ফিজিওর ভুলে বিশ্বকাপ খেলা হয়নি মাশরাফীর

স্পোর্টস ডেস্কঃ ২০১১ বিশ্বকাপের আগে মাশরাফীর সেই কান্নার কথা ক্রিকেটপ্রেমীরা ভুলে যাননি নিশ্চয়। তাঁর চোখের জলের দাগ এখনও লেগে আছে অসংখ্য ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে। ফিটনেস ঠিক না থাকার কারণে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ডাক পাননি ম্যাশ। এমন কথাই বলেছিলেন নির্বাচকরা। তবে এর পেছনে অনেকটা ভিলেন বনে গেছেন সেসময়কার জাতীয় দলের ফিজিও মাইকেল হেনরি। তার ভুল বা খামখেয়ালিপনার কারণেই বিশ্বকাপ খেলা হয়নি মাশরাফীর।

গতরাতে তামিম ইকবালের শেষ লাইভ আড্ডায় এসে বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক উন্মোচন করেন পূর্ণ ঘটনা। অজানা সেই ঘটনা উন্মোচনের মাধ্যমে বের হয়ে আসল তাঁর বিশ্বকাপ না খেলার আসল কারণ। মাশরাফী জানান তাঁর চিকিৎসা করা অস্ট্রেলিয়ান চিকিৎসক ডেভিড ইয়াং যে রিপোর্ট পাঠিয়েছিলেন, সেটি পুরোটা পড়ে দেখেননি হেনরি। শুধুমাত্র উপরের একটা অংশ পড়ে নির্বাচকদের একটা মতামত লিখে পাঠিয়ে দেন। যার কারণে নির্বাচকরা মাশরাফীকে আর দলে নেওয়ার সাহস পাননি।

মাশরাফী বলেন, ‘ডেভিড ইয়াং রিপোর্টটা পাঠিয়েছিল আমাদের তখনকার ফিজিও মাইকেল হেনরির কাছে। দূর্ভাগ্যজনকভাবে ও যেটা লিখে পাঠায় তখন সেই মেইলের পুরোটা ওর কাছে আসেনি। মেইলটা যখন আসে আরও পড়ুন একটা অপশন ছিল। সেই অপশনে সে (হেনরি) যায়নি। উপরের অংশ দেখেই নির্বাচকদের কাছে লিখে পাঠিয়ে দেয়।’

যেই রিপোর্ট এসেছিল, সেখানে কি লেখা ছিল? মাশরাফী সেটিও জানিয়েছেন বিস্তারিত। রিপোর্টে লেখা ছিল খেলতে পারবেন মাশরাফী। তবে সেটি নিজের সম্পূর্ণ দায়ভার থেকে। লিগামেন্ট ছিড়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। যদি লিগামেন্ট ছিড়ে যাওয়ার শঙ্কা নিয়েও মাশরাফী খেলতে চান তাহলে সেটির দায় মাশরাফীকেই নিতে হবে। মাশরাফী সেটি মেনেই বিশ্বকাপে খেলতে চেয়েছিলেন। আশায় ছিলেন দলে ডাক পাওয়ার। কিন্তু সেটি হয়নি।

তৎক্ষাণক ম্যাশ রিপোর্টের বিস্তারিত জানতে চান ডেভিড ইয়াংয়ের কাছে। তিনি বলেন, ‘এরপর আমি ডাক্তারের সাথে ফোনে কথা বলি যে তুমি বললে অপশনটা আমার হাতে। আমি খেলতে পারব, লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেলে পুরো দায় আমার। মেইলে এমনটা আসেনি কেন? তখন সে (ডেভিড ইয়াং) বলল না, আমি পুরোটা লিখেইতো পাঠিয়েছি। এরপর আমি হেনরিকে বললাম, মোবাইল চেক করো তুমি। পরে আমি যেটা দেখি সে (হেনরি) আর নিচের অপশনে যায়নি। এরপর আমাকে সরি বলে এর জন্য। কিন্তু তখন তো আর তাঁর সাথে ঝামেলা করে লাভ নাই।’

ম্যাশ এরপর আরও একটি কথা বলেন। সেসময় তাঁর স্ত্রী সুমনা হক সুমি ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা। বিশ্বকাপে টাইগারদের শেষ ম্যাচের দিনে খুব অসুস্থ হয়ে গিয়েছিলেন সুমি। মাশরাফী সেসময় কাছে থাকায় স্ত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে পেরেছেন এবং বাঁচাতে পেরেছেন নিজের স্ত্রী সুমি ও কন্যা হুমায়ারাকে।

কারণ, জন্ডিসের কারণে মাত্র ৭ মাসে প্রসব করাতে হতো সন্তানকে। তবে স্ত্রী’র বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ছিল কম। সেদিন যদি বিশ্বকাপের খেলায় দলের সাথে থাকতেন তাহলে বিষয়টা ঘটে যেতে পারতো ভিন্নরকম। তাই ফিজিওর ভুল হলেও এই বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে আফসোস নেই ম্যাশের। তাঁর মতে আল্লাহ চেয়েছেন এমনটা তাই এটি হয়েছে।

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/ডেস্ক/সা