চারদেয়ালে থাকা বাবা-মায়ের কথা মনে পড়লো- জাকির হাসান

নিজস্ব প্রতিবেদক:: ‘স্বপ্ন সত্যি হয়। আমরাটও হয়েছে। জাতীয় দলের সেরা ১৫জনের ভেতরে আমাকে পছন্দ করেছেন নির্বাচকরা। খেলতে পারবো কি পারবো না সময়ই বলে দেবে, তবে এই যে সুযোগ আসলো আমি কখনই ভুলবনা।’ বলছিলেন জাকির হাসান। শনিবার দল ঘোষণা হয়েছে মাত্র। প্রিমিয়ার লীগের প্রেকটিস ছিলেন ধানমন্ডি মাঠে। সেখানেই খরবটা পান। এরপরই এসএনপিস্পোর্টসের সঙ্গে মুঠোফোনে যুক্ত হলেন।

তরুণ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান জাকির হাসান নিজেকে প্রমাণ করেই এসেছেন জাতীয় দলে। মুঠোফোনে জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়ায় বললেন, ‘এই মাত্র এসেছি প্রেকটিস থেকে। প্রতিক্রিয়া কি সেটাতো বুঝানো সম্ভব নয়। আমি যেভাবে খেলে যাচ্ছি, সেভাবেই খেলে যাবো। জাতীয় দলের ড্রেসিংরুমের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর চেষ্টা করবো প্রতিটা মূহুর্তে যেখানেই খেলি। ধানমন্ডি মাঠে অনুশীলনের সময় কোচ পারভেজ ভাইয়ের কাছ থেকে প্রথম খবর শুনি আমি (জাকির)। চোখের কোনে জ্বল আসলো। কিছুই বুঝে উঠতে পারিনি, হঠাৎ এমন খবর।’

কার কাছ থেকে খবর শুনেছেন, কাকে প্রথম জানিয়েছেন জানতে চাইলে জাকির হাসান বলেন, ‘বাড়িতে ঘরে থাকা বাবামার কথা হঠাৎ মনে পড়লো। মনে হলো তারা শুনলে অনেক খুশি হবেন। দ্রুতই তাদের ফোন দিলাম। তাঁরা বললেন, বাবা সুযোগ পেলে ভালো মতো খেলিস। দেশ দশের সুনাম উজ্জ্বল করিস।’

বিপিএলে পারফর্ম করে আলোচনায় ছিলেন। ঘরোয়া ক্রিকেটেও পারফর্ম করেছেন। তবুও এত দ্রুত ডাক পড়বে চিন্তা করছিলেন কখনো? এমন প্রশ্নে জাকিরের সহজ-সরল উত্তর, ‘স্বপ্ন ছিলো একদিন জাতীয় দলে খেলবো। বিশ্বাসও ছিলো আমার। তবে স্কোয়াডে হঠাৎ চলে আসবো আমি ভাবতে পারিনি। সত্যি আমি আপ্লুত। যদি খেলার সুযোগ হয় কাজে লাগাবো আমি। তবে সুযোগ নাও আসলে সমস্যা নেই। কারণ নির্বাচকরা আমাকে পছন্দ করেছেন মানে আমি তাদের নজরে আছি, থাকবো। বিপিএলে খেলা আর ইন্টারন্যাশনাল সার্কিটে খেলা খুবই পার্থক্য। এখানে একরকম পরিবেশ আর জাতীয় দলে ভিন্ন, কঠিন আর চ্যালেঞ্জিং।’

ঘরের মাঠে অনুষ্টিত গত যুব বিশ্বকাপেই জাকির হাসান নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। এরপর এইচপির হয়েই বিদেশ সফরে ব্যাট হাতে আলো ছড়িয়েছেন। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটেরও সেঞ্চুরি, হাফ সেঞ্চুরি করেছেন নিয়মিত। ঢাকা প্রিমিয়ার লীগে ধারাবাহিক পারফর্ম করে আসছেন। চলমান আসর, গত আসরে সেঞ্চুরি এসেছে। এসেছে হাফ সেঞ্চুরি।

তবে জাকির নজড় কেড়েছেন বিপিএলে। রাজশাহীর কিংসের দলে থাকলেও শুরুতে সুযোগ মিলেনি তাঁর। তবে প্রথমবার যখন সুযোগ পেলেন ব্যাট হাতে নিজের কাজটা টিকমতোই করে ছিলেন। সিলেট সিক্সার্সের বিপক্ষে গত আসরে নিজের প্রথম ম্যাচে অর্ধশতক হাঁকান জাকির। দলকে এনে দেন কাঙ্খিত জয়। ২৬ বলে ৫১ রানের ঝড়ো ইনিংসে চার মেরেছেন চারটি, ছক্কা হাঁকিয়েছেন তিনটি। এরপর দলের একাদশে নিয়মিত ছিলেন। ব্যাট হাতেও দলকে সার্ভিস দিয়ে গেছেন তিনি। তাঁর পুরস্কারই দিলেন নির্বাচকরা শনিবার ঘোষিত স্কোয়াডে।

বিপিএলের পারফর্মার জাকির, রাহী, আরিফুলরা যে দলে আসছেন সে খবর বিপিএলের পরেই  পেয়ে ছিলেন এসএনপিস্পোর্টসের পাঠকরা। তবুও তরুণ জাকির, আরিফুলদের নিয়ে নানা আলোচনা হচ্ছিলো। শেষ পর্যন্ত বিপিএলের ৬ তরুণ পারফর্মারের উপরই রাস্থা রাখলেন নির্বাচকরা।

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/০০