নিশাম-কনওয়ের ব্যাটে ক্যারিবিয়ানদের বিশাল লক্ষ্য সহজেই তাড়া করল নিউজিল্যান্ড

স্পোর্টস ডেস্কঃ বৃষ্টির কারণে, ম্যাচ গড়ায় ১৬ ওভারে। যেখানে আগে ব্যাট করে ১৮০ রানের পুঁজি পায় উইন্ডিজ। তবে নিউজিল্যান্ডের সামনে ডাক ওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে ১৭৬ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায়। অকল্যান্ডে জিমি নিশাম ও ডেভন কনওয়ের ব্যাটে ভর করে, সেই লক্ষ্য চার বল আর ৫ উইকেট হাতে রেখেই পার করে নেয় স্বাগতিকরা। আর এতেই সিরিজে ১-০’তে এগিয়ে গেল দলটি। ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হয়ে ৫ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করা লকি ফার্গুসন।

বিশাল লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই অভিজ্ঞ মার্টিন গাপটিলকে হারায় নিউজিল্যান্ড। ১৩ বলে ১৭ রান করা আরেক ওপেনার টিম সেইফার্টও বেশি সময় টেকেননি। টপ অর্ডারে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে ঠান্ডা মাথায় খেলেন অভিষিক্ত কনওয়ে। তবে উইকেটে এসে গ্লেন ফিলিপস ক্যামিও ইনিংস খেলেন। তৃতীয় উইকেটে তাদের ২৮ রানের জুটি ভাঙে ৭ বলে ২২ রান করা ফিলিপসের বিদায়ে। উইকেটে এসে চার বল খেলেও কোনো রান ছাড়াই রান আউটের শিকার হয়ে মাঠ ছাড়তে হয় রস টেলরকে।

এরপরই উইকেটে এসে ঝড় তুলেন জিমি নিশাম। এই বাঁহাতি তারকাকে তখন সঙ্গ দেন কনওয়ে। দু’জনের ৩৫ বলে ৭৭ রানের জুটি নিউজিল্যান্ডের জয় সহজ করে দেয়। কনওয়ে ২৯ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৪১ রান করে ফিরে গেলেও, অপরাজিত থেকে দলের ৫ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন নিশাম। ২৪ বলে ৫ বাউন্ডারি ও ছক্কায় খেলেন ৪৮ রানের ইনিংস। শেষদিকে মিচেল স্যান্টনারের ১৮ বলে ৩ ছক্কায় ৩১ রানের ইনিংসও কোনো অংশে কম নয়।

ক্যারিবিয়ানদের হয়ে ওশানে থমাস সর্বোচ্চ ২টি উইকেট শিকার করেন। ১টি করে উইকেট লাভ করেন শেলডন কটরেল ও কাইরন পোলার্ড।

এর আগে ১৬ ওভারের ম্যাচটিতে লকি ফার্গুসনের পেস তোপে পড়ে ধস নেমেছিল ক্যারিবিয়ানদের ব্যাটিং লাইনআপে। খাঁদের কিনারা থেকে দলকে টেনে তুলে বড় সংগ্রহ এনে দিয়েছিলেন অধিনায়ক কাইরন পোলার্ড। ম্যাচের শুরু থেকেই বিধ্বংসী ছিলেন উইন্ডিজের দুই ওপেনার আন্দ্রে ফ্লেচার ও ব্রেন্ডন কিং। তিন ওভারে মাঝেই দলের স্কোর পেরোয় ৫০ রান। তবে এক লকি ফার্গুসন এসে ওলট-পালট করে দেন সবকিছু। দলীয় ৫৮ রানে ৩ চার ও সমান ছক্কায় ১৪ বলে ৩৪ রান করা ফ্লেচারকে শুরুতে ফেরান এই তারকা। একই ওভারের শেষ বলে হেটম্যায়ারকে ফিরিয়ে ক্যারিবিয়ানদের লাগাম টেনে ধরেন কিউই পেসার।

অধিনায়ক টিম সাউদির করা পরের ওভারে ব্রেন্ডন কিং ও রোভম্যান পাওয়েলকে হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে উইন্ডিজ দল। ভরসা হতে পারেননি নিকোলাস পুরাণও। দলীয় ৫৯ রানে ফার্গুসনের শিকার হন তিনি। ১ রানের ব্যবধানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা ক্যারিবিয়ানদের ত্রাতা হয়ে দাঁড়ান অধিনায়ক পোলার্ড। খেলেন ৩৭ বলে ৭৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংস। ৮ ছক্কা ও ৪ বাউন্ডারির মারে কিউই বোলারদের নাকানি-চুবানি খাওয়ান এই ক্যারিবিয়ান তারকা। ২৬ বলে ৩০ রান করে ফ্যাবিয়েন অ্যালেন সঙ্গ দেন পোলার্ডকে।

তাদের দু’জনের ষষ্ঠ উইকেটে ৮৪ রানের জুটিই দলকে নির্ধারিত ১৬ ওভারে ৭ উইকেটে ১৮০ রানে পুঁজি এনে দেয়। ফ্যাবিয়েন ফিরে গেলেও অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন পোলার্ড। অবশ্য স্বাগতিক বোলারদের কম কৃতিত্ব ছিল না এতে। অতিরিক্ত খাত থেকে ২৬টি রান দিয়েছেন তারা। যার মাঝে ১৬টি ওয়াইড, ৪টি নো বল ৬রান এসেছে লেগ বাই থেকে। উইন্ডিজ ১৮০ রান করলেও, ডাক ওয়ার্থ লুইস পদ্ধতির কারণে ১৬ ওভারে ১৭৬ রানের লক্ষ্য ব্ল্যাকক্যাপসদের সামনে।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে ৪ ওভার বল করে ২১ রান খরচায় ৫ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ের দেখা পেয়েছেন ফার্গুসন। যার মাঝে ১৯টিই ছিল আবার ডট বল। এছাড়া অধিনায়ক সাউদি ২টি উইকেটে নিয়েছিলেন।

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/ডেস্ক/সা