জাতীয় লিগের একটা শিরোপা চাই

বিপিএল ছাড়া ২০১৮-১৯ ক্রিকেট মৌসুমে সব জায়গাতে সরব উপস্থিতি ছিল এনামুল হক জুনিয়রের। এনসিএল (১৭), বিসিএল (১১), ডিপিএল ওয়ানডে (১৩) এবং ডিপিএল টি-২০ (৪) মোট ৪৫ উইকেট নিয়ে মৌসুম শেষ করা জুনিয়র নিজেকে ধরে রাখতে পাড়ি জমান ইংল্যান্ডে।

দেশের অফ সিজনের পুরোটাই কাটিয়েছেন ম্যানচেস্টার ক্রিকেট লিগে। চারদিনের ১২ ম্যাচ থেকে ৭৫ উইকেট সাথে নাম লিখিয়ে ফেলেন পার্লামেন্টারি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে। ৩৩ ছুঁই ছুঁই বয়সেও পারফর্ম করে যাচ্ছেন প্রথম টেস্ট জয়ের নায়ক। শনিবার জাতীয় ক্রিকেটে লিগে ছুঁয়েছেন ‘৩০০’ উইকেটের র্কীতি। মাঠ থেকে টিম হোটেল সেখান থেকে টিম মিটিং শেষ করেই এসএনপিস্পোর্টসের সাথে আলাপচারিতা। জুনিয়রের কথা শোনেছেন শামছুল হক মিলাদ-

এসএনপিস্পোর্টস: জাতীয় লিগে ‘৩০০’ উইকেটের মাইলফলক অভিনন্দন আপনাকে। জানা ছিল আগে থেকে?

এনামুল হক জুনিয়র: কিছুদিন আগে একটি জাতীয় দৈনিকে দেখেছিলাম কাছাকাছি আছি। কিন্তু আজ এটা মনে ছিল না। আপনার কাছ থেকেই প্রথম জানলাম ধন্যবাদ আপনাকে। আসলে জাতীয় লিগের এই সকল পরিসংখ্যান জানাটা খুবই কঠিন। খুবই ভালো লাগছে, এই কারণে যে জাতীয় লিগের প্রায় শুরু থেকেই আমি খেলছি এমন একটা সময় এসে এই কীর্তিটা বাড়তি আনন্দ দেয়।

এসএনপিস্পোর্টস: বিগত মৌসুমে সব মিলিয়ে ‘৪০০’ উইকেটের কীর্তি গড়েছিলেন এখন উইকেট সংখ্যা ৪৭০ এই মৌসুমে চোখ রাখছেন কোথায়?

এনামুল হক জুনিয়র: আসলে চোখ রাখার কিছু নেই। ফিট থেকে টানা খেলে যেতে চাই। দলের হয়ে পারফর্ম করতে চাই। বিশেষ করে জাতীয় লিগে আমার দল সিলেট বিভাগের জন্য কিছু একটা করতে পারলেই আমার ভালো লাগে। বিগত মৌসুমে আমরা ছন্দ খুঁজে পাইনি কারণ আমাদের অন্তত ৪টি ম্যাচ বৃষ্টির মধ্যে পড়েছিল। এই মৌসুমে আশা করছি ভালো কিছু হবে।

এসএনপিস্পোর্টস: অফ-সিজনে আপনি ইংল্যান্ডে ক্রিকেট খেলেছেন কেমন ছিল সেখানকার অভিজ্ঞতা?

এনামুল হক জুনিয়র: আমাদের অফ-সিজনের পুরোটা সময় জুড়েই আমি ইংল্যান্ডে ছিলাম। মৌসুম জুড়ে যে ছন্দটা ছিল সেটা ধরে রাখার জন্য ম্যানচেস্টারের ক্রিকেট লিগ আমার খুব কাজে দিয়েছে। ফিটনেস নিয়েও কাজ করেছিলাম নিয়মিত। সেখানে চারদিনের ম্যাচ খেলেছিলাম প্রায় ১২টি উইকেট সংখ্যা ছিল ৭৫।

এসএনপিস্পোর্টস: ৩৩’এ আপনার ফিটনেস লেভেল বেশ ভালো অবস্থানে। ক্রিকেটের নতুন চ্যালেঞ্জ গুলো কিভাবে নিচ্ছেন?

এনামুল হক জুনিয়র: অফ সিজনে আমি বসে থাকিনি। নিয়মিত কাজ করেছি ফিটনেস ও স্কিল নিয়ে। যার কারণে আমি চ্যালেঞ্জ (বিপ টেস্ট, ১২) উত্তীর্ণ হয়েছি। আর এভাবেই আরো অনেক দিন ক্রিকেট খেলে যেতে চাই। দলে যারা তরুণ ক্রিকেটার আসছে তাদের সাথে অভিজ্ঞতা শেয়ার এবং দলের জন্য ভালো কিছু করাই এখন আমার প্রত্যয়।

এসএনপিস্পোর্টস: সবশেষে জানতে চাই, জাতীয় লিগের সব কিছুই আপনার দেখা। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত। ২১তম আসরে এসে কি আক্ষেপ হয়না একটা শিরোপার জন্য?

এনামুল হক জুনিয়র: আক্ষেপ কিংবা কষ্ট যাই বলি না কেন অবশ্যই আছে। আমাদের সিনিয়র ও জুনিয়ররা মিলে আমরা বেশ ভালো দল। এবার রাজিন ভাই (রাজিন সালেহ) কোচ হয়েছেন, অলক দা (অলক কাপালি) অধিনায়কের দায়িত্বে।আরো আমরা যারা আছি সবাই মিলে এখন একটা শিরোপা টার্গেট সেট করতেই পারি। তবে তার আগে আমাদের টায়ার-১’এ উত্তীর্ণ হতে হবে। আমি বিশ্বাস করি আমাদের এই দলের এই সামর্থ্য আছে। নিজের জন্য না হোক তরুণ ক্রিকেটারদের বিশ্বাস তৈরী করে দেওয়ার জন্য এখন একটা শিরোপা আমাদের প্রয়োজন। তার আগে অবশ্যেই টার্গেট টায়ার-১।

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/১০৪