টি.সি থেকে ইতিহাস রচনা, অনফিল্ডে বিদায় বলা হলো না

নাসিম আহমদ:: দীর্ঘ প্রায় একযুগের পথযাত্রা থেমে গেলো। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেয়া একক্ষুদে বার্তাই লক্ষ-লক্ষ ভক্তের হৃদয়ে রক্তক্ষরণের কারণ হয়ে দাঁড়ালো। ভক্তদের স্বপ্নগুলো চুরমার করে দিলেন ব্যাথাতুর ‘বিদায়’ শব্দ দিয়ে। অনেকটা নিরবেই নিভে গেলেন তিনি। ভক্তদের স্বপ্ন ছিলো তাকে আবারও স্বপ্নের জার্সিতে দেখবে। কেউ মাহি, কেউ এম.এস.ডি, আবার কেউ ধোনী শব্দে গগনবিদারী চিৎকার তুলবে। শব্দগুলোর চিৎকার করা উচ্চারণে উত্তাল হবে গ্যালারি প্রাঙ্গন।

কিন্তু এসব স্বপ্ন বাস্তবে রুপ নেয়ার পথটা যে তিনিই বন্ধ করে দিলেন। স্বপ্নগুলো পূরণের একটিই পথ খোলা। তবে সেই পথ তাকে যে স্বপ্নের নীল জার্সিতে দেখা যাবে না। তিনি যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বললেন। তিনি ভারতের ‘ক্যাপ্টেনকুল’ খ্যাত মহেন্দ্র সিং ধোনী।

স্বীয় স্টাইলেই বিদায়টা বললেন। ভারতীয়দের স্বাধীনতা দিবসের আনন্দটাও যে তিনি খানিকটা ম্লান করে দিলেন চিরটা কালের জন্য। ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবস ঠিকই পালন হবে, তবে এখন থেকে সাথে একজন মহারথীর অবসরের কষ্টদায়ক দিবসটাও পালন হবে। স্বাধীনতা দিবসের আনন্দে বিষাদ ছড়াবে ‘কিংবদন্তী’র আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বলা বিদায়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাকে আর ছক্কা হাঁকানোর পর ‘ফিনিশার’ হতে দেখা যাবেনা। উইকেটের পিছনে দেখা যাবে না ‘ক্যাপ্টেন কুল’কে।

চিরচেনা বাইশ গজে প্রতিপক্ষকে বোকা বানানো অদ্ভুত সব কৌশল অবলম্বন করতে দেখা যাবেনা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার অধিনায়কত্বে আর মুগ্ধ হওয়ার সুযোগ আসবেনা। তিনি চলে গেলেন, তিনি আর আসবেন না। তাঁকে আর দেখা যাবেনা, তার মতো আর কাউকে দেখা যাবেনা। ”মিস ইউ শচীন টেন্ডুলকার” লেখা ফ্লেকার্ডের সাথে এখন থেকে মাঠে দেখা যাবে ”মিস ইউ মাহী”। ভক্তরা নিজেদের পছন্দের শব্দের নামের আগে ”মিস ইউ’ ব্যবহার করবে। আমরাও তাকে মিস করবো। ক্রিকেট মাঠ তার মতো খেলোয়াড়কে মিস করবে। তার অভাব কখনো পূরণ হবার নয়। ভারতের ক্রিকেটে তাঁর বিদায়ে তৈরি হওয়া ক্ষত কোনো দিনও সারবে না।

তবে তিনি ভক্তদের রাগে-অনুরাগে মিশে থাকবেন। ভারত হারলে সমর্থকরা তার অভাবের কথা স্বরণ করবে। জিতলে স্মৃতি হাতরে ধোনির যেতা ম্যাচের মধুর স্মৃতিচারণ করবে সাথে আরো একটি জেতা ম্যাচে ধোনীর না থাকার হিসেব কষবে। সময় গড়াবে, সবকিছু পাল্টাবে, ধোনীও হয়তো হারিয়ে যাবেন। তবে ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে ঠিকই লেখা থাকবে তার নাম হয়তো কিছুটা ধুলো জমবে। তবে তিনি থাকবেন। ২৮ বছর পর দেশকে বিশ্বকাপ উপহার দেয়া ক্রিকেটারকে বারবার স্মৃতির পাতা থেকে খুজে নেয়া হবে। রবী শাস্ত্রীর কণ্ঠে যখন শুনবে ”Dhoni finishes of his style” তখন হারিয়ে যাবে ২০১১ সালের ওয়ানখেড়ের বিগ ক্রাউডে।

ধোনী থাকবেন, ভারতের ক্রিকেট যতটা কাল থাকবে। ধোনীর বিদায় একটা দুঃস্বপ্নের মতো ভক্তদের কাছে ধরা দিয়েছে। সত্যিই ধোনীকে ক্রিকেট অনেক মিস করবে। ধোনীরা ক্রিকেটের প্রাণ। ধোনীরা ক্রিকেটকে পূর্ণতা দিয়েছেন। ধোনীর শুরুটা বাংলাদেশ দিয়ে শেষটা নিউজিল্যান্ড। শেষটা ছিলো একটা অমাবস্যা। ক্রিকেট মাঠে তার মতো ঠাণ্ডা মাথার খুনি আর আসবে না। তার মতো ফিনিশারও আর আসবেনা। তার মতো অধিনায়কও আর আসবেনা। তার মতো ক্রিকেটারও আর আসবেনা। তিনি কেবল ইতিহাসের পাতা ও স্মৃতির ঝাপিতে ঘুরে বেড়াবেন। সেখানেই নাহয় তার অভাববোধ কিছুটা ভুলা যাবে।

রেলওয়ের টি.সি থেকে পরবর্তীতে ইতিহাসের নতুন অধ্যায় রচনা। ধন্যবাদ মহেন্দ্র সিং ধোনী। ক্রিকেট সমর্থকদের এক যুগ আপনার যাদুতে মুগ্ধ রাখার জন্য।

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/০০