টেপ টেনিস মাতানো রাজা এখন বড় মঞ্চের পরীক্ষায়

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ পাকিস্তানের ইমরান খান জুনিয়র, শাহিন শাহ আফ্রিদি বা হারিস রউফ; যাদের ক্রিকেটে উত্থান টেপ টেনিসে খেলেই। উপমহাদেশে বেশিরভাগ তরুণেরই ক্রিকেটে হাতেখড়ি হয় টেনিস বলে টেপ পেঁচিয়ে। ব্যতিক্রম নন বাংলাদেশ টেস্ট দলে প্রথমবার ডাক পাওয়া রেজাউর রহমান রাজা।

টেপ টেনিসে গতির ঝড় তোলা রাজা এখন বাংলাদেশ টেস্ট দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সিলেটে জন্ম নেওয়া এই পেস বোলার সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েই জায়গা করে নিয়েছেন টেস্ট দলে। পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণার আগেই ছিটকে গিয়েছিলেন নিয়মিত বোলার তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলাম। মূল দুই বোলার ছিটকে যাওয়ায় জাতীয় দলের দরজা খুলে যায় রাজার।

জাতীয় দলের আগে রাজা খেলেছেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে। বাংলাদেশ এইচপি দল ও ইমার্জিং দলের হয়ে লিস্ট ‘এ’ ম্যাচেও হাতেখড়ি হয়েছে ইতোমধ্যে। এবার অপেক্ষা জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়াবার।

এইচপি দলে চম্পাকা রামানায়েকের হাত ধরে বেশ খেটেছিলেন রাজা। যার ফলও পেলেন এবার। বাংলাদেশ দল যখন পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুরে সম্প্রতি শেষ হওয়া টি-টোয়েন্টি খেলছিল তখন টেস্ট দলের সম্ভাব্য বাকি সদস্যরা নিজেদের ঝালাই করছিল চট্টগ্রামে। সেখানে টেস্ট দলের বাকি কয়েকজনের নেট বোলার ছিলেন রাজা। তাসকিন-শরিফুলের চোটে নির্বাচকদের বিকল্প ভাবনায় রাজার নামই প্রথমে ছিল! এবার জাতীয় লিগে তার পারফরম্যান্স এমনিতেই নজর কেড়েছিল নির্বাচকদের। এর আগে ডানহাতি এই পেসারকে যখন এইচপি দলে ডাকা হয়, প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু তখন বলেছিলেন; ‘সম্ভাবনা দেখছেন রাজার মধ্যে’।

অথচ এইচপি বা ক্রিকেট বলে রাজার খেলার গল্প বেশ রোমাঞ্চকর। সিলেটের স্থানীয় ক্রিকেটে টেপ টেনিসে বেশ খ্যাতি ছিল তার। উপমহাদেশের স্থানীয় ক্রিকেটে টেপ টেনিসের বোলার মানেই গতির ঝড়। গতিতে ব্যাটসম্যানকে নাকাল করা বোলাররাই বেশিরভাগ সময় সেরার তকমা পান। রাজা স্থানীয় টেপ টেনিস টুর্নামেন্টে দ্যুতি ছড়িয়ে খেলেন একটি ক্রিকেট বলের টুর্নামেন্টে। সেখান থেকেই শুরু। স্টেডিয়ামে অনুশীলন-বিভাগীয় দল-এইচপি মাতিয়ে এখন জাতীয় দলে।

রাজা বলেন, ‘টেপ টেনিস ক্রিকেট থেকে অনুপ্রাণিত হওয়া…আমাদের এলাকায় টেপ টেনিস খেলার পর একটি টুর্নামেন্ট হয়েছিল ক্রিকেট বলে। সেখানে অংশগ্রহণ করি। আমার বোলিং দেখার পর এলাকার বড় ভাইরা বলেন যে, তোর বোলিং ভালো হয়েছে। চাইলে তুই স্টেডিয়ামে গিয়ে ক্রিকেট প্র্যাকটিস করতে পারিস। বড় ভাইদের কথা শুনে প্র্যাকটিসে গেলাম। তার পর আমার মনে হলো যে আমি পারব ক্রিকেটে কিছু করতে। সেখান থেকেই ক্রিকেটে আসা আমার।’

রাজার এই পথচলায় অনুপ্রেরণা আছে আবু জায়েদ রাহী-এবাদত হোসেন-খালেদ আহমেদদের, ‘আসলে আমাদের বড় ভাইদের কাছ থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছি। আমাদের সিলেটের রাহি ভাই (আবু জায়েদ চৌধুরি), এবাদত ভাই, খালেদ ভাই, তাদের কাছ থেকে প্রেরণা পেয়েছি। এখান থেকেই বাংলাদেশের ক্রিকেটে পেস বোলার হওয়ার উৎসাহ জেগেছে আমার।’

রাজা এখন বড় মঞ্চের পরীক্ষিত বোলার। নিজের সামর্থ্য সম্পর্কে জানান দিতে গিয়ে বললেন, ‘টেস্ট খেলা আমি উপভোগ করি। ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রথম শ্রেণিতে ভালো করেছি। এক জায়গায় টানা বল করতে পারি। বলে কিছু মুভমেন্ট করাতে পারি। এক ছন্দে টানা বল করতে পারি। দিনের শুরুতে যেই গতি থাকে দিনের শেষে সেই গতি আরেকটু বেড়ে যায়।’

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/১১০