করোনার ভয় ঠেলে উৎসবে রঙিন লিভারপুল

স্পোর্টস ডেস্ক:: করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে ইংল্যান্ড। এখনো দেশটিতে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরেনি। তার আগেই লিভারপুল ভাসলো উৎসবের আনন্দে। করোনার ভয়কে দূরে ঠেলে মানুষ একত্রে মিলিত হয়েছে। শিরোপা জয়ের রঙিন উৎসবে মেতে উঠেছে। ৩০ বছর পর শিরোপা উৎসবকে রাঙিয়ে রাখতে আনুষ্ঠানিক কোনো আয়োজন অবশ্য ছিলো না।

লিভারপুলের ম্যাচও ছিলো না। চেলসি-ম্যানচেস্টার সিটির ম্যাচেই শিরোপা নিশ্চিত হয়ে যায় লিভারপুলের। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে দুই দল ম্যাচ খেলছিলো। লিভারপুলের অ্যানফিল্ড স্টেডিয়ামে তখনো হাজার হাজার সমর্থকের ভীড়। কারণ ম্যানসিটি হারলেই ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাবে লিভারপুল। ফলাফলও এসেছে লিভারপুল সমর্থকদের প্রত্যাশা মতো। জিতেছে চেলসি।

স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ম্যাচটি শেষ হওয়ার পরপরই তাই দুইশো মাইল দূরের লিভারপুলে শুরু হয়ে যায় উৎসব। স্থানীয় বাসিন্দাকের আটকানো যায় নি। দীর্ঘ দিন পর শিরোপা জয়ের উৎসবে রাস্তায় নেমে আসেন তারা। রাতভর চলে আনন্দ-পার্টি। করোনার কোনো ভয় সাধারণ মানুষকে আনন্দ উৎসব থেকে দূরে রাখতে পারেনি।

শিরোপা নিশ্চিত হওয়ার পর লিভারপুল কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ বলেন, ‘সিটির ম্যাচটা সত্যিই খুব উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। আমি এই ম্যাচ দেখতে চাইনি, জড়াতে চাইনি। কিন্তু তা না করেও উপায় ছিল না। আমার আসলে অনুভূতি প্রকাশ করার মতো ভাষা জানা নেই। এটা যেকোন কিছুর চেয়ে অনেক বড় আনন্দ। এই ক্লাবের হয়ে চ্যাম্পিয়ন হতে পারা অবিশ্বাস্য।’

দলটির হয়ে তিনটি লিগ শিরোপা জিতে ছিলেন সাবেক কোচ কেনি ডালগ্লিশ। নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘তখন যদি কেউ বলতো যে, পরের শিরোপা জিততে আপনাদের ৩০ বছর লাগবে! তাহলে নিশ্চিতভাবে তাকে জেলে পুরে দেয়া হতো। তবে মাঝেমধ্যে এমন হয়। ক্লপ আসার পর গত দুই বছরে সবকিছু ইতিবাচকভাবে এগিয়েছে। সে দারুণ কোচ এবং লিভারপুলে সাফল্যের পেছনে তার অবদান অনেক।’

তিন দশক পর শিরোপা জয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত লিভারপুলের অন্যতম মালিক জন হেনরিও। টুইটে তিনি লেখেন ‘অসাধারণ অর্জন। এমন একটা মৌসুমের জন্য কতদিনের অপেক্ষা। লিগ শিরোপা জেতার মাধ্যমে দারুণ এক বছরের যথাযথ পরিণতি ঘটল। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ, সুপার কাপ এবং ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপের পর এখন লিগ চ্যাম্পিয়ন। খেলাটিকে যেকোন সময়ের চেয়ে বেশি সুন্দর করে তুলেছে লিভারপুল।’

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/ডেস্ক/০০