তিন বছর পর সিলেটে প্রাণের সঞ্চার

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ তিন বছর সিলেটে ফিরল আন্তর্জাতিক ফুটবল। মঙ্গলবার মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে ম্যাচটি জেতা হলো না লাল সবুজের প্রতিনিধিদের। সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে চেঙ্গিস খানের বংশধরদের হারাতে ব্যর্থ হ্যাভিয়ের কাবরেরার শিষ্যরা। পুরো ম্যাচে একাধিকবার প্রতিপক্ষ রক্ষণের পরীক্ষা নিলেও গোল করতে পারেন নি নাবিব নেওয়াজ জীবন-সুমন রেজারা।  গোল শূন্য ড্র করেছে গত সপ্তাহে মালদ্বীপের মাঠে ২-০ গোলে হারা বাংলাদেশ।

সবশেষ ২০১৮ সালে সিলেটের মাঠে আয়োজন হয়েছিল আন্তর্জাতিক ফুটবল। এই শহরে ফুটবল মানেই দর্শকদের মাঝে বাড়তি উদ্দীপনা দেখা যায়। ৯ বছর আগেও বাংলাদেশ–নেপাল ম্যাচে স্টেডিয়ামের প্রধান ফটক ভেঙে মাঠের ভেতরে হাজার হাজার দর্শক ঢুকে পড়েন। তবে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই সে ম্যাচটির সফল সমাপ্তি করেছিল বাফুফে ও স্থানীয় আয়োজকরা। মঙ্গোলিয়া ম্যাচে দর্শকরা এমন কোনো ঘটনার জন্ম না দিলেও গ্যালারিতে ছিল সরব উপস্থিতি

স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকরা মঙ্গোলিয়া ম্যাচের টিকিটের পাশাপাশি রেখেছিলেন পুরস্কারের ব্যবস্থা। দীর্ঘদিন পর ফেরা ফুটবলে দর্শকদের আকর্ষণ বাড়াতে ছিল এমন উদ্যোগ। ম্যাচ শেষে লটারির মাধ্যমে বিজয়ী দর্শকদের সে পুরস্কার বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থা ম্যাচের কয়েকদিন আগে থেকেই হাঁকডাক দিয়ে চালিয়েছে প্রচার-প্রচারণা। শহরের বিভিন্ন স্থানে করতে দেখা গেছে মাইকিং। টিকিট কাউন্টারগুলোতেও ছিল প্রচারণা চালিয়ে টিকিট বিক্রি। ম্যাচের দিন দুয়েক আগেই স্টেডিয়াম সংলগ্ন টিকিট কাউন্টারের এক বিক্রেতা জানিয়েছিলেন, ম্যাচের ৫০ ভাগ টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে।

 

মঙ্গলবার বিকেলের ম্যাচ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে খোলে দেওয়া হয় গ্যালারির ফটকগুলো। বেলা গড়ানোর সঙ্গে বাড়ে দর্শকদের আগমন। ২০ হাজার ধারণক্ষমতা সম্পন্ন গ্যালারির বেশিরভাগ অংশ জুড়েই ছিল দর্শকে সরগরম। নতুন করে সিলেট জেলা স্টেডিয়াম সংস্কারের পর প্রথম আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ হলো এখানে। প্রাণঘাতি করোনারভাইরাসের পর এই ম্যাচ দিয়ে প্রথমবার গ্যালারিতে দর্শকরা প্রবেশের সুযোগ পেলেন। সর্বশেষ ২০১৮ সালে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের গ্রুপ পর্বের খেলা সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে হয়েছিল। এবার ফিফা প্রীতি ম্যাচ দিয়ে ফের এই স্টেডিয়াম প্রাণ ফিরে পেলো।

তিন বছর পর প্রাণের সঞ্চার ঘটল সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে। তবে আগত দর্শকদের জন্য সেটা খুব একটা সুখকর নয়। জয়ের প্রত্যাশা নিয়ে মাঠে নামা বাংলাদেশ হতাশ করেছে সিলেটের দর্শকদের। এত এত গোলের সুযোগ মিস করায় জেতা হয় নি র‍্যাঙ্কিংয়ের ১৮৪তম স্থানে থাকা মঙ্গোলিয়াকে। বাংলাদেশ কোচ হিসেবে জয়হীন থাকলেন কাবরেরাও। এই স্প্যানিশ কোচ নিজের প্রথম এসাইনমেন্টে ফেল করেছেন মালদ্বীপের মাঠে। বাড়ির উঠানে সেই হারের ক্ষতে প্রলেপ দেওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু তা পূরণের জন্য দরকারি গোল করতে পারেন নি তাঁর শিষ্যরা।

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/১১০