ফয়সল ইস্যু, দায় এড়াচ্ছেন সিলেট-সুনামগঞ্জের সংগঠকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের ক্রীড়াঙ্গণে এখন আলোচিত হয়ে উঠছে বাফুফের উদাসীনতা, সিলেটের ক্রীড়া সংগঠকদের দায়িত্বহীনতা। ফুটবলের বড় কর্তাদের অবহেলাতেই অনেক স্বপ্ন নিয়ে ফুটবলে আসা সাফজয়ী গোলরক্ষক ফয়সল পেটের তাগিদে চাকরি নিয়েছে পুলিশে।

এনিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে চলছে সমালোচনা। নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করেছেন সিলেটের ফুটবল সংগঠকরা। অনেকেই বলছেন ফয়সলের মত মূল্যবান সম্পদের এ ভাবে চলে যাওয়ার কোন ভাবেই এড়াতে পারেন না সিলেট ও সুনামগঞ্জের ফুটবল সংগঠকরা।

অনেক ফুটবল সংগঠকই নিজেদের দায় এড়াচ্ছেন, ফয়সল আর বাফুফের দিকে ইঙ্গিত করছেন  তারা।

ফয়সলের এমন পরণতির কথা শুনে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক, সিলেটের কৃতি ফুটবলার আলফাজ আহমেদ শুরুতেই বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখান। এসএনপিস্পোর্টসের কাছে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে অনীহা দেখান তিনি। ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ফয়সল চাকরিতে যাবেনাতো কি করবে। গেছে ভালই হয়েছে। এখন যদি পুলিশের ফুটবল টিমে খেলতে পারে সেটিই ভালো।

সিলেট থেকে বাফুফেতে প্রতিনিধিত্ব করা ক্রীড়া সংগঠক, সিলেট জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক, বাফুফের কেন্দ্রীয় কার্য্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য মাহি উদ্দিন সেলিম বলেন, ফয়সলের এমন অবস্থা আমাকে কেউ জানায়নি। জানালে আমি সহযোগিতা করতাম। ফয়সলদের দেখার দায়িত্ব বাফুফের।

সিলেট বিভাগীয় ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি ফরহাদ হোসেন কলি বলেন, এটা আমাদের ব্যর্থতা। ফয়সল সিলেটের ছিলো। তাঁর পরিচর্যা করার দায়িত্ব আমাদের। তিনি বলেন, সিলেট থেকে বাফুফের নির্বাচিত প্রতিনিধি আছেন। আমাদের চেয়ে তার আরো বেশি দায়িত্ব ছিলো সিলেটের এই ফুটবল প্রতিভার পরিচর্যা করার। তিনি চাইলেই তা পারতেন। তবে আমাদের সকলেরই ব্যর্থতা রয়েছে এখানে।

সুনামগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান ইমদাদ রেজা চৌধুরী বলেন, আমরা যখন খবর পাই সে চাকরি নিচ্ছে, তাকে ডেনে এনে তার পড়ালেখার খরচ আমরা দেওয়ার কথা বলি। কিন্তুু অভাবের সংসার হওযায় সে চাকরিতে চলে গেছে।

সুনামগঞ্জের ফুটবল সংগঠক, সুনামগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সম্পাদক রেজওয়ানুল হক রাজা বলেন, ফয়সলকে চাকরিতে যেতে আমরা না করেছি। তবুও সে গেছে।

বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতি সিলেট জেলা শাখার সহ-সভাপতি মান্না চৌধুরী বলেন, এটা আমাদের ক্রীড়া সংগঠকদের চরম ব্যর্থতা। নেপালে দু’টি ফুটবল একাডেমি আছে। তাদের একাডেমির ছাত্র দিয়ে তারা সফলতা পাচ্ছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি ট্রফি তারা জিতেছে। অথচ আমাদের সিলেটের একাডেমিটি বন্ধ হয়ে গেছে। লিগ নিয়মিত হয় না। ফুটবলারদের পরিচর্যা করা হয়নি। এমনতো হবেই।

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/০০