পথ আলাদা হয়েছে, আমরা আলাদা হয়েছি…

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিগত দশকের শুরু থেকে সাধারণ মানের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি বদলে যেতে শুরু করে। ক্লাবের সাবেক কোচ ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনি সিটিকে ধীরে ধীরে বদলে দেওয়া শুরু করেন। আর প্রথম প্রিমিয়ার লিগ জেতার পরই মূলত সিটি গড়ে ওঠে বড় দল হিসেবে। এরপর আসে সব থেকে বড় পরিবর্তন। আমিরাতের শেখ জায়েদ আল মনসুর নামক ধনকুবের কিনে নেন সিটির মালিকানা। এরপর ক্লাবের কোচ হয়ে আসেন পেপ গার্দিওলা।

স্প্যানিশ এই ফুটবল গুরু সিটিজেনদের দায়িত্ব নেওয়ার আগের কথা, সময় তখন ২০১১ সালের ২৮ জুলাই। তখনকার সময়ের রেকর্ড ট্রান্সফারে সার্জিও অ্যাগুয়েরোকে দলে নেয় সিটি। পাঁচ বছরের চুক্তিতে। তাঁর প্রথম মৌসুম শুরু হয় সিটির সেসময়কার কোচ রবার্তো মানচিনির অধীনে। শুরুর দিকে অ্যাগুয়েরো খেলতেন ১৬ নম্বর জার্সি গায়ে। সিটির জার্সিতে বিশ্বের অন্যতম সেরা লিগে তাঁর অভিষেক হয় সোয়ানসি সিটির বিপক্ষে, বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই গোল করেছিলেন অ্যাগুয়েরো। অভিষেকে গোলের পাশাপাশি অ্যাসিস্টও করেছিলেন এই ফরোয়ার্ড।

২০১২ সালে লিগের শেষ ম্যাচে ইনজুরি টাইমে তাঁর করা গোলেই দীর্ঘ সাড়ে চার দশক বাদে শিরোপা জিতেছিল সিটি। যা ক্লাব ইতিহাসের অংশ। শিরোপা জেতানোর ম্যাচে ৯৩ মিনিটে দলের সবচেয়ে প্রয়োজনের মুহূর্তে নিজের মুন্সিয়ানা দেখিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন এই ফরোয়ার্ড। আনন্দে ফেটে পড়েছিলো অর্ধেক ম্যানচেস্টার শহর।

এরপর সময় যত গড়িয়েছে, সিটিজেনদের আপনজন হয়ে উঠেছিলেন ‘কুন’। ২০১১ থেকে শুরু হওয়া পথচলা থামছে ২০২১’এ এসে। দশ বছর একই ক্লাবে কাটানো কম নয়। কত সাফল্য, ব্যর্থতা, উচ্ছ্বাস, যন্ত্রণা লিপিবদ্ধ হয়েছে এই পথচলায়। তবু সেই পথচলা বিচ্ছিন্ন করতে চলেছেন অ্যাগুয়েরো। এই মৌসুম শেষেই তিনি সিটি ছাড়তে চলেছেন। নতুন করে এই ক্লাবের সঙ্গে আর কোনও চুক্তি করবেন না বলে তিনি জানিয়েও দিয়েছেন। ক্লাবের তরফে এক আবেগঘন বার্তায় অ্যাগুয়েরোর ক্লাব ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

ম্যানসিটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা অ্যাগুয়েরো। প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে চতুর্থ সর্বোচ্চ গোলদাতাও তিনি। ইংল্যান্ডের বাইরের কোনো প্লেয়ার হিসেবে লিগে সর্বোচ্চ গোল তাঁর। অ্যালেন শিয়েরারকে টপকে সবচেয়ে বেশি হ্যাটট্রিকের মালিকও এখন অ্যাগুয়েরো। ক্লাবটির হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৮৪ ম্যাচে রেকর্ড ২৫৭ গোল করেছেন অ্যাগুয়েরো। জিতেছেন চারটি প্রিমিয়ার লিগ, একটি এফএ কাপ ও পাঁচটি লিগ কাপ। সব মিলিয়ে প্রিমিয়ার লিগের গোলদাতার তালিকায় ১৮১ গোল নিয়ে আছেন চতুর্থ স্থানে।

বিদায়বেলায় ঘরের ছেলেকে জাঁকজমকপূর্ণ বিদায়ী সংবর্ধনা দিতে চলেছে সিটি। হোমগ্রাউন্ড ইতিহাদে তাঁর মূর্তি বসানোরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দাভিদ সিলভা, ভিনসেন্ট কোম্পানির পর তৃতীয় ফুটবলার হিসেবে ইতিহাদে অ্যাগুয়েরোর মূর্তি বসাতে চলেছে সিটি কর্তৃপক্ষ।

বিদায় ঘোষণার সময় অ্যাগুয়েরো বলেছেন, ‘দশ মৌসুমে সেরা অর্জন গুলা পেয়েছি এখানে। এই ক্লাবকে যারা ভালোবেসেছেন, তাদের বন্ধন অবিনশ্বর হয়ে থাকবে।আমাকে যারা ভালোবেসেছেন, তারা সবসময় আমার হৃদয়ে থাকবেন।’

কত সাফল্য, ব্যর্থতা, উচ্ছ্বাস, যন্ত্রণা সাক্ষী হয়েছেন অ্যাগুয়েরো- কবির ভাষায় হয়ত কোনো একদিন বলবেন, ‘পথ আলাদা হয়েছে, আমরা আলাদা হয়েছি।
তবুও রয়ে গেছে আবছা স্মৃতি!

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/ডেস্ক/১১০