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করছেন এখন। নির্বাচকরা কি সিদ্ধান্তটি নিয়ে আরো ভাবনা চিন্তা করতে পারতেন না?

(এসএনপিস্পোর্টস২৪ডটকম সব সময়ই লেখকের প্রতি আন্তরিক ও শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখাটি লেখকের একান্তই নিজস্ব। লেখকের মতামতের সঙ্গে আমাদের সম্পাদকীয় নীতির মিল নাও থাকতে পারে।)

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/অলে/০০