এক কিংবদন্তি, যিনি আমৃত্যু থেকেছেন ফুটবলের সঙ্গে

মোহামেডানের জার্সিতে বাদল রায় (মাঝখানে)। ছবি- সংগৃহিত।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাদল রায়, বাংলাদেশের ফুটবলের এক কিংবদন্তি। সত্তোরের দশকে ঐতিহ্যে মোড়ানো মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের জার্সিতে মাঠে নামা এই ফুটবলার পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের কিংবদন্তি ফুটবলারের তালিকায় নাম লেখান। জাতীয় পর্যায়ে খেলার আগে বাদল নজরে আসেন সেইসময়কার মোহামেডানের প্রণব কুমার দে’র। কুমিল্লার এই কৃতি ফুটবলার নিজ জেলায় ক্লাবের কয়েক ফুটবলার নিয়ে প্রীতি ম্যাচ খেলতে গিয়েছিলেন। সেই ম্যাচে প্রণবদের প্রতিপক্ষ দলের ফুটবলার ছিলেন বাদল। ম্যাচে দারুণ খেলা বাদল রায়কে মনে ধরে গেলো মোহামেডানের হয়ে মাঝমাঠ কাঁপানো প্রণবের। লিকলিকে দেহের এই স্ট্রাইকারকে মনে ধরায় আকাশি-সাদা শিবিরে নিয়ে আসা হয়।

ঢাকার ফুটবলে হাতেখড়ির আগে বাদল অবশ্য খেলেছেন কুমিল্লা-চট্টগ্রামের ক্লাবে। চট্টগ্রাম কাস্টমস, কুমিল্লার সুতাকলের জার্সি গায়ে চাপানো এই ফরোয়ার্ড পরবর্তী সময়ে জাতীয় দলে খেলেছিলেন পাঁচ বছর। ১৯৮১ সালে অভিষেকের পর খেলেন ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ম্যাচে জয়সূচক গোলটি আসে তার পা থেকেই। ১৯৮২ সালের এশিয়াডে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন বাদল রায়।

জাতীয় দলে খেলার পাশাপাশি একই সময়ে (১৯৮১ ও ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত) বাদল অধিনায়কত্ব করেছেন মোহামেডানে। অধিনায়ক হিসেবে জিতেছেন লিগ। আর খেলোয়াড় হিসেবে ছুঁয়েছেন ছয়টি লিগ শিরোপা। মোহামেডানে ১২ বছরের ক্যারিয়ারে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনীর বিপক্ষে পাঁচটি ভিন্ন ম্যাচে পাঁচটি গোল করেছেন।

১৯৭৭ সালে মোহামেডানে শুরু বাদলের, ১৯৮৯ মোহামেডানেই শেষ। ফুটবল খেলাকে বিদায় বলার পরও ফুটবলের সাথেই ছিলেন। মোহামেডানের ম্যানেজার থেকে শুরু করে এই ক্লাবটির বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া লম্বা সময় ধরে ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহসভাপতি। সবশেষ বাফুফে নির্বাচনে অসুস্থ থাকা অবস্থায়ও প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছিলেন তিনি।

২২ নভেম্বর ২০২০, জীবনের হাঁটে বেচাকেনা চুকিয়ে বাদল পাড়ি জমালেন না ফেরার দেশে। ক্যান্সারের কাছে হার মেনে চিরতরে চলে গেলেন দেশের ফুটবলের উজ্জ্বল এই নক্ষত্র। যে মোহামেডান ক্লাব এবং সবুজ ঘাসে ফুটবলের জাদুকরী ছন্দ দেখিয়েছেন সেই মোহামেডান আর বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বাদল রায় শেষবারের মতো আসলেন সোমবার। দুপুর ১২টায় শেষ বারের মতো চিরচেনা বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হয় তার মরদেহ। এর আগে বেলা ১১টায় নিয়ে যাওয়া হয় মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব প্রাঙ্গণে। বিকেলে রাজধানীর সবুজবাগ কালী মন্দিরে তার শেষকৃত্য হবে।

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/১১০