দাবাঃ পারস্যের বণিকরা যার ব্যাপ্তি ছড়িয়েছিল!

সংগৃহিত ছবি।

ব্যবসা করতে আসা বণিকরাই প্রচার-প্রসার ঘটায় দাবার। ভারত উপমহাদেশে জন্ম নেওয়া এই খেলা চতুরঙ্গ নামেই পরিচিত ছিল শুরুতে। বড় বড় জাহাজ দিয়ে সাগরপথে উপমহাদেশে ব্যবসা করতে আসা পারস্যের বণিকরা এই খেলার প্রেমে পড়ে। খেলতে শুরু করে এখানে। এরপর সাগর-মহাসাগর পাড়ি দিয়ে তারা ভারতবর্ষ থেকে দাবার চলন নিয়ে যায় পারস্যে। এরপর পারস্যের আশপাশে তৎকালীন মুসলমানদের হাত ধরে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে এই খেলা। পরে চৌষট্টি খোপের এই দাবা ইউরোপীয়দের মাধ্যমে একসময় সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে এবং ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

দাবার জনপ্রিয়তা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে মুসলমানদের অবদান কোনো অংশে কম নয় বলে জানা যায়। একাধিক আরব লেখকদের বইয়ে জানা গেছে আরব্য রজনীর হারুন-অর-রশিদও দাবা খেলতেন। এমনকি এই খেলার প্রচারণাও করে গেছেন তিনি, এমন কথাও লেখা আছে কিছু কিছু বইয়ে। পারস্যে প্রচার করেছেন দাবার।

১২ শতকে সালাউদ্দিনের শাসনামলে ইউরোপের ক্রুসেডাররা জেরুজালেম রক্ষার জন্য দলে দলে ভিড় জমায় পারস্যে। দীর্ঘদিন পারস্যে থাকতে থাকতে তারা পারস্যের অনেক কিছুই আমদানি করতে থাকে ইউরোপে। এই অনেক কিছুর সাথে ছিল দাবার প্রচারণাও!

ভারত উপমহাদেশে শুরু হয়ে পারস্যের বণিকদের হাত ধরে বাগদাদ বা জেরুজালেমে ছড়িয়েছে দাবা। সময়ের পরিক্রমায় গোটা পৃথিবীতেও ছড়িয়েছে, ফলে কিছু নিয়মের পরিবর্তনও ঘটেছে। শুরুর কিছু কিছু নিয়ম অপরিবর্তিত থাকলেও ইউরোপেই দাবায় প্রথম বিশপ (হাতি) যুক্ত হয়। আরও পরে যোগ হয় রানি।

আধুনিক দাবার প্রথম টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয় ১৮৫১ সালে। লন্ডনে অনুষ্ঠিত এ টুর্নামেন্টটি আয়োজন করেন ব্রিটিশ দাবাড়ু হাওয়ার্ড স্ট্যাউনটন। জিতে নেন জার্মানির অ্যাডলফ অ্যান্ডারসেন। বিংশ শতাব্দীতে গঠিত হয় ওয়ার্ল্ড চেস ফেডারেশন বা সংক্ষেপে এফআইডিই।

আধুনিক দাবার ইতিহাসে প্রথম টুর্নামেন্ট আয়োজক স্ট্যাউনটন শুধু দাবাড়ুই ছিলেন না, প্রচারণাও চালিয়েছেন বেশ। তিনিই প্রথম নাথানিয়েল কুকের ডিজাইন করা এক বিশেষ শৈলীর চেস পিস ব্যবহার করা শুরু করলেন, এবং উৎসাহ দিতে লাগলেন। এই ডিজাইন ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠল এবং স্ট্যাউনটন স্টাইল হিসেবে খ্যাতি পেল। নান্দনিক সৌন্দর্য এবং ব্যবহারে সুবিধার কারণে স্টন্টন পিস আজও দাবার জগতে একক কর্তৃত্ব করছে। তবে পৃথিবী নানা প্রকার দাবার প্রচলন রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম-

(১) চতুরঙ্গ
(২) শতরঞ্জ
(৩) সিগার ডিভান
(৪) স্টন্টন (Staunton)
(৫) কুরিয়ার দাবা
(৬) চীনা দাবা (শাঙ্‌ চি)
(৭) বাবুশকা দাবা
(৮) জাপানী দাবা
(৯) থাই দাবা
(১০) দা ভিঞ্চি দাবা (পাচিওলি দাবা)
(১১) বার্মিজ দাবা
(১২) মঙ্গোলীয় দাবা (সাঁতার)
(১৩) ফিলিপিন্স দাবা
(১৪) কোরিয়ান দাবা
(১৫) শার্লেমেইন দাবা
(১৬) আইল অফ লুইস দাবা
(১৭) মুসলিম ক্যামেলবর্ন দাবা
(১৮) কোরিয়ান সোপস্টোন দাবা
(১৯) বিশাখাপত্তনম দাবা
(২০) লোকা
(২১) আধুনিক দাবা

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/১১০