করোনার ম্যাচের ৪১ দর্শকের প্রাণহানি

    স্পোর্টস ডেস্ক:: স্পেনে মহামারি করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলর ম্যাচ থেকেই। ১১ মার্চ লিভারপুল ও অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের ম্যাচ থেকেই দেশটিতে করোনা ছড়িয়েছে এমন দাবি সংশ্লিষ্টদের। এর পক্ষে অবশ্য যুক্তি সঙ্গত কারণও আছে। ওই ম্যাচটিকে করোনা সংক্রমণের ম্যাচ হিসেবে চিহৃিত করা হচ্ছে। দাবি করা হচ্ছে ইংল্যান্ড ও স্পেনে করোনার বিস্তারে ওই ম্যাচটি দায়ি।

    এবার এক গবেণায় দেখা গেছে, ওই ম্যাচে যে ৫২ হাজার দর্শক উপস্থিত ছিলেন তাদের মধ্য থেকে করোনাভাইরাসে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৪১জন দর্শক। ম্যাচটি থেকে করোনা নিয়ে বাসায় ফিরেছেন টিক কতজন দর্শক তা অবশ্য নিশ্চিত করা যায় না।

    ১১ মার্চ লিভাপুলের মাঠে অ্যানফিল্ডে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ওই ম্যাচটির দুই দিন পরেই স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জরুরী অবস্থা জারি করেছিলেন। করোনা পরিস্থিতি ওই সময় দর্শকদের উপস্থিতি ম্যাচটি আয়োজন করা নিয়ে এখন আফসোস করছে ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) ও লিভারপুলের স্থানীয় প্রশাসন।

    ব্রিটেনের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস কর্তৃপক্ষ এক গবেষণা করে দেখেছে, ওই ম্যাচটি থেকেই দুই দেশে মূলত করোনা ব্যাপক বিস্তার করেছে। এনএইচএস দাবি করেছে, ম্যাচটিতে মাঠে উপস্থিত ছিলেন এমন ৪১জন দর্শক প্রাণ হারিয়েছেন। টিক কতো জন আক্রান্ত হয়েছে সেটা অবশ্য নির্ণয় করা যায়নি। ম্যাচটি দেখতে মাদ্রিদের তিন হাজার সমর্থক লিভারপুল গমন করেছিলেন।

    গবেষণা শেষে বলা হচ্ছে, স্প্যানিশ দর্শকদের থেকেই গ্যালারিতে করোনাবাইরাস ছড়ায়। মাদ্রিদের মেয়র হোসে লুইস মার্টিনো কয়েক‌দিন আগেই বলেছিলেন, ‘‌ওই ম্যাচ দেখতে আমাদের সমর্থকদের ইংল্যান্ডে পাঠানো উচিত হয়নি।’‌

    ন্যাশনাল হেলখ সার্ভিসের সেই গবেণা প্রতিবেদন প্রকাশের পর নতুন করে সমালোচনা শুরু হযেছে। কেন ম্যাচটি স্থগিত করা হলো না বা দর্শকহীন স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হলো না তার ব্যাখাও চাচ্ছেন অনেকই। কারণ ম্যাচটি আয়োজনের আগেই মার্চের শুরুতেই দেশটিতে সব হোটের বন্ধ করে দেওয়া হয়, চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়, অন্য খেলাগুলো হয়েছে দর্শকহীন স্টেডিয়ামে।

    গবেষকরা জানিয়েছে, অ্যানফিল্ডের সেই ম্যাচ থেকেই করোনাভাইরাস কম্যুনিটি ট্রান্সমিশন হয়েছে। যার কারণো করোনা মহামারি রূপ নিয়েছে দেশগুলোতে। ৪১ জনের মৃত্যুর হিসেব দিয়ে যার সঠিক হিসেবে পাওয়া যাবে না। হিসেবের বাইরে কতোজনের মৃত্যু হয়েছে বা কতোজন আক্রান্ত হয়েছেন তারও কোনো তথ্য মিলছে না। ইংল্যান্ডে ওই ম্যাচটিই ছিলো সবশেষ দর্শক উপস্থিতির ম্যাচ।

    এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/ডেস্ক/০০