দু’বার ব্যাট করা বাংলাদেশের ৭ ব্যাটার খুলতে পারেননি রানের খাতা

    সাদিকুর রহমান চৌধুরী:: পাঁচ দিনের ম্যাচ, খেলা হয়েছে দুই দিনের কিছু বেশি সময়। তাতেই দুই বার ব্যাট করেছে বাংলাদেশ। দু’বার ব্যাট করা বাংলাদেশের ৭ জন ব্যাটারই খুলতে পারেননি রানের খাতা। ইনিংসে ১০’র বেশি রান করতে পারেননি ১০ জন ব্যাটার। ফলাফল তাই সফরকারী পাকিস্তানের কাছে ইনিংস ব্যবধানের সঙ্গী ৮ রানের হার।

    বাবর আজমের দল আগে ব্যাট করে ৩০০ রান তুলেছে। বাংলাদেশের বোলাররা তাদের ৪ উইকেট শিকার করতে পেরে ছিলেন। বিপরীতে বাংলাদেশের ব্যাটাররা ২৯২ রান তুলতেই পাকিস্তানী বোলারদের দিয়েছেন ২০টি উইকেট।

    প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ৫ জন ব্যাটার রানের খাতা খুলতে পারেননি। দ্বিতীয় ইনিংসে ২ জন ব্যাটার খুলতে পারেননি রানের খাতা। প্রথম ইনিংসে দুই অঙ্কের কোটা ছুঁতে পারেননি স্বাগতিকদের চার জন ব্যাটার। দ্বিতীয় ইনিংসে দুই অঙ্কের কোটা ছুঁতে পারেননি পাঁচ জন ব্যাটার।

    ব্যর্থতার এই তালিকায় টপঅর্ডার, মিডল অর্ডার আর লোয়ার অর্ডার, সব ব্যাটারই আছেন। সাদমান, শান্ত, জয়, মুশফিক থেকে শুরু করে আছেন এবাদত-খালেদরা। ব্যাটারদের ব্যর্থতার সঙ্গে বোলার নিষ্প্রাণ বোলিংও দায়ী ম্যাচ হারে। পাকিস্তানের বোলাররা যেখানে বাংলাদেশের ২০টি উইকেট শিকার করতে পেরেছেন, স্বাগতিক বোলাররা কিনা ৩০০ রান দিয়ে শিকার করেছেন মাত্র ৪টি উইকেট। পাঁচ দিনের টেস্টে টিকমতো আড়াই দিনও খেলা হয়নি। তাতেই ম্যাচ জিতেছে সাদা পোশাকের সিরিজও জিতলো সফরকারীরা।

    প্রথম ইনিংসে শুন্য রানে সাজঘরে ফেরত আসেন মাহদুল হাসা জয়। ৭ বল খেলে একটি রানও আদায় করতে পারেননি তিনি। তার থেকে এক বল বেশি অর্থাৎ ৮ বল খেলেও রানের খুলতে পারেননি মেহেদী হাসান মিরাজ। ১৬ বল মোকাবেলা করা তাইজুলও ফিরেছেন শুন্য রানেই। ২ বল খেলা খালেদও ব্যাটারদের দেখানো পথে শুন্য রানে ফিরেন প্যাভেলিয়ানে। এবাদত ৬ বল খেলেও করতে পারেননি কোনো রান। শেষ ব্যাটার হিসেবে থাকেন অপরাজিত।

    বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে দুই অঙ্কের কোটা ছুঁতে পারেননি ওপেনার সাদমান ইসলাম, অধিনাক মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম ও উইকেটরক্ষক লিটন দাস। ওপনোর সাদমান ২৮ বলে করেন ৩ রান। অধিনায়ক মুমিনুল ২ বলে করেন মাত্র ১ রান।৮ বলে ৫ রান করেন মুশফিক। ১২ বলে ৬ রান করেন লিটন দাস।

    দ্বিতীয় ইনিংসে রানের খাতা খুলতে পারেননি খালেদ আহমদ ও এবাদত হোসেন। ৭ বলে শুন্য রানে আউট হন খালেদ। শেষ ব্যাটার হিসেবে প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও অপরাজিত থাকেন এবাদত। ১৩ বল খেলে নিতে পারেননি একটি রানও। দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য অন্য ব্যাটাররা খুলতে পারেন রানের খাতা।

    টাইগাদের দ্বিতীয় ইনিংসে দুই অঙ্কের কোটা ছুঁতে পারেননি সাদমান ইসলাম, মাহমুদুল হাসান জয়, নাজমুল হোসেন শান্ত, অধিনায়ক মুমিনুল হক ও তাইজুল। তার মধ্যে প্রথম ইনিংসেও ব্যর্থ হন সাদমান ও মুমিনুল। ওপেনার সাদমানের ব্যাট থেকে ১৫ বলে ২ রান। আরেক ওপেনার জয় প্রথম ইনিংসে শুন্য রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ বলে করেন ৬ রান। ১১ বলে ৬ রান করেন শান্ত। অধিনায়ক মুমিনুল ৮ বলে করেন ৭ রান। তাইজুল ৩১ বলে ৫ রানে ফিরে যান সাজঘরে।

    বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অন্তর্ভুক্ত এই সিরিজের দু’টি ম্যাচই জিতলো সফরকারী পাকিস্তান। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের আগের আসরে ব্যর্থ হওয়া বাংলাদেশ এবার দ্বিতীয় আসরও শুরু করলো বড় হার দিয়ে।

    এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/০০