‘দুঃসময়ে জন্ম নেওয়া কিছু ভালোবাসা’

আম্মার আহমদ:: পৃথিবীর এই ঘনঘটা অন্ধকারের মাঝেও আমি দেখেছি এক আলোকিত চারপাশ, দেখেছি কিছু এমন নায়কদের যারা ইতিহাসের পাতায় আজীবন অমর হয়ে থাকবেন।

মরণঘাতি করোনাভাইরাস যেখানে সবাইকে মৃত্যুর ভয়ে বাসগৃহের করিডোরে বন্দী করলো, ঠিক সেই সময় কিছু যোদ্ধারা মৃত্যুর ভয়কে দূরে ঠেলে দিয়ে গড়লেন কিছু ভালোবাসার দূর্গ। সেই বীরদের অন্যতম হলেন ডাক্তার, পুলিশ, সাংবাদিক ও স্বেচ্ছাসেবী। অনেকেই প্রাণ দিয়ে শহীদ হয়েছেন, মহান আল্লাহ যেনো তাদের কবরকে জান্নাতের বাগান বানিয়ে দেন।

এই অন্ধকার আমি দেখেছি এমন এক যুব সমাজকে যারা ডিজিটাল যুগের এই টিকটক দুনিয়া কে পিছনে ফেলে নেমে এসেছে গরীব কৃষকের জমিতে, পাবজীর গেইমের বন্দুক না চালিয়ে শক্তি ব্যায় করেছে বাস্তবতার ফিল্ডে। পুরো জীবনে নিজ মাথায় কোন বুঝা না নেওয়া লোকটাও ত্রানের চাল মাথায় করে পৌঁছে দিয়েছে অসহায়ের ঘরে ঘরে, কৃষের ধান কাঁধে করে তুলে দিয়েছে গোয়ালে।। এই সময়ে মানুষে চিনেছে কিছু জনগণের অভিভাবককে, এমন অনেক জনপ্রতিনিধি ভয়কে দূরে ঠেলে জনগণের দুয়ারে দুয়ারে যেতে দেখেছি, লড়াই করে করে এসকল নায়কদের অধিকাংশই আক্রান্ত হয়েছেন এই ভাইরাসে।

আমার ভালোবাসার কেন্দ্রবিন্দু ব্যাডমিন্টন এমন কঠিন সময়ে সাহস করে পুরো দেশের ব্যাডমিন্টন সমাজকে সাথে নিয়ে ডাক দিয়েছিলাম এক সাম্যের টানে, ভালোবাসার আহ্বানে সাড়া কে দেয়নি!, মহৎ এই কাজে দলমত নির্বিশেষে সকল ভালোবাসার মানুষেরা নেমে এসেছেন, একে একে বিভিন্ন জেলায় ৫০০ শত মানুষকে ১৫ দিনের খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেয়ার পাশাপাশি আমরা দীর্ঘ তিনদিন ধান কেটেছিলাম কৃষকের জমিতে, এই অনুভূতিগুলো যদি ধরা না দিতো জীবনে জীবনটাই বৃথা রয়ে যেতো, কোন দিন ধানের মুষ্টি হাতে না নেওয়া দেহটাও সেদিন কৃষকপর মাঠে জেগে উঠেছিলো এক নতুন সাহসে, সেহরী ইফতার খাবার হাতে নিয়ে রমজান মাস হেঁটেছি মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষদের দুয়ারে দুয়ারে, বুঝতে পেরেছি মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষদের আড়ালে তাদের বিরহ জীবনযাপন!

এখন রাতের আধারে চোখ বুঝলে আর আগের মতো ঘুম আসে না, হঠাৎ জেগে উঠি! মনে মনে ভাবি আজ ও হয়তো সেই ছাদ-বিহীন রাস্তার মানুষগুলো পথ চেয়ে আছে খাবার নিয়ে যাবো বলে, প্রভূর কাছে শুধু এই কষ্টর অবসান চাই, এবারের ঈদটা মানবসেবায় ব্যাডমিন্টনের ছিলো সেই সকল মানুষদের নিয়ে, প্রায় পঞ্চাশজন রাস্তায় বসবাসকারী মানুষদের সাথে নতুন কাপড়ে ঈদ করেছে ব্যাডমিন্টন পরিবার, নতুন কাপড় হাতে পাওয়ার পর তাদের সেই হাসি আনন্দ এখনো চোখে ভাসে আমার চোখে, আমরা যেন ভূলতে বসেছিলাম পাগলরাও হাসতে জানে, সময় তা স্মরণ করিয়ে দিলো।

আমাদের ব্যাডমিন্টন পরিবার এখনো বসে নেই। আমরা অসহায়দের পাশে আছি, দেশের দুঃসময়ে দেশের মানুষের পাশে আছি। আমরা শুধু শাটলার নিয়ে মাঠ দাপিয়ে বেড়াতে জানি না, আমরা দুঃসময়ে কাঁচি হাতে কৃষকের ধান কাটতে আবাদী জমিনে নামতে জানি। ভালোবাসার ছুঁয়ায় হাসি ফুটাতে চেষ্টা করি অসহায় মানুষের। সকল ভালোবাসার মানুষদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা, একদিন এই অন্ধকার কেটে যাবে, সেদিন এই বীরউত্তম মানুষগুলোই নতুন করে এক প্রেমের বিশ্ব গড়বে, মারামারি হানাহানি সব মিটে যাবে, সেই ভরসায় বেঁচে থাকা……

লেখক: ব্যাডমিন্টন শাটলার।

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/০০