সিলেটে নিরাপত্তা ঝুঁকি, পায়ে হেঁটে হোটেলে ফুটবলার’রা

শামছুল হক মিলাদ: প্রিমিয়ার লিগ ফুটবলে নিজেদের ১৩ম রাউন্ডে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল শেখ রাসেল ও ব্রাদার্স ইউনিয়ন। মাঠের লড়াইয়ে ঘরের মাঠে অপ্রতিরোধ্য রাসেলের জয় ৩-১ গোলে। ঘরের মাঠে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে ধরে রাখা দলটি অতিথি দলকে কতটুকু শক্ত আপ্যায়ন করতে পারছে এই বিষয়ে কানাঘুষা আছে ফুটবল পাড়ায়। শুধু শেখ রাসেলের ক্ষেত্রে নয় ঘরোয়া ফুটবলের বেশ কয়েকটি ক্লাবের বিপক্ষেও এমন অভিযোগ আছে।

ঘটনার সূত্রপাত লিগের শুরু থেকেই। ৬ ভেন্যুতে খেলা আর ফুটবলের ক্রেজ বেশি না থাকায় বিষয়গুলো মাটি চাপা পড়ে আছে। তবে যে অবস্থা চলছে তাতে অশনি সংকেত দেশের ফুটবলের জন্য। দুটি ঘটনা বলা যায়।

প্রথম ঘটনা: ঢাকা আবাহনী ও শেখ রাসেলের মধ্যেকার ম্যাচ দিয়ে। লিগের বিরতির আগে ঢাকা আবাহনী এসেছিল সিলেটে অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে। সেই ম্যাচের আগের দিন অনুশীলন শেষে কোন ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই মাঠ ছেড়েছিলেন আবাহনীর ফুটবলাররা। দলটির বড় তারকা সানডো চিজোবাকে দেখা গিয়েছিল রিকশায় চড়ে হোটেলে ফিরতে। ভেতরের খবর ঐ ম্যাচে অ্যাওয়ে টিমকে মাঠের সুবিধা দিতে অনীহা ছিল হোম টিমের। পরে উপর্যুপরি ফোন কলের কল্যাণে অনুশীলন করতে পেরেছিল বর্তমান চ্যাম্পিনরা।

দ্বিতীয় ঘটনা: শেখ রাসেলের ম্যাচ ডে’র আগের দিন। গত ১৫ মে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ম্যাচের আগের দিন অনুশীলনে ছিল না পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। জেলা স্টেডিয়ামে নির্মাণ কাজ চলার কারণে টিম বাস মূল সড়কে রেখে মাঠে প্রবেশ করে শেখ রাসেল। দলটির অনুশীলন শেষে খেলোয়াড়রা যখন বাস ধরতে যান তখন তাদের সাথে নিরাপত্তায় নিয়োজিত ২-৩জন পুলিশ সদস্য ছাড়া আর কিছুই ছিল না। এমনকি ঐ নিরাপত্তা শুধু তাদের ৩-৪জন বিদেশী ফুটবলারের ক্ষেত্রে ছিল। দেশী ফুটবলাররা যেন কিছুই না! এই দলেই খেলছেন জাতীয় দলের বিপলু-আশরাফুলরা।

অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে আসায় শেখ রাসেলের কাছ থেকে নিরাপত্তা পাওয়ার কথা ছিল ব্রাদার্সের। কিন্তু ঘটনা উল্টো, দলটির পুরো অনুশীলনের সময় স্টেডিয়াম পাড়ায় দেখা মিলেনি একজন পুলিশ সদস্যেরও। এমনকি দলটি অনুশীলন শেষে টিম হোটেলে ফেরার সময়ও এমনটাই ছিল। এই বিষয়ে জানতে চাওয়ার চেষ্টায় শেখ রাসেল ম্যানেজমেন্টের সাথে ব্যর্থ হন এই প্রতিবেদক। আর ব্রাদার্সের টিম ম্যানেজার আমির খান জানান, ‘এটা পেশাদার লিগের কোন কর্মকান্ডই হতে পারেনা। বাফুফে হোম ভেন্যু করে দিয়েছে দলগুলোকে। কিন্তু দলগুলো আমাদের কি সুবিধা দিচ্ছে! ফেডারেশনে আমরা এই বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলবো।’

শেখ রাসেলের আতিথ্য নিয়ে কতটুকু সন্তোষ্ট স্পষ্ট হয়েছে তার কথায়, ‘একটা হোম দল অ্যাওয়ে দলকে সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিবে এটাই নিয়ম। কিন্তু আমরা এখানে কি পাচ্ছি। নিরাপত্তা ব্যবস্থার তো বালাই নেই। শেখ রাসেল ম্যানেজমেন্ট জানে যে তাদেরকে এখানে কেউ কিছু বলবে না। তাই তারা দায়সারা ভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। আমি তো আমাদের পাওনাটা তাদের কাছে গিয়ে চাইতে পারি না। আমির খানের কথায় স্পষ্ট নিজেদের দাবিতে তিনি সংযত!’

উল্টো আবার দাবি করেছেন স্থানীয় ক্রীড়া সংস্থা এই বিষয়গুলো দেখভালো করতে পারত। বিষয়টি নিয়ে বাফুফের সদস্য ও সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহি উদ্দিন সেলিমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই বিষয়গুলো সম্পূর্ণ হোম টিমের। আমাদের এখানে কিছু করার নেই। বাফুফে সবকিছু আগেই বলে দিয়েছে কিভাবে কি করতে হবে। এখন যদি এই রকম পরিস্থিতি চলে সেটা আমাদের ভেন্যুর জন্য এবং আমাদের সিলেটের জন্যও লজ্জার। বিষয়গুলো হোম টিমের দেখা উচিত।’

এতো শুধু সিলেটের কথা। হোম ও অ্যাওয়ে লিগ হওয়ার কারণে অন্যান্য ভেন্যুতেও খেলতে হচ্ছে সব ক্লাবকে। অন্য হোম টিমগুলো কেমন আচরণ করছে অ্যাওয়ে দলের সাথে? আমির খানের সোজা উত্তর একই অবস্থা। কোন পার্থক্য নেই। সবগুলো দলই একই ভাবে লিগ চালিয়ে যাচ্ছে এটা শুধু নামেই হোম ও অ্যাওয়ে লিগ।

হোম টিমগুলো যখন নিরাপত্তা ব্যবস্থা দিচ্ছে না তখন নিজেদের দায়িত্ব কি? প্রশ্নে কিছুটা ব্যাকফুটে আমির খান। ‘এই বছর আমাদের এই ভেন্যুতে লাস্ট ম্যাচ ছিল এটি। আগামি সময়ে যখন আসব তখন সবকিছু ঠিক করেই আসব। কিন্তু অন্য ভেন্যুতে যখন খেলা আরো আছে তখন কি করবেন সেই উত্তর পাওয়া যায়নি।’

বিশ্বব্যাপি সন্ত্রাস আর জঙ্গিবাদে উন্মাতাল হয়ে আছে। যেকোন মূর্হতে যেকোন কিছু ঘটে যেতে পারে। আর সেটা যদি হয় বাংলাদেশে অবস্থান করা কোন বিদেশীর উপর তাহলে মিডিয়ার কল্যানে সেটি পৌঁছে যাবে বিশ্বব্যাপি। তখন ক্ষতিটা ব্রার্দাস-শেখ রাসেল কিংবা বাফুফের চেয়েও বেশি আঘাত হানবে বাংলাদেশে?

ভিডিও দেখুনঃ

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/ডেস্ক/১০৪