বন্ধ স্থানীয় ক্রিকেটারদের রুটি-রুজি

    নিজস্ব প্রতিবেদকঃ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাংলাদেশে বন্ধ হয়েছে জাতীয় ক্রিকেট লিগ। দেশের করোনাভাইরাস পরিস্থিতির ক্রমেই অবনতি হওয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে প্রথম শ্রেণির এই টুর্নামেন্ট। তাতে চিন্তার বলিরেখা আবার পড়ল ক্রিকেটারদের কপালে। কারণ এই লিগগুলো খেলেই প্রাপ্ত অর্থ থেকে পেট চলে স্থানীয় ক্রিকেটারদের। গত এক বছরে মাঠে ফেরানো যায় নি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগও। যার কারণে আর্থিকভাবে অনেক ক্ষতির মুখে পড়েন ক্রিকেটাররা।

    গতবার ঘরোয়া ক্রিকেট বন্ধ হওয়ায় স্থানীয় ক্রিকেটারদের আয় রোজগারের পথ একদমই বন্ধ গিয়েছিল। এজন্য জেলায় জেলায় ‘খ্যাপ’ মারতে ব্যস্ত দেখা যায় তাদের। ফরহাদ রেজা, সাব্বির রহমান, মুক্তার আলী, আরিফুল হক, রনি তালুকদার, মোহাম্মদ আশরাফুল, আল-আমিন জুনিয়ররা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ক্রিকেট ফেরি করেছেন। কখনও খেলছেন ক্রিকেট বলে, কখনও টেপ টেনিসে। স্থানীয় আয়োজনে ময়মনসিংহ, নড়াইল, মাগুড়া, রাজশাহী ও সিলেটে অনুষ্ঠিত হয়েছে ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। এসব আঞ্চলিক টুর্নামেন্টে খেলে টিকে ছিলেন স্থানীয় ক্রিকেটাররা।

    এরপর শঙ্কার কালো মেঘ উড়িয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়মিত আসরগুলোর একটি জাতীয় লিগ দিয়েই গত মাসেই মাঠে ক্রিকেট ফেরায় বিসিবি। কিন্তু করোনার প্রকোপ বাড়ায় লিগের দুই রাউন্ড যেতেই বাধ্য হয়েই লিগ বন্ধ করে দিতে হয়েছে।

    বহির্বিশ্বে নতুন করে বাড়ছে করোনার প্রাদুর্ভাব। জীবন ঝুঁকির মধ্যে থাকায় দেশের জনজীবন তো স্থবির হতে শুরু করেছেই, বছর না যেতেই নতুন করে আর্থিক শঙ্কায়ও পড়ে গেছেন এক ঝাঁক ক্রিকেটারও। যারা মূলত নির্ভর করে থাকেন ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়মিত আসরগুলোর উপর। কারণ জাতীয় লিগ, ডিপিএল, বিসিএল বা বিপিএলই যে তাদের রুটি-রুজির একমাত্র অবলম্বন।

    বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতে আছেন ১৭ ক্রিকেটার। এ ছাড়া জাতীয় লিগে খেলা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের প্রায় ৮০-৯০ জনও বেতন-ভাতা পেয়ে থাকেন। এর বাইরে অনেক ক্রিকেটার আছেন, যারা প্রতি বছর এই ঢাকা লিগ খেলেই জীবিকা নির্বাহ করেন। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে একমাত্র আয়ের এই পথ বন্ধ হয়ে গেছে অনেক আগে। সেটি কাটিয়ে ফেরার সম্ভাবনা ছিল এবার। কিন্তু সে ফেরাও হলো না। নতুন করে ক্রিকেট বন্ধ করে দিতে হয়েছে বোর্ডকে।

    গত ২২ মার্চ শুরু হওয়া জাতীয় লিগের ক্রিকেটারদের মধ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছিল। সিলেট বিভাগের দলে আক্রান্ত হয়েছেন ছয় ক্রিকেটার, রংপুর বিভাগ দলের চার জন। বিভিন্ন দলের ক্রিকেটার, সাপোর্ট স্টাফ মিলিয়ে আরও ছিল। যার মধ্যে ছিলেন একজন রিজার্ভ আম্পায়ারও।

    বাংলাদেশে নতুন করে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। প্রথম ধাপে ৫ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহ থাকবে পুরো দেশ লকডাউনে। ফলে ব্যাহত হবে স্বাভাবিক জনজীবন। এর আগে থেকেই ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলা নেই। আর খেলা না থাকায় নতুন করে অনেক ক্রিকেটারের অভাব-অনটন হয়ে উঠেছে নিত্যসঙ্গী। যারা কেবল ক্রিকেটই পারেন, তারা আছেন সংকটে।