ফুটবল বিশ্বে তুলকালাম কাণ্ড, রিয়াল-বার্সাসহ সুপার লিগে ১২ ক্লাব

স্পোর্টস ডেস্কঃ একটি বিবৃতি এসেছে গণমাধ্যমে। আর এতেই ফুটবল বিশ্বে শুরু হয়ে গেছে তুলকালাম কাণ্ড। অনেক দিন ধরে গুঞ্জন চলা বিতর্কিত ইউরোপিয়ান সুপার লিগের (ইএসএল) আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। এতে ইতিমধ্যেই বিশ্বের প্রভাবশালী ১২টি ক্লাব এক বিবৃতিতে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। এর বাইরে আরও তিনটি ক্লাব রয়েছে যারা কিনা পরবর্তীতে যোগ দিবে।

এই ১২টি ক্লাবের মধ্যে অর্ধেকই ইংল্যান্ডের। প্রিমিয়ার লিগের ‘বিগ সিক্স’ বলে পরিচিত ম্যানচেস্টার সিটি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, লিভারপুল, চেলসি, আর্সেনাল ও টটেনহ্যাম হটস্পার যোগ দিয়েছে সেখানে। এর বাইরে তিন স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা ও অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ নাম লিখিয়েছে। ইতালি থেকে আছে জুভেন্টাস, এসি মিলান ও ইন্টার মিলান।

তবে নাম লেখায়নি কোনো ফরাসি ক্লাব। নাম আসেনি জার্মান কোনো ক্লাবেরও। তবে আরও যে তিনটি ক্লাবের আসার কথা শোনা যাচ্ছে, সেখানে হয়তোবা থাকতে পারে কোনো জার্মান ক্লাব। কিন্তু জার্মান ক্লাবগুলোর নিজেদের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে না। কেননা জার্মান ফুটবলের নিয়ম অনুযায়ী ক্লাবের ৪৯ শতাংশ মালিকানা পৃষ্টপোষকদের থাকে। বৃহৎ একটি অংশের মালিকানা থাকে সমর্থকদের হাতে।

মূলত নিজেদের আর্থিক লাভের কথা চিন্তা করে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ (ইউসিএল) থেকে বেরিয়ে এসে ইএসএল আয়োজন করার ভাবনা ক্লাবগুলোর। তবে ইএসএলের ক্লাবগুলোর কর্তারা বলছেন দর্শকদের বিনোদন আর উন্মাদনা বাড়ানোই মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি আর্থিকসহ অন্যান্য সবকিছুর উন্নতি হবে। ইএসএলের প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদের প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। তিনিই সবার আগে এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন ইএসএল আয়োজনের। প্রাথমিকভাবে ক্লাবগুলোর মাঝে ২৩ বছরের জন্য চুক্তি হয়েছে।

১৫টি দলের ঘোষণা আসলেও, ২০টি দল নিয়ে আয়োজন হবে ইএসএল। বাকি পাঁচটি দল কোয়ালিফাই করে আসবে। এই ২০টি দল দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে পদ্ধতিতে খেলবে। এরপর প্রতি গ্রুপ থেকে তিনটি করে দল উত্তীর্ণ হবে কোয়ার্টার ফাইনালের জন্য। সেখান থেকে সেমিফাইনাল ও ফাইনালে যাবে দলগুলো। নারী-পুরুষ দুই দলেরই আলাদা আসর হবে। এই সুপার লিগের কাঠামোর জন্য ইতিমধ্যেই ৩৫০ কোটি ইউরোর তহবিল গড়ে তুলছে ক্লাবগুলো। জানিয়েছে ভবিষ্যতে ফিফা ও উয়েফার সাথে ভবিষ্যতে কাজ করতে চায় তারা।

তবে এমন টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই বিরোধিতা করে আসছে ফিফা ও এর নিয়ন্ত্রণাধীন উপমহাদেশীয় ফুটবল সংস্থাগুলো। এবার আরও একবার তাদের হুঁশিয়ারির সুর চওড়া হয়েছে। ইউরোপের ফুটবল সংস্থা উয়েফা জানিয়েছে এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া সব ক্লাবগুলোকে নিজেদের ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিষিদ্ধ করা হবে। একইসাথে গুঁটিকয়েক ক্লাবের নিজ স্বার্থের এমন সিদ্ধান্তগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে সবাইকে রুখে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে উয়েফা। ফিফাও সেখানে সমর্থন করেছে। আগের বার ফুটবল বিশ্বের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তি-ফুটবলারকে বিশ্বকাপে নিষেধাজ্ঞার কথা বললেও, এবার সেটি উল্লেখ করেনি। উয়েফার সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে তাদের পাশে আছে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগ লা লিগা, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, সিরি আ, লিগ ওয়ান ও বুন্দেসলিগা।

এদিকে এমন কাণ্ডে ক্ষিপ্ত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাঁক্রো। এক টুইট বার্তায় বরিস জনসন বলেন, ‘ইউরোপিয়ান সুপার লিগের পরিকল্পনা বিশ্ব ফুটবলের জন্য হবে ক্ষতিকর। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা ফুটবল কর্তৃপক্ষদের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছি। ঘরোয়া ফুটবলের কেন্দ্রকে আঘাত করবে এটি এবং দেশজুড়ে ফুটবল ভক্তদের দুর্ভাবনার কারণ হবে। পরবর্তীতে কোনো পদক্ষেপ নেয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ক্লাবগুলিকে তাদের সমর্থক ও বৃহত্তর ফুটবল সমাজের কাছে অবশ্যই উত্তর দিতে হবে।’

এছারা ফরাসি প্রেসিডেন্টের সরকারী বাসভবন থেকে পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ফুটবলের সংহতি ও ক্রীড়া চেতনাকে হুমকির মুখে ফেলে দেওয়া প্রকল্প ইউরোপিয়ান সুপার লিগে অংশ নিতে ফরাসি ক্লাবগুলির অস্বীকৃতি জানানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছে প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট। জাতীয় হোক কিংবা ইউরোপিয়ান, ফুটবলের মৌলিক প্রতিযোগিতাগুলোর মর্যাদা ও অখণ্ডতা রক্ষায় এলএফপি, এফএফএফ, উয়েফা ও ফিফার নেওয়া সব পদক্ষেপকে সমর্থন করবে ফরাসি রাষ্ট্র।’

এর বাইরে ইউরোপের অন্যান্য ক্লাবও একত্রিত হয়ে ভিন্ন পরিকল্পনা আঁটছে এমন টুর্নামেন্টকে রুখে দেওয়ার জন্য। সমর্থকদের বিশাল একটা অংশ ক্ষুব্ধও। ক্ষুব্দ হয়েছেন অনেক বর্তমান-সাবেক ফুটবলাররাও। এদিকে আজ সোমবার উয়েফার জরুরি বৈঠকে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/ডেস্ক/সা