তাঁকে আটকে রাখার চেষ্টা, আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে তেষ্টা…

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ‘অধিনায়ক হিসেবে আগামীকালই (আজ) আমার শেষ ম্যাচ। দীর্ঘসময় আমার প্রতি আস্থা রাখার জন্য বিসিবিকে ধন্যবাদ জানাই। আমার নেতৃত্বে যত ক্রিকেটার খেলেছে, তাদেরও ধন্যবাদ জানাই। আমি ধন্যবাদ জানাই সকল সাংবাদিকদের। ধন্যবাদ জানাই সকল ভক্তদের। আপনারা বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রাণ। আপনাদের সাহায্য ছাড়া এটা কখনোই সম্ভব ছিল না।’

উপরের কথাগুলো লিখিত বক্তব্য আকারে পড়ে যান মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। যেটা শুনে জেমসের বিখ্যাত ‘বাবা’ গানটা মনে পড়ে, ‘…যখন আমি থাকব না, কী করবি রে বোকা!’ নড়াইলের চিত্রা নদীতে সাঁতার কাটা দুরন্ত এক কিশোর ‘কৌশিক’ যে বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তি হয়ে উঠবেন, কে ভেবেছিল? শুধু কি অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তি? না, আমার কাছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার তিনি।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই মহা নায়ককে এবার থেমে যেতে হচ্ছে। ছোট ক্রিকেটকে আগেই বলেছিলেন বিদায়, এবার সাদা বলে বাংলাদেশ দলকে দিবেন না আর নেতৃত্ব। শুধু খেলোয়াড় কোটায় দেখা যেতে পারে তাকে। তবে এই সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। শচীন-ব্রেট লি-ক্যালিসদের থেমে যেতে হয়েছিল একটা সময় এসে। মাশরাফীও গেলেন থেমে। তবে আরেকটু সময় নিতে চাইলেও পারেন নি নড়াইল এক্সপ্রেস। সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফী স্পষ্ট বলেছনে শুধুমাত্র অধিনায়কত্ব ছাড়ছেন তিনি, খেলা না! তবে কেন জানি মনে হচ্ছে মাশরাফীকে আর দেখা যাবে না টাইগারদের রঙ্গিন পোশাকে।

দেশ-বিদেশের লাখো ভক্ত-সমর্থকদের মনের মনিকোটায় স্থান করে নেওয়া মাশরাফীকে মাঠের খেলায় আটকে রাখতে চাইলেও পারা যাবেনা। কারণ তিনি মহা নায়ক। আর মহা নায়ক সঠিক সময়ে সরে যেতে জানেন। যেটি তিনি করে দেখিয়েছেন। যতই তেষ্টা লাগুক, মহা নায়ককে ফেরানো যাবে না। শুভ কামনায় মাশরাফীদের স্মরণ রাখতে হয়!

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে শুক্রবার মাঠে নামবে বাংলাদেশ। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে দুপুর দু’টায়।

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/১১০