‘ছক্কা ম্যান’ হোয়াইটলি হারতে নয়, জয় উপহার দিতে এসেছেন সিক্সার্সদের

সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে কাউন্টি ক্রিকেট তারকা রস হোয়াইটলির সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন শামছুল হক মিলাদ। ছবি তুলেছেন- অসমিত নন্দী মজুমদার অভী।

জয়ের জন্য দলের প্রয়োজন ওভার প্রতি প্রায় ২০ রান করে। এমন অবস্থায় অতিমানবীয় কিছু না করলে জয় তুলে আনা সম্ভব নয়। শেষ ৫ ওভারে ইংল্যান্ডের ন্যাটওয়েস্ট টি ২০ ব্লাস্ট ক্রিকেটে ৬ বলে ৬ ছক্কা হাঁকিয়ে চলতি বছরেই এই কীর্তি গড়েছেন হোয়াইটলি। ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে অবশ্য জেতাতে পারেননি উস্টারশায়ারকে। তবে ৬ বলে ৬ ছক্কা হাঁকিয়ে টি-২০ ক্রিকেটের দর্শকদের কাছে ঠিকই পরিচিত হয়ে উঠেছেন এই ইংলিশ অলরাউন্ডার।

হোয়াইটলি এবার ছক্কা দিয়ে মাতাতে এসেছেন বিপিএল ক্রিকেটকে। সিলেট সিক্সার্স দলে ভিড়িয়েছে ইংলিশ এই তারকা ক্রিকেটারকে। তার সঙ্গে রয়েছেন আরেক ইংলিশ ক্রিকেটার লিয়াম প্লানকেট। ২৮ অক্টোবর সকালে সিলেট এসে পোঁছান এই দুই ক্রিকেটার। পরের দিন সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে অনুশীলন শেষে এসএনপিস্পোর্টসের মুখোমুখি হন রস হোয়াইটলি। সেখানেই তিনি জানান বিপিএল নিয়ে তার পরিকল্পনা, কথা বলেছেন আমাদের নিউজ ইনচার্য শামছুল হক মিলাদ-

এসএনপিস্পোটস: বিপিএলের জন্য প্রথমবার বাংলাদেশ আসলেন কেমন দেখছেন বাংলাদেশ?

হোয়াইটলি: প্রথমবার বাংলাদেশ আসতে পেরে ভালো লাগছে। আমার টিমমেট(প্লানকেট) এর আগে বাংলাদেশে এসেছে তার কাছ থেকে এখানকার কথা শোনেছি কিছুটা। আসতে পেরে ভালোই লাগছে।

এসএনপিস্পোটস: বিপিএলে আপনার এই প্রথম আসা, ব্যক্তিগত কোন লক্ষ্য কি স্থির করে এসেছেন?

হোয়াইটলি: টি-২০ ক্রিকেট খেলার জন্য এখানে এসেছি। আমি জোরে মারতে পছন্দ করি, এখানে তাই করব। প্রথম লক্ষ্য একটাই দলকে ভালো কিছু উপহার দেওয়া। তার জন্য নিজেকে মানিয়ে নিচ্ছে। এখানকার উইকেটে স্পিন খেলা খুব কষ্টকর। এশিয়ার বাইরের খেলোয়াড়রা এই নিয়ে খুব ভোগে, আমি নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি আগে। তারপর ম্যাচ বাই ম্যাচ লক্ষ্য স্থির করব।

এসএনপিস্পোর্টস: এখানকার আবহাওয়া কি বড় কোন প্রতিবন্ধকতা হবে আপনার জন্য?

হোয়াইটলি: মাত্রই এসেছি এখানে, আজ(২৯ অক্টোবর) অনুশীলন করেছি। আবহাওয়া গরম আছে এখানে, তবে শোনেছি খুব শীঘ্রই শীত পড়বে। রাতে কিছুটা শীত অনুভব করেছি। আশা করছি খুব শীঘ্রই মানিয়ে নিব। আর প্রফেশনাল খেলোয়াড় হিসেবে এটা তো করতেই হবে।

এসএনপিস্পোর্টস: ছক্কা ম্যান হিসেবে বিশ্বে আপনি পরিচিত লাভ করছেন। সিলেটের দর্শকরা অনুশীলনের সময় অনেক কথা বলেছে আপনাকে নিয়ে। প্রত্যাশার চাপ কি বেশি হয়ে যাচ্ছে?

হোয়াইটলি: চাপ আমি উপভোগ করি। আর আমি যখন ব্যাট করে বল গ্যালারিতে ফেলছিলাম তখন দর্শকরা অনেক চিৎকার দিচ্ছিল। আমি উপভোগ করেছি, বুঝতে পারছি দর্শকরা অনেক আশাবাদী আমাকে নিয়ে, কথা দিচ্ছি হতাশ করব না।

এসএনপিস্পোর্টস: ন্যাটওয়েস্ট টি ২০ ব্লাস্ট ক্রিকেটে এক ইনিংসে আপনি ১১টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন। দর্শকরা কি এখানেও আপনার কাছে এরকম কিছু আশা করতে পারে?

হোয়াইটলি: আমি আমার কাজ করে যাবো। ছক্কা তো অবশ্যেই হাঁকাতো চাইব। আমাদের সিক্সার্স দলের স্লোগানটা এমন (লাগলে বাড়ি…বাউন্ডারি)। বাউন্ডারি হাঁকানোর চেষ্টা করব। তবে অবশ্যই জয়টাও সঙ্গে চাই।

এসএনপিস্পোর্টস: আপনার টিম সর্ম্পকে কিছু বলবেন?

হোয়াইটলি: এখানে আসার আগেই আমি টিম সম্পর্কে একটা ধারণা নিয়েছি। যতদূর দেখেছি আমাদের টিমটা খুবই ব্যালেন্সড। সবদিক দিয়ে ভালো খেলোয়াড় নেওয়া হয়েছে। আমরা জয় উপহার দেওয়ার চেষ্টা করব। জানেন তো কেউ হারতে চায় না।

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/১০৪