‘কালোপথ’ ডিঙিয়ে ফিরে আসুন ‘ইতিহাসের প্রথম মহাতারকা’

তানজীল শাহরিয়ার অলী, অতিথি লেখক:: মোহাম্মদ আশরাফুল। বাংলাদেশের ক্রিকেট আকাশে ইতিহাসের প্রথম মহাতারকা। বিশ্ব otete-lekokক্রিকেটে তাঁর আগমন ছিলো মহা আড়ম্বরে, টেস্ট ক্রিকেটে শুরুটা করেছিলেন সেঞ্চুরি দিয়ে, টেস্ট ক্রিকেটের সর্ব কনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান আশরাফুল।

শুরুটা হয়েছিলো লেগ স্পিনার হিসাবেই। কিন্তু, প্রতিভা কী আড়াল করে রাখা যায়, আশরাফুলের ব্যাটিং সামর্থ্য নজর কেড়ে নিয়েছিলো সবার। সেই সুবাদে জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া। আশরাফুলের শুরুটা এমন এক সময়ে বাংলাদেশ তখন টেস্ট ক্রিকেটের আঙ্গিনায় হাঁটি হাঁটি পা পা করছে। সেই দলের এক অনন্য ক্রিকেটার ছিলেন তিনি। ব্যাট হাতে নান্দনিক স্ট্রোক প্লে’র ফুলঝরি ছোটাতেন ক্রিকেট মাঠে।

আশরাফুল বড়ো দলগুলোর বিপক্ষে দুর্দান্ত সব পারফরম্যান্স দিয়ে এক হাতেই বাংলাদেশকে জিতিয়ে এনেছেন অoli-biনেক বার। কার্ডিফে মহাকাব্যিক সেঞ্চুরি করে সেই সময়ের অজেয় প্রায় অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন, সেটা ছিলো ২০০৫ সাল, ২০০৭ সালে জর্জটাউনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে উদ্ভাবনী শটে সমৃদ্ধ ৮৭ রানের ইনিংস খেলে বিশ্বকাপের সুপার এইটে জয়ের স্বাদ এনে দিয়েছেন। নটিংহামে মাত্র ৫২ বলে ৯৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে দেখিয়েছিলেন আগ্রাসী ব্যাটিং এর অনন্য রূপ।

টেস্ট ক্রিকেটে ইন্ডিয়ার বিপক্ষে চট্টগ্রামে বুক চিতিয়ে খেলেছিলেন ১৫৮ রানের ইনিংস, ইনিংস ব্যবধানে হারা সেই ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হয়েছিলেন এই লিটল মাস্টার তাঁর ওই দুর্দান্ত ইনিংসের জন্যই। গল টেস্টে ১৯০ রান করে আউট না হলে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিয়ান হিসাবে নিজের নামটা বাঁধাই করে রাখতে পারতেন।

এমন অনেক আফসুস নিয়েই ক্রিকেটার আশরাফুলের জীবন। ম্যাচ ফিক্সিং এর দায়ে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ক্রিকেট থেকে ৮ বছর নিষিদ্ধ ছিলেন বাংলাদেশের এই সাবেক অধিনায়ক। সেই নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে মাঠে ফিরেছেন এই মৌসুমেই। জাতীয় লিগ, ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন লিগ খেলেছেন, নিজেকে আবার প্রমাণের চেষ্টায় বাইশ গজে লড়াই করছেন।

আজকেই তাঁর বয়সটা হয়ে যাচ্ছে ৩৩। ক্রিকেটের অনেক কিংবদন্তি এই বয়সে এসে বা পার করে বাইশ গজে অবিস্মরণীয় কিছু পারফরম্যান্স দেখিয়ে গেছেন। টেন্ডুলকার, মাইক হাসি, অ্যাডাম ভোজেস, ক্যালিস, কিংবা, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে বিভিন্ন দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত ধারাবাহিক সাঙ্গাকারা, উদাহরণের কমতি নেই। আশরফুল চাইলে এদের যে কাউকেই নিজের সামনে লক্ষ্য পূরণের অনুপ্রেরণা হিসেবে দাঁড় করিয়ে দিতে পারেন।

আজ এই ৩৩ তম জন্মদিনের আশরাফুল ভক্তরা এটাই কামনা করছেন, আশরাফুল নিজের নায়কোচিত পারফরম্যান্স দিয়ে ফিরবেন টাইগার বাহিনীতে। নিজের অতীত কলঙ্ক মোচনের জন্যে বেছে নেবেন নিজের উইলোটিকে। মাঠের চারপাশে চোখে মায়াঞ্জন বোলানো স্ট্রোক প্লে’র পসরা সাজিয়ে মাতিয়ে দেবেন বাংলাদেশের অজস্র ক্রিকেটপ্রেমিকে।

পারবেন কি আশরাফুল প্রত্যাবর্তনের কিংবদন্তি রূপে নিজেকে প্রমাণ করতে, সে উত্তর তোলা থাক সময়ের হাতে।

এই শুভ ক্ষণে আশরাফুলের জন্মদিনে তাঁর জন্যে অশেষ শুভেচ্ছা, আর আগামির জন্যে শুভ কামনা।

লেখক: ক্রীড়া লেখক ও আম্পায়ার।

(এসএনপিস্পোর্টস২৪ডটকম সব সময়ই লেখকের প্রতি আন্তরিক ও শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখাটি লেখকের একান্তই নিজস্ব। লেখকের মতামতের সঙ্গে আমাদের সম্পাদকীয় নীতির মিল নাও থাকতে পারে।)

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/অ/০০