এক যুগের অপেক্ষা, শেরে বাংলার ‘শের’

তানজীল শাহরিয়াল:: ২০০৭ সাল থেকে একাই ছিলেন রাকিবুল হাসান, এবার পেলেন সঙ্গী, দেশের ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরিয়ান ছিলেন রাকিবুল হাসান। ২০০৭ সালে মার্চে ফতুল্লায় বরিশাল বিভাগের হয়ে সিলেট বিভাগের বিপক্ষে দেশের প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরি হাঁকান ডানহাতি রাকিবুল হাসান। তার ১৩ বছর পর তামিম ইকবাল করলেন দ্বিতীয় ট্রিপল সেঞ্চুরি। দ্বিতীয় ত্রিশতক হলেও রান সংখ্যায় তিনিই এখন ১ম শ্রেণীর ক্রিকেটে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের মালিক। শেরে বাংলায় যেন ‘শের’ হয়েই আবির্ভূত হলেন বাঁহাতি তামিম। তিনশো করতে বল খরচ করেছেন ৪০৭টি, সময় লেগেছে ৫৬০ মিনিট। রাকিবুল ৬০০ বল আর ৬৪০ মিনিটে ছুঁয়েছিলেন তিনশো রান। বল আর সময়ের হিসাবেও তামিম এখন দেশের সেরা ট্রিপল সেঞ্চুরিয়ান।

পূর্বাঞ্চলের অধিনায়ক মুমিনুল হক ইনিংস ঘোষণা করে দেয়ায় তামিম কে থামতে হয়েছে ৩৩৪ রানে। ৪২টি চার, ৩টি ছয় দিয়ে সাজানো এই মহাকাব্যিক ইনিংস। স্ট্রাইক রেট ৭৮.৪০। দেশের মাটিতে এটাই ১ম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রানের ব্যক্তিগত ইনিংস, তামিম ৩৩৪ করে ২য় স্থানে ঠেলে দিয়েছেন ৩১৯ রান করা সাঙ্গাকারা কে।

২৯০ রান থেকে খুব দ্রুতই ৩০০ রান করেছেন তামিম, শুভাগত আর মুস্তাফিজুর কে বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন, এরপর অন সাইডে ঠেলে দিয়ে এক রান নিয়ে পূর্ণ করেছেন ট্রিপল সেঞ্চুরি। তামিম যখন ৩০০ রান পূর্ণ করছেন, তা কাছ থেকেই দেখেছেন রাকিবুল হাসান। তিনি যে মাঠেই ছিলেন প্রতিপক্ষ হয়ে। ২২২ রান নিয়ে দিন শুরু করেছিলেন তামিম, মধ্যাহ্নভজের বিরতিতে যাবার সময় তাঁর স্কোর ছিলো ২৭৯, এই রেকর্ড সৃষ্টি করা ইনিংস খেলার পথে উদ্বোধনী সঙ্গী পিনাকের সঙ্গে ৬২, অধিনায়ক মুমিনুল হকের সঙে ২৯৬, ইয়াসির আলীর সঙে ১৯৭ রানের জুটি গড়েন তিনি, মুমিনুল আগের দিনই ১১১ রান করেছিলেন।

ট্রিপল সেঞ্চুরির অনেক কাছ থেকে ফিরেছেন বেশ কয়েকজন, মার্শাল আইয়ুব (২৮৯), মোসাদ্দেক হোসেন (২৮২), নাসির হোসেন (২৯৫), লিটন দাস (২৭৪) আশা জাগিয়ে পারেননি তিনশো রাঙের মাইলফলক ছুঁতে। এবার তামিম সে গেরো খুলে ট্রিপল সেঞ্চুরি তুলে নিলেন। সাম্প্রতিক কালে তামিমের পারফরম্যান্স নিয়ে খুব কাঁটাছেড়া হচ্ছিলো, সর্বশেষ পাকিস্তান সফরে টি২০ সিরিজে সিরিজের সর্বোচ্চ বাংলাদেশি রান স্কোরার হলেও ডট বল খেলার জন্যে সমালোচিত হয়েছেন। বি সি এল খেলতে নেমে তামিম যেন খোলস ছেড়ে বেরুলেন। ৫৮৫ বলের ইনিংসে ৭৮.৪০ স্ট্রাইক রেটে রান করাটা মোটেও সহজ কাজ ছিলো না। এই ইনিংস তামিম কে দেশের ক্রিকেটের ইতিহাসে এক অনন্য জায়গায় স্থান করে দিয়েছে। এর সঙে আত্মবিশ্বাসেও বাড়তি জ্বালানি জোগাবে তাতে সন্দেহের অবকাশ নেই।

এই ম্যাচ খেলে স্বল্প বিরতির পর তামিম কে নামতে হবে টেস্ট ক্রিকেটে।  রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ।

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/০০