দর্শকঃ আমি খেলার প্রাণ বলছি……

সাগর রায়ঃ ক্রিকেট-ফুটবল যেকোনো খেলারই প্রাণ হলো দর্শক। এই কথার মাহাত্ম্য আর বাস্তবতা যেন ফুটে উঠলো আরও একবার। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার চলমান ওয়ানডে সিরিজে বিরলপ্রায় দৃশ্য দেখে হয়তোবা গভীরভাবে চিন্তা জাগতে পারে বিষয়টিকে নিয়ে।

করোনা গ্রাস করেছে পুরো পৃথিবীকে। কোভিড-১৯’র সেই থাবা দেখতে বাদ পড়েনি ক্রীড়াঙ্গনও। প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে ক্রীড়া বিশ্ব। এর মাঝেই যেন এক চিলতে আশার আলো জ্বলে উঠেছে অস্ট্রেলিয়ার বুকে।

কিন্তু এরপরও, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে স্বাগতিকদের ওয়ানডে সিরিজটি অনুষ্ঠিত হওয়ার ঘোষণা এসেছে ক্লোজড ডোর অর্থাৎ দর্শকশূন্য গ্যালারিতে। তাসমান সাগর পাড়ের দুই প্রতিবেশি দেশের লড়াইয়ে নেই দর্শক, ভাবা যায়! ম্যাচের শুরু থেকেই যেন ফ্যাকাশে লাগছিল সব কিছু। কিন্তু নিয়তির চরম বাস্তবতা মেনেই চলছিল খেলা।

এর মাঝেই দেখা মিলে ক্রিকেটের করুণতম সেই দৃশ্যের। দুই দলের দুই ইনিংসে বার কয়েক বল আচড়ে পড়েছিল গ্যালারিতে। ওভার বাউন্ডারির সেই মারে গ্যালারিতে উপচে পড়া বলকে কারোর ক্যাচ বানাতে বা বানানোর চেষ্টা করার দৃশ্যের দেখা মেলেনি। বল ধরার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত হওয়ার দৃশ্য দেখা যায়নি।

উল্টো বল খুঁজতে মাঠ ছেড়ে গ্যালারিতে যেতে হয়েছে ক্রিকেটারদের। অজিদের ইনিংসে লকি ফার্গুসন তো, কিউইদের ইনিংসে অ্যাস্টন অ্যাগার। এমনকি উঠে আসতে হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার অতিরিক্ত খেলোয়াড়দের। একাদশে থাকা ক্রিকেটারদের পানি বা অন্য প্রয়োজনীয় জিনিষ পৌঁছানোর সাথে বল খুঁজে দেওয়া নতুন কাজ তাদের। সেই কাজে তারা হয়রান প্রায়!

ছবিঃ সংগৃহীত।

বিষয়টিকে রসিকতার ছলে উড়িয়ে দেওয়া যেতেই পারে। কিন্তু এর ভেতরেও ক্রীড়ার মাহাত্ম্যটা ফুটে উঠতে পারে দারূণভাবে। যারাই খেলার প্রাণ, তারাই নেই এখানে? নেই গ্যালারির চিরচেনা বিনোদনের সেই চাকচিক্য ছোঁয়া? করোনার কালো থাবা যেন গ্রাস করে আছে সবকিছু। দ্রুত এই শঙ্কা কেটে যাওয়াতেই প্রার্থনা সবার। একই সাথে আবার চিত্ত্য বিনোদনের আলোয় রঙিন হোক এই ভুবন। খেলার প্রাণ সেই দর্শকরা ফিরে আসুক মাঠে। স্বাভাবিক হোক সবকিছু।

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/সা