কাটছে সঙ্কট, সিলেটে আউটারের আদলে নয়নাভিরাম পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়াম

সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সৌজন্যে পাওয়া আউটার স্টেডিয়ামের নকশা।

কাইয়ুম আল রনি:: রেলিগেশন ছাড়াই হচ্ছে সিলেট প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগ। করোনাভাইরাসে তাও স্থগিত হয়ে গেছে মাঝপথে। মূলত মাঠ সঙ্কটে দেরিতে লিগ শুরু হওয়ায় রেলিগেশনহীন লিগ হয়েছে। বিলম্বে শুরুতে করোনায় আটকেও গেছে। প্রতি বছর ক্রিকেট মৌসুম আসলে মাঠ নিয়ে সৃষ্টি হয় ‘জঠীলতা’। মাঠ নেই, মাঠ নেই হাহাকার চলে সিলেটের ক্রিকেটাঙ্গনে। এবার সেই সঙ্কট কাটতে যাচ্ছে।

খাতা-কলমে আউটার স্টেডিয়াম বলা হলেও আদতে তা পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়াম। প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ হবে, দেশি-বিদেশী দলগুলো অনুশীলন করবে। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট ম্যাচ হওয়া মানে ভালো মানের একটা স্টেডিয়াম। সুযোগ-সুবিধায় যেনো তার চেয়েও এগিয়ে সিলেটের এই নতুন স্টেডিয়াম। জেলা স্টেডিয়াম বা অন্য অনেক স্টেডিয়ামের চেয়ে সুযোগ সুবিধায় এগিয়ে থাকবে সিলেট আউটার স্টেডিয়াম। এই মাঠটি সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক আদলে তৈরি। মাঠের পুরোটাই জুড়ে পানি পরিশোধনের ব্যবস্থাও বিশ্বমানের।  ৮টি উন্নত মানের স্পোটিং উইকেট নিয়ে সিলেটের ক্রিকেটাঙ্গনের জন্য সু-খবর বয়ে আনছে স্টেডিয়ামটি।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পার্শ্ববর্তী হওয়ায় নাম থাকছে আউটার স্টেডিয়ামই। তবে সুযোগ-সুবিধায় পিছিয়ে নেই নয়ানিভরাম এই স্টেডিয়ামটি। আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের গ্রীণ গ্যালারির হাহাকার পুষিয়ে দেবে আউটারের আদলে তৈরি হওয়া নতুন এই স্টেডিয়ামটি। দুই পাশেই সবুজের সমারোহ। মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে টিলা। টিলার উপরে সবুজ ঘেরা ঘাস, তার উপর থাকছে সারি সারি গাছের বাগান। ফলজ, ঔষধী সহ নানা ফুলজ গাছে ভরপুর থাকবে স্টেডিয়ামের চারিপাশ। দর্শকদের জন্য গ্যালারি বা চেয়ার থাকবে না, তবে চাইলেই সবুজ ঘাসের ওপর গা এলিয়ে আরাম-আয়েসে ম্যাচ দেখতে পারবেন তারা।

একটি, দু’টি নয়, চার চারটি উন্নত মানের ড্রেসিং রুমে থাকছে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা। ড্রেসিং রুমেই থাকছে আইস বাথসহ আন্তর্জাতিক মানের সকল সুবিধা।। সাংবাদিকদের বসার জন্যও থাকছে পৃথক ব্যবস্থা।। আম্পায়ার, ম্যাচ রেফারিসহ অফিসিয়ালদের জন্যও থাকছে পৃথক পৃথক রুম। চারটি ড্রেসিং রুম থাকায় এক সঙ্গে চারটি দল অবস্থান করতে পারবে মাঠে। স্টেডিয়ামটির পাশেই থাকছে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধার একাডেমিক ভবন। বিসিবির আঞ্চলিক একাডেমির ক্রিকেটাররা থাকবেন সেই ভবনে। অনুশীলনের জন্য ক্যাম্প করতে আসা ‘এ’ দল, নারী দলসহ বয়স ভিত্তিক ক্রিকেটাররা থাকতে পারবেন মাঠের পাশেই একাডেভিমক ভবনে। সংযোগ থাকায় আউটার স্টেডিয়াম থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে যাওয়া-আসার জন্য জন্য ‘আয়রণ ব্রিজে’র মাধ্যমে থাকছে বিশেষ সুবিধা। যা বাড়িয়ে দেবে স্টেডিয়ামের সৌন্দর্য্য এবং কার্যকারিতা। নামাজের সুযোগ-সুবিধাও থাকছে মাঠের পাশেই। তৃতীয় তলা বিশিষ্ট মসজিদ তৈরি করা হচ্ছে মাঠের পাশে। তবে আপাতত প্রথম তলা কমপ্লিট করা হবে।

২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের দক্ষিণ পার্শ্বে ৮.৭৩ একর জায়গা জুড়ে ২৪ কোটি কোটি টাকা ব্যায়ে আউটার স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিছুটা বিলম্বে গত বছরের মার্চে এনএসসির ঠিকাদাররা কাজ শুরু করেন।  শুরুতে ২৪ কোটি টাকা ব্যায় ধরা হলেও পরবর্তীতে এই ব্যায় বেড়ে ২৮ কোটি টাকায় গিয়ে টেকেছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)’র ৩ জন ঠিকাদার কাজ করছেন। আগামি অক্টোবরের মধ্যেই কাজ শেষ হওয়ার কথা। সিলেটের ক্রীড়া কর্মকর্তারাও বলছেন, আগামি মাস তিনেকের মধ্যেই কাজ শেষ হয়ে যাবে নতুন এই স্টেডিয়ামটির। টিলাসমৃদ্ধ গ্যালারিতে ইতিমধ্যে ঘাসের চারা রোপণ করা হয়েছে। ঘাসও গজিয়ে উঠেছে। গাছ-গাছালিও লাগানো হচ্ছে। ড্রেসিং রুম, আম্পায়ারদের রুমসহ অফিসিয়ালদের জন্য নির্ধারিত ভবনের কাজও শেষ। আউট ফিল্ডের কাজও প্রায় শেষের কাছাকাছি।

লাক্কাতুরাস্থ সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পাশে নতুন এই স্টেডিয়ামটির কাজ শেষ হলেও সিলেটের ক্রিকেটাঙ্গণে মাঠের সঙ্কট কেটে যাবে। সিলেট ক্রিকেট লিগের পাশাপাশি স্কুল ক্রিকেট, বিসিবির বয়স ভিত্তিক ক্রিকেট, প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ, ক্রিকেট টুর্ণামেন্টসহ ক্রিকেটের যাবতীয় কার্যক্রম চলে যাবে এই মাঠে। তখন যথা সময়েই ক্রিকেট লিগ শুরু করা যাবে।  সিলেটের ক্রিকেট লিগসহ অন্যান্য টুর্ণামেন্ট নিয়মিত আয়োজন হলে সিলেটের ক্রিকেটের বর্তমান অবস্থা পরিবর্তন হবে। নতুন প্রতিভাবান ক্রিকেটার বেরিয়ে আসবে নিয়মিত। যা বাংলাদেশের ক্রিকেটকে করবে সমৃদ্ধ।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল। আউটারের আদলে পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়ামটি তৈরি করতে যিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি আশা করছেন- করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির উন্নতি হলে আগামি অক্টোবর-নভেম্বরে এ মাঠেই ম্যাচ আয়োজন করা যাবে। এসএনপিস্পোর্টসকে শনিবার বিকেলে তিনি বলেন, ‘অবকাঠামোগত সব কাজ প্রায় ৯০ ভাগ শেষ হয়ে গেছে। আউট ফিল্ডের কাজও শেষ হয়ে গেছে ৮৫ ভাগ। এখন শুধু ঘাসের চারা রোপণ করতে হবে। এর পাশাপাশি বাউন্ডারীসহ অন্যান্য ছোটখাট কিছু কাজ বাকী আছে। দুই তিন মাসের মধ্যেই এসব কাজ শেষ হয়ে যাবে। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হয়ে গেলে আগামি অক্টোবর-নভেম্বরে আমরা ম্যাচ আয়োজন করতে পারবো। এবং আমাদের পরিকল্পনাতে সিলেটের ক্রিকেটের উন্নয়নের লক্ষ্যে স্কুল ক্রিকেট, বয়স ভিত্তিক ক্রিকেট, প্রথম বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগ ও প্রতিষ্টিত ক্রিকেটারদের নিয়ে সারা বছর বিভিন্ন টুর্ণামেন্ট আয়োজন করার ইচ্ছে আছে। আমার বিশ্বাস যা সিলেটের ক্রিকেটকে আলোকিত করবে। ‘

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/০০