নিজস্ব প্রতিবেদক:: পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ জেতায় আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বড় উন্নতি হয়েছে বাংলাদেশের। লিটন দাসের দল এখন ভারতকে টপকে আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে পাঁচ নম্বরে অবস্থান করছে।
পরপর দুই টেস্ট জেতায় টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের পয়েন্ট এখন ২৮। বাবার-রিজওয়ানদের বিপক্ষে টানা চার টেস্ট জিতলো টাইগাররা। দেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানকে টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করেছে বাংলাদেশ। ঢাকায় সিরিজের প্রথম টেস্ট জয়ের পর সিলেটে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টেও ৭৮ রানের দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে টাইগাররা। সিলেটের নয়নাভিরাম সবুজ গালিচায় ইতিহাস করলো লিটন দাসের দল। পাকিস্তানকে প্রথমবারের মতো দেশের মাটিতে হোয়াইটওয়াশ করেছে বাংলাদেশ।
আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে শীর্ষে আছে অস্ট্রেলিয়া, দ্বিতীয় স্থানে নিউজিল্যান্ড, তিনে সাউথ আফ্রিকা, চারে শ্রীলঙ্কা। পাঁচে বাংলাদেশ, ছয়ে ভারত। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সাত নম্বরে ইংল্যান্ড, আটে পাকিস্তান, সবার শেষে নয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
বাংলাদেশের জয়ের পথ আগের দিনই তৈরি করে রাখেন বোলাররা। ৪৩৭ রানের টার্গেটে খেলতে নামা পাকিস্তান চতুর্থ দিন শেষ করেছিলো ৭ উইকেটে ৩১৬ রান নিয়ে। শেষ দিনে আজ জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিলো ৩ উইকেট, পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিলো ১২১ রান। ৭৫ রানে অপরাজিত থাকা মোহাম্মদ রিজওয়ান আশা দেখাচ্ছিলেন সফরকারীদের। তবে তিনি ফিরে যাওয়ার পরপরই পাকিস্তান গুটিয়ে যায় ৩৫৮ রানে। বাংলাদেশ পায় ৭৮ রানের ঐতিহাসিক এক জয়।
তবে পঞ্চম দিনে শরিফের শিকারে রিজওয়ান ফিরে গেলে পাকিস্তানের জয়ের আশা শেষ হয়ে যায়। ইনিংের ৯৬তম ওভারের দ্বিতীয় বলে দলীয় ৩৮৫ রানে নবম উইকেটে রিজওয়ান সাজঘরে ফিরেন সেঞ্চুরির আক্ষেপ নিয়ে। ১০ চারে ১৬৮ বলে ৯৪ রানের ঝলমলে এক ইনিংস খেলেন তিনি। তার ফিরে যাওয়ার পর উইকেটে আসা শেহজাদ শুন্য রানে ফিরলে পাকিস্তান অলআউট হয়ে যায় ৩৫৮ রানে।
বাংলাদেশের দেওয়া ৪৩৭ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নামা পাকিস্তান চতুর্থ দিনের সকাল শুরু করে হতাশা দিয়ে। দলীয় ২৭ রানেই ফিরে যান ওপেনার আব্দুল্লাহ ফজল। নাহিদের শিকারে পরিণত হওয়ার আগে ২৮ বলে ৬ রান করেন তিনি। আরেক ওপেনার আজান অ্যাওয়াইসও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ব্যক্তিগত ২১ রানে প্যাভেলিয়নের পথ ধরেন তিনি। তার বিদায়ে ৪১ রানেই দুই উইকেট হারায় সফরকারীররা।
বাংলাদেশ ইনিংসের পর পাকিস্তানের হার অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যাওয়া ম্যাচটিতে সফরকারীদের আশা দেখা ষষ্ঠ উইকেট জুটি। রিজওয়ান ও সালমান আগার ১৩৪ রানের জুটিতে শঙ্কা জাগে। তবে চতুর্থ দিনের শেষ বিকেলে তাইজুল সালমানকে ফিরিয়ে ম্যাচে ফেরান বাংলাদেশকে। ইনিংসের ৮২তম ওভারের পঞ্চম বলে দলীয় ২৯৬ রানে ৭১ রান করা সালমান আগার স্ট্যাম্প ভেঙে দেন তিনি। ছয় চার ও এক ছক্কায় ১০২ বলে নিজের ইনিংসটি সাজান সালমান। তার বিদায়ের পরই বিপদে পড়ে পাকিস্তান। ৭১ রান করেন শান মাসুদ। ৪৭ রান করেন বাবর আজম।
বাংলাদেশের হয়ের তাইজুল ৬টি ও নাহিদ রানা ২টি করে উইকেট লাভ করেন।
এর আগে বাংলাদেশ নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯০ রানে অলআউট হয়। জয়, লিটনের হাফ সেঞ্চুরির পর মুশফিকুর রহিমের লড়াকু সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ পাকিস্তানকে ৪৩৭ রানের টার্গেট ছুঁড়ে দেয়। লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামা টাইগার ওপেনার জয় হাফ সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন। ৬৪ বলে ৫২ রান করেছেন তিনি। আরেক ওপেনার তানজীদ হাসান তামিম অবশ্য ইনিংস বড় করতে পারেননি। ফিরেন ৪ রানে। দিনের শেষ বেলায় ব্যক্তিগত ৩০ রানে মুমিনুল হক বিদায় নিয়ে শেষ হয় দ্বিতীয় দিনের খেলা। সকালের প্রথম সেশনে অধিনায়ক শান্ত ৪৬ বলে ১৫ রানে ফিরেছেন সাজঘরে। পাঁচ চারে ৯২ বলে ৬৯ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন লিটন দাস। ব্যাট হাতে পাকিস্তানকে শাসন করা মুশফিকুর রহিম খেলেন ১৩৭ রানের আলো ঝলমলে এক ইনিংস। ২৩৩ বল খেলে বারটি বাউন্ডারি ও একটি ওভার বাউন্ডারি হাঁকান তিনি।
পাকিস্তানের হয়ে খুররুম শেহজাদ ৪টি ও সাজিদ ৩টি করে উইকেট লাভ করেন।
এর আগে বাংলাদেশের করা ২৭৮ রানের জবাবে ব্যাট করতে নামা পাকিস্তান সকালের শুরুটা করে উইকেট হারিয়ে। বাংলাদেশের করা ২৭৮ রানের জবাবে পাকিস্তান সকালের প্রথম সেশনেই হারিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ তিন উইকেট। তাসকিন-মিরাজরা একে একে ফিরিয়ে দিয়েছেন প্রথম তিন ব্যাটসম্যান আজান অ্যাওয়াইস, আব্দুল্লাহ ফজল ও অধিনায়ক শান মাসদুকে। ইনিংসের অষ্টম ওভারে সকালে এক রান যোগ করতেই পাকিস্তান হারায় ওপেনার ফজলকে। তাসকিনের শিকারে পরিণত হওয়ার আগে ২১ বলে ৯ রান করেছেন তিনি। বাংলাদেশের গতি তারকা দ্রুত তুলে নেন আরেক উইকেট। ২৩ রা্নেই দ্বিতীয় উইকেটে অপর ওপেনার আজানকে সাজঘরে পাঠান তাসকিন। দশম ওভারের শেষ বলে ৩৪ রানে ১৩ রানে সাজঘরে ফিরেন এই ওপেনার।
তৃতীয় উইকেটে বাবরকে নিয়ে ধাক্কা সামলানোর চেষ্টা করছিলেন অধিনায়ক শান মাসুদ। তবে বেশিদুর যেতে পারেননি তারা। ইনিংসের ১৭তম ওভারের দ্বিতীয় বলে মিরাজ ফিরিয়ে দেন পাকিস্তান অধিনায়ককে। দলীয় ৬৩ রানে, ব্যক্তিগত ২১ রানে প্যাভেলিয়নের পথ ধরেন সফরকারী অধিনায়ক।
ব্যাট হাতে লড়াই করেন বাবর আজম। তার হাফ সেঞ্চুরিতেই পাকিস্তান দুই শতকের ঘর পার করে। ইনিংস সর্বোচ্চ ৬৮ রান করেন তিনি ৮৪ বলে। দশ বাউন্ডারিতে সাজান নিজের ইনিংসটি। ২৮ বলে ৩৮ রান করেন সাজিদ খান। টাইগার বোলারদের তোপে পড়ে ৫৭.৪ ওভারে ২৩২ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান।
বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ও নাহিদ রানা ৩টি করে, মিরাজ ও তাসকিন ২টি করে উইকেট লাভ করেন।
এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/ডেস্ক/০০
































