কারো সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ নেই, হোটেল রুমে জেল বন্দী মিরাজরা!

  1. স্পোর্টস ডেস্ক:: একই হোটেলে আছেন সবাই। অথচ একজন আরেক জনের রুমে যেতে পারছেন না। কারো সঙ্গে দেখারই সুযোগ মিলছে না। এমন দু’তিন দিন এক রকম রুম বন্দী থাকার পর মাত্র ৩০ মিনিট বাইরে হাঁটার সুযোগ মিলেছে ক্রিকেটারদের। নিউজিল্যান্ড সফররত বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা আপাতত কড়া কোয়ারেন্টিনেই আছেন।

দু’দফা করোনা টেস্ট করা হয়েছে এরই মধ্যে। সবার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। তৃতীয় দফা আগামি মঙ্গলবার করোনা টেস্ট হবে। তৃতীয় দফায় সবার রিপোর্ট নেগেটিভ আসলে মিলবে জিম ও অনুশীলনের সুযোগ। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ দল নিউজিল্যান্ডে পৌঁছেছে ওয়ানডে ও টি-২০ সিরিজ খেলতে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) মেহেদী হাসান মিরাজের একটি ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছে। এই অলরাউন্ডার ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, হোটেল রুমে বন্দী থাকতে হচ্ছে। মনে হচ্ছে জেল খানায় আছেন। তবে দিন দু’এক গেলে, জিমে যেতে পারলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে। গতকাল ২৭ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার প্রথমবার তারা বাইরে বেরুনোর সুযোগ পেয়ে ছিলেন। তবে সেটা একা একা।

রুমের ভিতর থেকে প্রথম বেরুনের পর মাথা ঘুরাচ্ছিলো জানিয়ে মিরাজ বলেন, ‘প্রথম তিনদিন তো রুমের ভেতরেই ছিলাম। তারপর আধা ঘণ্টা করে বের হওয়ার সুযোগ পেয়েছি সবাই। আমি যখন প্রথম যেদিন বেরিয়েছিলাম (শনিবার), শুরুর দিকে মাথা একটু ঘুরছিল। তারপর আস্তে আস্তে ১০-১৫ মিনিট পর ঠিক হয়ে গেছে। তিনদিন ঘরের ভেতর যে বন্দি ছিলাম, আমার নিজের কাছে মনে হয়েছে, জেলখানায় আছি বা হতাশা আছে।’

সারা দিন রুমে বসে থাকতে ভালো লাগে না জানিয়ে মিরাজ বলেন ‘যখন বাইরে বের হলাম, আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিলাম, তখন ভালো লেগেছে। পরে যখন রুমে ফিরে গেছি, তখন নিজেকে একটু ফ্রেশ মনে হয়েছে। সারাদিন রুমে থাকতে তো আর ভালো লাগে না। তিন-চারদিন রুমে কাটানো, একইভাবে… এটা আসলে একটু আমাদের জন্য অস্বস্তিকর। এই যে ত্রিশ মিনিটের জন্য বাইরে আসতে দেয়, এটা ভালো লাগে যখন রুমে(ফিরে) যাই।’

কারো সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ নেই, ফোনে ফোনে কথা হচ্ছে মন্তব্য করে বাংলাদেশের এই ক্রিকেটার বলেন, ‘এই প্রথম হোটেলের ভেতর এরকম পাঁচটা দিন কাটিয়েছি। প্রথম দিকে সময় কাটছিল না। কারও সঙ্গে দেখাই হয়নি। প্রথম তিনদিন তো কারও সাথে দেখাসাক্ষাৎ হয়নি। ফোনে-ফোনে কথা হয়েছে সবার সাথে, ভিডিও কলে কথা হয়েছে (হাসি) রুম টু রুম। প্রথমদিকে বোরিং লাগছিল, সময় কাটছিল না। এখন যেহেতু পাঁচদিন কেটে গেছে, আশা করি আরও তিনদিন কেটে যাবে।’

জিম ও মাঠে যাওয়া শুরু করলে ধীরে ধীরে ভালো লাগা শুরু করবে জানিয়ে মিরাজ বলেন, ‘ছয়-সাতদিন পর যখন আমরা জিম এবং মাঠে যেতে পারব, তখন আমাদের ভালো লাগবে। এখন হয়তো সময়টা কাটছে না। জিমের ফ্যাসিলিটিজ বা আমরা যদি কিছু ওয়ার্ক করতে পারতাম, তাহলে আমাদের জন্য সহজ হতো, সময়টা কেটে যেত, বডি ফিটনেস ভালো হতো। যেহেতু সুযোগটা নেই, দুই-তিনদিন পর স্টার্ট হবে… আশা করি তখন ইনশাআল্লাহ্‌ ভালো হবে।’

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/ডেস্ক/০০