কাঠগড়ায় কি সাকিব একা?

রিফাত বিন জামাল:: আহ, সাকিব আল হাসান! যেমন খুশি তেমন কান্ড ঘটান। দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাও তাঁকে নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ। যেন বাংলাদেশের ইতিহাসের সেরা এ ক্রিকেটার বাদেই সবার জন্য এ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তিনি ছুটি চান, বিসিবিও ছুটি দিয়েছে এর আগে। প্রশ্ন উঠেছে দেশের প্রতি তারঁ নিবেদন নিয়ে। কিন্ত যখন তাঁর ছুটি হয় আইপিএলের জন্য তখন তা নিয়ে প্রশ্নের স্রোত হয়ে উঠে আরও বেগবান। এবং তা অবশ্যই যৌক্তিক।

সাকিব আল হাসান টেস্ট খেলতে পছন্দ করেন না, এমন গুঞ্জন বাংলার ক্রিকেটাকাশে আগে থেকেই ঘুরে বেড়াচ্ছিলো। সাকিব টেস্ট ছেড়ে দিতে চান না একেবারে, কিন্ত বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট খেলার চেয়ে তারঁ কাছে গুরুত্ববহ আইপিএলসহ অন্যান্য খেলা। ডু প্লেসিস টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বেশি মনোযোগী হওয়ার জন্য। তা অবশ্যই আইপিএলের নয়, দেশের হয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট। দেশের হয়ে সামনে দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ যে খেলার সুযোগ আছে তারঁ। হয়তো নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে সেখানে চোকার্স তকমা মুছে দিতে চান।

দক্ষিণ আফ্রিকার আরেক ক্রিকেটার কাগিসো রাবাদাও আইপিএলের আগে দেশ বলে দেশপ্রেমের নিদর্শন দেখিয়েছেন। যে দেশের মানুষেরা ভাষার জন্য জীবন দিয়ে দিতে পারে সে দেশের মানুষের চেয়ে দেশপ্রেম আর ভালো বুঝে নাকি কেউ! কিন্ত সাকিব বুঝেন না, রাবাদা বুঝেন। কত কোটি টাকার কাছে হেরে যায় দেশপ্রেম। তাঁর দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তুলেন, তিনি আবার আপনার দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্নবান ছুড়ে দিবেন আপনারই দিকে। দেশের হয়ে অন্য দেশের সাথে লড়তে নামলে তো নিজ দেশের প্রতি প্রেম এমনিতেই আসার কথা! ক্রিকেটাররাই বুঝি শুধু দেশপ্রমিক! তাদের দেশপ্রেমের নজির তো দেখাই যায় টেস্টে তাদের বডি ল্যাংগুয়েজ খেয়াল করলেই। মুখে দেশপ্রেমের বুলি আওড়ানো আর কাজে যেন ঠিক উল্টো।

এক হাতে বাজে না তালি। এ ঘটনাটাও দুই হাতের সমন্বয়েই ঘটেছে। যদিও এখানে অপর হাতটা নিষ্ক্রিয় ভুমিকাই পালন করেছে। নিষ্ক্রিয় হলে তো আর তালি বাজতো না! এখানে আসলে দুজনার দুই হাতের পরিচালক একই হাত। সাকিবকে কাঠগড়ায় তুলার সুযোগ করে দিয়েছেন যারা এবার তাদের তোলা যাক কাঠগড়ায়। এখানে কি সাকিবই শুধু দোষী?

যে বিসিবির অধীনে সাকিব আল হাসান সেই বিসিবির যেকোন সিদ্ধান্ত মানতেই তো বাধ্য তিনি। সাকিব চাইলেন ছুটি, আর অমনি অমনি দিয়ে দেয়া হলো তাকে ছুটি। ন্যাশনাল ডিউটির পরে যদি সুযোগ থাকতো তখন দেয়া যেত আইপিএলে খেলার অনুমতি। কিন্ত না! ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান আকমরান খাঁন বললেন, কেউ না চাইলে তো আর তাকে জোর করে খেলানো যায় না। ঠিক আছে, যদি জোর করে খেলানো নাই যায় তবে দেশের খেলা রেখে ফ্র‍্যাঞ্চাইজি এক লিগে খেলার জন্য অনুমতিও তো না দেয়া যেতে পারতো। বিসিবি এমনটা করতে পারেনি। কারণ তারা হয়তো সাকিবের সাথে এমন করতে পারবে না, অন্য কেউ হলে বোধহয় ঠিকই পারতো। তাহলে তো এটাও বলতে বাধা নেই যে দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাই যখন একজন ক্রিকেটারের কাছে জিম্মি তখন সে দেশের ক্রিকেটের অবস্থা এমন হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।

মহান যারা হয় তারা তা হয় সামগ্রিকভাবেই। সবদিক বিবেচনা করেই, শুধু পারফর্ম্যান্সের ভিত্তিতে নয়। মাঠ ও মাঠের বাইরে মিলিয়েই হয় ‘কিংবদন্তি,’ হয় মহান। বাংলার জান-প্রাণ সাকিব আল হাসান কি আপনার কাছে মহান?

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/০০