বাংলাদেশের রিভিউ না নেওয়া আর ক্যাচ মিসে ‘ভালো’ অবস্থানে শ্রীলঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক:: বাংলাদেশের করা ৩৬৫ রানের জবাবে শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় দিন শেষ করে দুই উইকেটে ১৪৩ রানে। সফরকারীরা পিছিয়ে আছে ২২২ রানে। দিনটা পুরোটাই বাংলাদেশের হতে পারতো। এবাদতের করা ২৬তম ওভারে এলবিডাব্লিউ হয়ে যদি করুনারত্মে ফিরে যেতেন সাজঘরে। কিন্তুু বাংলাদেশ রিভিউ না নেওয়ায় অর্ধশতকের আগে সে যাত্রায় বেঁচে যান এই ওপেনার। পরের ওভারেই আবারো সুযোগ ছিলো বাংরাদেশের লঙ্কানদের এই ব্যাটারকে ফেরানোর।

২৭তম ওভারে তাইজুল ক্যাচ তুলতে বাধ্য করেছিলেন করুনারত্মকে। কিন্তুু ক্যাচ হাত বন্দী করতে পারেননি মাহমুদুল হাসান জয়। শেষ পর্যন্ত এই ব্যাটারই লঙ্কানদের টানছেন। যদিও এবাদত ওই ওভারেই ওপেনার ফার্নান্দোকে ফিরিয়েছেন। শেষ বিকেলে সাকিবও শিকার করেছেন এক উইকেট।

দ্বিতীয় দিন ব্যাটিংয়ে নামা শ্রীলঙ্কা দুই ওপেনারের ব্যাটে দারুণ শুরু পায়। ওশাদা ফার্নান্দো ও করুনারত্মে দু’জনে মিলে যোগ করেন ৯৫ রান। ইনিংসের ২৬তম ওভারের ৫ম বলে ফার্নান্দোকে ব্যক্তিগত ৫৭ রানে এবাদত সাজঘরে পাঠালে ভাঙে সফরকারীদের উদ্বোধনী জুটি। তার বিদায়ের পর উইকেটে নামা কুশল মেন্ডিসকেও অবশ্য বেশিক্ষণ টিকতে দেননি সাকিব আল হাসান। দলীয় ১৩৯ রানের মাথায় লঙ্কানরা দ্বিতীয় উইকেট হারায়। ইনিংসের ৪৪তম ওভারের প্রথম বলে সাকিব এলবিডাব্লিউ’র ফাঁদে ফেলেন মেন্ডিসকে। ৪৯ বলে ১১ রান করেন তিনি। তার বিদায়ের পর ‘নাইট ওয়াচম্যান’ হিসেবে নামা কাসুন রাজিথাকে নিয়ে বাকীটা সময় নিরাপদে পার করেন করুনারত্মে। ৪৬ ওভারে ২ উইকেটে ১৪৩ রান দিন শেষ করেছেন লঙ্কানরা। সাত চারে ১২৭ বলে ৭০ রানে অপরাজিত আছেন করুনারত্মে। ১১ বল খেলে অপরাজিত থাকা রাজিথা অবশ্য রানের খাতা খুলতে পারেননি। তবে দলের টিক কাজটা করেই দিয়েছেন তিনি। শেষে বিকেলে আর কোনো উইকেট পড়তে দেননি এই নাইটওয়াচম্যান।

বাংলাদেশের হয়ে সাকিব ও এবাদত ১টি করে উইকেট নিয়েছেন।

এর আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৩৬৫ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। মধ্যাহ্ন বিরতি থেকে ফেরার খানিক পরেই অলআউট হয়ে যায় টাইগাররা। রান আউট হয়ে এবাদত হোসেন ফিরলেই স্বাগতিকদের ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে।

মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে আগের দিনের করা ৮৫ ওভারে ৫ উইকেটে ২৭৭ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। সেখান থেকে ১১৩ ওভারে ৯ উইকেটের বিনিময়ে ৩৬১ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশন পার করেছে স্বাগতিকরা। মধ্যাহ্ন বিরতি থেকে দ্বিতীয় সেশনে ফেরার পর ৩.২ ওভার মাত্র ব্যাট করতে পারে বাংলাদেশ। এরপরই ৩৬৫ রানে অলআউট হয় দল।

পাঁচ উইকেটে ২৭৭ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ নিজেদের ষষ্ঠ উইকেট হারিয়েছে ২৯৬ রানে। সকালে খুব বেশি সময় ঠেকেনি মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাসের বীরত্বগাঁথা জুটি। উইকেটরক্ষক ব্যাটার লিটনের বিদায়ে ভাঙে মুশফিকের সাথে তার ইতিহাস গড়া ২৭২ রানের অসামান্য এক জুটির।

টেস্ট ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস খেলে ফিরেন লিটন দাস। দলের বিপর্যয়ে মাঠে নেমে হাল ধরেছিলেন। দলকে অনেকটা নিরাপদে পৌঁছে দ্বিতীয় দিন সকালের প্রথম সেশনে তিনি ফিরেছেন ব্যাক্তিগত ১৪১ রান। ২৪৬ বলের ঝলমলে আর দায়িত্বশীল ইনিংসটি তিনি সাজিয়েছেন ১৮টি চার ও ১টি ছক্কায়। সাদা পোশাকে এর আগে ১১৪ রান ছিল তার ক্যারিয়ার সেরা।

লিটনের বিদায়ের পর উইকেটে আসা মোসাদ্দেক কোনো রান সংগ্রহের আগেই ফিরেছেন সাজঘরে। ৩ বল খেলে ‘ডাক’ মেরে রীতিমতো উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছেন এই ব্যাটার। একই ওভারে লিটন-মোসাদ্দেককে ফিরিয়ে কাসুন রাজিথা পূরণ করেন পাঁচ উইকেট। ক্যারিয়ারে যেটি তার এবারই প্রথম।

পরবর্তীতে উইকেটে আসেন তাইজুল ইসলাম। তিনি এসে মুশফিককে বেশ ভালোভাবেই সঙ্গ দিচ্ছিলেন। তবে দুজনের ৪৯ রানের দারুণ জুটির সমাপ্তি হয় তাইজুলের বিদায়ে। আসিথা ফার্নান্দোর বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তাইজুল। এর আগে খেলে যান ৩৭ বলে ২ বাউন্ডারিতে ১৫ রানের ইনিংস। উইকেটে আসা খালেদ আহমেদ ফিরেন ২ বলে ডাক মেরে।

শেষ উইকেটে লড়াই চালান মুশফিক ও এবাদত। দুজনের ১২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে মধ্যাহ্ন বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। যদিও এর মাঝে একবার রিভিউ নিয়ে জীবন পান এবাদত। তবে মধ্যাহ্ন বিরতি থেকে ফেরার খানিক পর এবাদত রানআউট হয়ে ফিরলে ভেঙে যায় তার সাথে মুশির ১৬ রানের জুটি। এবাদত ১৬ বল খেলে কোনো রান না করেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন। এতে করে ইনিংসে ষষ্ঠ ব্যাটার হিসেবে ডাক মারলেন তিনি।

তবে একপ্রান্তে অপরাজিত থেকে গেছেন লড়াই করা মুশফিকুর রহিম। ৩৫৫ বলে ২১ বাউন্ডারিতে ১৭৫ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছেড়েছেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল। অল্পের জন্য হলো না আরও একটি ডাবল সেঞ্চুরির।যদি সেটি হতো তাহলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় ও ক্যারিয়ারের চতুর্থ ডাবল সেঞ্চুরির দেখা পেতেন। তবে সেটা না হলে, বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের প্রথম ব্যাটার হিসেবে পাঁচ বার দেড়শ পার করা ইনিংস খেলেছেন তিনি।

আর তাঁর এই ইনিংস ইতিহাসে থাকবে অনন্যভাবে। ধ্বংসস্তূপ থেকে দলকে তিনি আর লিটন দাস ২৭২ রানের জুটি গড়ে যেভাবে টেনে তুলে ছিলেন, সেটা ছিল অনবদ্য। বাংলাদেশের তো বটেই টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে ২৫ রানের মধ্য পাঁচ উইকেট হারানোর পর এমন জুটি কেউই করতে পারেনি। তাই স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে দুজনের এই জুটি।

এর আগে ১৯৫৯ সালে উইন্ডিজের বিপক্ষে ২২ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর ৮৬ রান যোগ করেছিলেন পাকিস্তানের ওয়ালিস ম্যাথিয়াস ও সুজাউদ্দিন। এবার তাদের ছাড়িয়ে গিয়ে নতুন উচ্চতা স্থাপন করেছেন মুশফিক-লিটন। এর বাইরে বাংলাদেশের হয়ে ষষ্ঠ উইকেটে বাংলাদেশের হয়ে রেকর্ড জুটি করেছেন লিটন ও মুশফিক। বাংলাদেশ যখন টপ অর্ডারে তামিম-সাকিবদের ‘ডাক’ মেরে ফিরে যাওয়ায় ধুঁকছিল, তখনই এমন অনবদ্য ব্যাটিং করে ম্যাচের মোড় পাল্টে দেন দুজন। এসবের বাইরে ব্যর্থ হন নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হকরাও।

শ্রীলঙ্কার হয়ে প্রথম ইনিংসে কাসুন রাজিথা ৫টি ও অসিতা ফার্নান্দো ৪টি করে উইকেট লাভ করেন।

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/০০