‘খেলা দিয়ে না পারলেও মুখ দিয়ে আকাশ কুসুম স্বপ্ন দেখান’

তানজীলotete-lekok শাহরিয়ার অলী, অতিথি লেখক:: আশির দশকে ঢাকার মাঠ কাঁপানো ফুটবলার ছিলেন মনোয়ার হোসেন মনু। টানা তিন বছর শিরোপাহীন থাকার পর মনু আর ইলিয়াসের গোলে চিরপ্রতিদ্বন্দী আবাহনীকে হারিয়ে শিরোপার স্বাদ পায় মনুর ঢাকা মোহামেডান।

সেই দুরন্ত স্ট্রাইকার মনু আজ জীবন নিয়ে পড়েছেন শঙ্কায়। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে রোমন্থন করছেন অতীতের সোনালি সাফল্যের। কেউ খোঁজ রাখেনি মনুর, মহাপাগল নামের সংগঠন, যারা মোহামেডানের একনিষ্ঠ সমর্থক, সেই মহাপাগলের একজন খবর পান মনু হাসপাতালে ভর্তি। মনু কে দেখতে যেয়ে শুনতে পান খেলোয়াড়ি জীবন নিয়ে তাঁর সুখময় স্মৃতি, আর, আজকের এই অসহায় অবস্থার করুণ বর্ণনা।
oli-bi
দেশের ফুটবল মৃতপ্রায় অবস্থায় আছে। মাঠে খেলা নেই তেমন, হলেও মনুদের আমলে যেরকম গ্যালারি উপচে পড়া দর্শক হতো, আজ তার ছিটেফোটাও নেই। দেশের ফুটবলের এই সোনালি প্রজন্মদের অনেকেই আজ বিস্মৃত প্রায়। বাফুফে কর্তা হয়ে চেয়ার গরম করা অনেক কর্তাই একটু শরীর খারাপ হলেই সিঙ্গাপুর-ব্যাঙ্কক যান। খেলা দিয়ে মাঠ গরম করতে না পারলেও মুখের কথা দিয়ে অসাধ্য সাধনের আকাশ কুসুম স্বপ্ন দেখান। কিন্তু, এতো বাগড়াম্বরের মাঝে সাবেক ফুটবলারদের দিকে কোনো নজরই যেনো নেই বাফুফের।

নিজের যৌবন আর প্রাণ শক্তিকে মাঠে ঢেলে দিয়ে সমর্থকদের মনে আনন্দের যোগান দেয়া মনুরা এভাবে নীরবে হারিয়ে যান, অবহেলায় পড়ে থাকেন। দেশের ফুটবলে জনপ্রিয়তার শিখরে এসব ফুটবলারদের জন্যে বাফুফের কি কিছুই করার নেই? কোনো দায়িত্ব নেই?

সাবেক এই ফুটবলারের অসহায়ত্বে ফুটে উঠেছে এসএনপিস্পোর্টসের একটি প্রতিবেদন। ২৬ জুলাই ‘তুই যদি মোহামেডান ছাড়োস তাইলে আমাগো লাশের উপর দিয়া যাওন লাগবো’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি পড়ে একজন সাধারণ ফুটবল প্রেমী হিসেবে নিজের কাছেই লজ্জা লেগেছে।

ওই প্রতিবেদনটিতে লেখা হয় “সবার ভালোবাসার সেই মনু আজ পিজি হাসপাতালের বেডে শুয়ে কাতরাচ্ছেন আর স্মৃতি খোঁজে ফিরছেন। ১৯৮৬ সালের সেই ফাইনাল পূর্ববর্তী সময়ে মোহামেডান ছাড়ার কথা চিন্তা করলে তাকে দলে রাখার জন্য সাবেকদের উদ্যোগের কথা মনে করে মনু জানান, ‘ ‘সালাহউদ্দিন (বর্তমান বাফুফে সভাপতি) ভাই আমার বাসায় গিয়া কইসিলো  তরে আমি সেকেন্ড সালাহ উদ্দিন বানামু।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাদল (বাদল রায়) ভাই সালাম (সালাম মুর্শেদী) ভাই আমারে কইসিলো তুই যদি মোহামেডান ছাড়োস তাইলে আমাগো লাশের উপর দিয়া যাওন লাগবো।’

তাদের কথায় টাকার কথা না ভেবেই  মনু রয়ে যান মোহামেডানে। মাঠে নামেন এবং শিরোপা জয় করে পান দর্শকদের ভালোবাসা। আজ সেই মনু মুমূর্ষু প্রায় অবস্থায় কাতরাচ্ছেন হাসপাতালের বেডে। ভালোবাসার সেই মানুষের আজ অর্থ অভাবে চিকিৎসা থমকে আছে। দেখার যেনো কেউ নাই। যাদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে জীবনের সেরা সময়টা পার করে এসেছেন মনু সেই তারাই খোঁজ নেয়ার সময় পাননা মনুর। তাদের ভালোবাসাই আজ কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে মনুর জন্য। ভালোবাসার সবটুকু দিয়েও যে একপাতা প্যারাসিটামল কিনতে পাওয়া যায় না!”

দেশের সামগ্রিক ফুটবল কাঠামো প্রায় ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম। সেই ভঙ্গুর অবস্থার বহিঃপ্রকাশ ঘটছে বাফুফের কার্যক্রমেও। দেশের অতীত গৌরবের দুর্দান্ত পারফর্মাররা আজ কাতরাচ্ছেন হাসপাতালের বিছানায়। দেশের ফুটবলের অবস্থার প্রতীকী চিত্র ধরে নিতে পারেন এটাকে।

মনোয়ার হোসেন মনু অসুস্থ্য হয়ে পড়ে আছেন। এখন পর্যন্ত কোনো কর্মকর্তাকে তাঁর শয্যাপাশে দেখা যায়নি। দেশের ফুটবলের দায়িত্বশীলদের এরকম দায়িত্বহীন কর্মকান্ড কতদিন চলবে আর, সে উত্তর তোলা থাক সময়ের হাতে।

(এসএনপিস্পোর্টস২৪ডটকম সব সময়ই লেখকের প্রতি আন্তরিক ও শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখাটি লেখকের একান্তই নিজস্ব। লেখকের মতামতের সঙ্গে আমাদের সম্পাদকীয় নীতির মিল নাও থাকতে পারে।)

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/অলে/০০