জীবনের থেকে খেলা বড় নয়ঃ অলক কাপালী

অলক কাপালী। ছবি-এসএনপি স্পোর্টস।

সাগর রায়ঃ মাঠে নামছেন ক্রিকেটাররা। ম্যাচ শুরুর আগে নির্ধারিত টস হচ্ছে। আগে ব্যাট করতে নামা দলের ব্যাটসম্যানরা ব্যাট-প্যাড নিয়ে তৈরি হচ্ছেন। ফিল্ডিং দলের ক্রিকেটাররা নিজেদের মধ্যে করছেন পরামর্শ, কিভাবে ফিল্ডিং-বোলিং ভালো করা যায় সেটা নিয়ে হচ্ছে শেষ মূহুর্তের আলাপ। খেলার শুরুর পর পরিচিত সেই ব্যাট-বলে টুক টাক আওয়াজ। আম্পায়ারের কাছে আবেদন, ফিল্ডাররা একে অপরকে দিচ্ছেন উৎসাহ। বাউন্ডারির উপর দিয়ে লাক্কাতুরার সবুজ গালিচার আছড়ে পড়ছে বল। ভাঙছে উইকেট। আর এসবেই যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে চায়ের নগরী সিলেটের ক্রিকেট। প্রাণ ফিরে পেয়েছে দেশের সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন ও মানসম্পন্ন মাঠ সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম।

জৈব সুরক্ষার মধ্যে থাকা মিরপুরের হোম অব ক্রিকেট ব্যতিত সারা দেশের ক্রিকেট মাঠগুলো যখন খাঁ খাঁ করছে, নয়নাভিরাম সৌন্দর্যে ভরপুর সিলেটের মাঠে তখন স্থানীয় ও জাতীয় দলের আশে পাশে থাকা খেলোয়াড়রা নিজেদেরকে ব্যাটে-বলে জ্বালিয়ে নিচ্ছেন। অলক-এনামুল-তান্নারা তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে খেলছেন টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট। সিলেট ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে গেল ৯ অক্টোবর শুক্রবার থেকে এই আয়োজন শুরু হয়। এই টুর্নামেন্ট চলাকালীন সময়ে এসএনপিস্পোর্টস‘র সাথে  কথা বলছেন জাতীয় দলের সাবেক তারকা অলরাউন্ডার অলক কাপালী। দেশের ক্রিকেটের প্রথম হ্যাটট্রিকম্যান কথা বলেছেন কয়েকটি বিষয় নিয়ে।

এসএনপিস্পোর্টসঃ দীর্ঘ ৭ মাস পর ক্রিকেটে। সেটিও আবার সিলেটে। মিরপুর ব্যতিত দেশের অন্য কোনো জায়গায় হচ্ছে না ক্রিকেট। কী বলবেন?

অলক কাপালীঃ দেখুন এটা অবশ্যই ভালো লাগার একটি বিষয়। ৭ মাস ধরে কোনো খেলার মাঝে নেই আমরা। আসলে এটা বলে লাভ নেই। কারণ, সব জায়গাতেই এটা (করোনার প্রকোপ) হয়েছে। যার কারণে অন্যান্য জায়গায় কোনো খেলা নেই। যেহেতু, আমাদের সিলেটের পরিস্থিতি মোটামোটি ভালোর দিকে তাই আমরা যতটুকু নিরাপদে থেকে খেলা শুরু করা যায় আরকি। আস্তে আস্তে সব জায়গায়ই ফিরবে ক্রিকেট।

এসএনপিস্পোর্টসঃ ঘরোয়া ক্রিকেট শুরু হয়েছে। চলতি বছর ডিপিএল হবে বলে জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি। তবে বিপিএল হচ্ছে না এই বছর। কোন দিক থেকে বিষয়টি দেখছেন?

অলক কাপালীঃ মূলত আমি ডিপিএলের দিকটায় দেখব। কারণ, প্রিমিয়ার লিগ খেল অনেক ক্রিকেটার। এটাই তাদের রুটি-রুজি বলা চলে। আর বিপিএল কম সংখ্যক খেলোয়াড়ই খেলে। ৬০-৭০ জন সেরা খেলোয়াড় হয়তোবা সেখানে খেলে। বোর্ডের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই আমি। আর যেটা শুনেছি, (কর্পোরেট) টি-টুয়েন্টির পরই ডিপিএল, এর পরের বছর মার্চে বিপিএল আয়োজন করার কোনো প্ল্যান আছে হয়তোবা। তবে ডিপিএল আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যারা খেলোয়াড় আছি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট, ডিপিএল, বিপিএল এগুলোই গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় দলের তো সবার সুযোগ নেই। আর বোর্ড যেটা জাতীয় দল নিয়ে শুরু করেছে, সেটাকে সাধুবাদ জানাই।

এসএনপিস্পোর্টসঃ অন্যান্য খেলার মতো ক্রিকেটেও যে ৭ মাস ধরে জীবিকার জন্য আর্থিকভাবে যে সমস্যা হচ্ছিল, এই নিয়ে আপনি কি বলবেন?

অলক কাপালীঃ দেখুন যে সাত মাস খেলা হয়নি, আর্থিক সমস্যা সেটা শুধুমাত্র যে ক্রিকেটে তা নয়। ফুটবল, ব্যাডমিন্টনসহ বিশ্বের সব ধরনের খেলাতেই বিষয়টা ঘটেছে। আসলে এখানে আমাদের কারোর হাত নেই। সব কিছু উপরওয়ালার হাতে। আমরা বিষয়টাকে পজেটিভ ভাবেই নিচ্ছি। কারণ, জীবনের থেকে খেলা বড় নয়। তবে খেলোয়াড়দের জন্য এটা রিকোভার করা খুব কঠিন। বোর্ড প্রেসিডেন্ট ডিপিএল নিয়ে যে সংবাদটা দিয়েছেন খুব ভালো সংবাদ আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটারদের জন্য। ১২টা দলে প্রচুর সংখ্যক ক্রিকেটার খেলে সেখানে।

এসএনপিস্পোর্টসঃ সিলেটে যে টুর্নামেন্টটি চলছে, ভবিষ্যতে জাতীয় দল বা অন্য কোনো টুর্নামেন্টে এই ক্রিকেটারদের পারফর্মেন্স প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন কিনা?

অলক কাপালীঃ আসলে আমাদের এই টুর্ণামেন্টের মূল লক্ষ্য সামনে যে (সিলেটের) লিগ আছে, সেটাকে মাঠে গড়ানো নিয়ে। সিলেট ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন ভালো একটা উদ্যোগ নিয়েছে যে এই টুর্নামেন্টি আয়োজন করে। খেলোয়াড়দের কিভাবে মাঠে আনা যায়, মানসিকভাবে কিভাবে শক্তিশালী করা যায়, করোনার যে প্রকোপ আছে সেটাকে পেছনে ফেলে কিভাবে সবকিছু স্বাভাবিকভাবে খেলা যায়। এগুলো করলে অটোমেটিক লিগটাও হবে। আপনারা জানেন প্রতি বছর লিগ নিয়ে একটা সমস্যা হয়। তিন-চার বছর ধরে আমরা স্টেট লিগ খেলছি না। এই দুই গ্রুপে খেলছি। এই বছর একটা সুযোগ আছে যেহেতু, করোনা পরিস্থিতি একটা অবস্থায় ফিরলে, ডিসেম্বর থেকে শুরু করার একটা পরিকল্পনা করছে ডিএসএ। জানি না, সামনে তারা মিটিং করবে হয়তোবা। এই টুর্ণামেন্ট আয়োজন করার মূল উদ্দেশ্য এটাই।

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/সা/১১০