বাংলাদেশ আমার পরিবার, এই দেশের জার্সি গায়ে প্রতিনিধিত্ব করতে চাই- ফুটবলার কিংসলে

বিশ্ব ফুটবলের বিশ্বায়নের যুগে এক দেশের খেলোয়াড় অন্য দেশে খেলাটা এখন স্বাভাবিক। বিশেষ করে ৮০ ও ৯০ দশকের শুরু থেকে ইউরোপের ফুটবলের বিশেষ প্রসারের ফলে আফ্রিকা, আমেরিকা থেকে খেলোয়াড়রা পাড়ি জমাতেন ইউরোপের জনপ্রিয় লিগগুলোতে খেলার জন্য। সেই ধারাবাহিকতা এখনো বজায় রয়েছে, এবং তা তুঙ্গস্পর্শী জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। ইউরোপের পর এশিয়াতে জমে উঠেছে ফুটবল লিগগুলো। বিশেষ করে চীনের ফুটবল লিগ এখন এশিয়ার সেরা বটে। ইউরোপের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বড় তারকাদের দলে নিয়েছে বিভিন্ন দল। তেভেজ, অস্কার,হাল্ক, লাভেজ্জি এখন ইউরোপ ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছেন এশিয়াতে।

এশিয়ার বিভিন্ন লিগ জমে উঠায় এশিয়াতে খেলতে আগ্রহী বিশ্বের অন্যান্য দেশের খেলোয়াড়রা। ৯ বছর ধরে প্রিমিয়ার লিগের মর্যাদা পাওয়া বিপিএল এবারের আসর দশম। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে আফ্রিকান খেলোয়াড়দের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। নাইজেরিয়া, ঘানা, ইথিওপিয়ার খেলোয়াড়দের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। এছাড়া, মরক্কো, হাইতি, মিশর, ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের উপস্থিতি মাঝেমধ্যে চোখে পড়ে।

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের দৈন্যদশা দেখে ২০১৫ সালের দিকে হঠাৎ করেই বাফুফে তৎপর হয়ে বিদেশী খেলোয়াড়দের নাগরিকত্ব দিয়ে জাতীয় দলে নেওয়ার। আর তাতে বিভিন্ন মহলের সমালোচনায় অবশেষ পিছু হঠতে বাধ্য হয় বাফুফে। বাংলাদেশের হয়ে খেলার স্বপ্নপূরণ হয় নি সামাদ ইউসুফ, ইসমাঈল বাঙ্গুরা, কিংসলে চিগোজির। যারা বাংলাদেশে খেলছে পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে।

২০১২ সালে বাংলাদেশ পেশাদার ফুটবল লিগের দল মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র দিয়ে এদেশের ফুটবলে যাত্রা শুরু করেন নাইজেরিয়ান এলিটা কিংসলে। পেশাদার ফুটবলার হিসেবে দল পরির্বতন করলে পাল্টায় নি দেশ। মুক্তিযোদ্ধা চট্রগ্রাম আবাহনী হয়ে এখন টিম বিজেএমসিতে। পাঁচ বছর বাংলাদেশে বসবাস করে বিয়ে করেছেন বাংলাদেশী এক মেয়েকে। তাদের পরিবারের রয়েছে এক কন্যা সন্তান। দীর্ঘদিন বাংলাদেশের ফুটবলে থাকায় আর এদেশে সংসার গড়ায় এখন পুরো দুস্তর বাঙালী বলা যায় কিংসলেকে। ২০১৫ সালে শেখ কামাল ক্লাব কাপের সর্বোচ্চ এই গোলস্কোরার বাংলাদেশের পতাকা গাঁয়ে জড়িয়ে ফুটবল প্রেমীদের মনে ধরেছেন। অনেকেই বলছেন নাগরিকত্ব পেলে কিংসলেকে বাংলাদেশ দলে খেলতে দেওয়া উচিত। কারণ তার পরিবারটা বাঙালি।

বাংলাদেশের ক্লাব ফুটবল খেলা, পরিবার,আর বাংলাদেশ জাতীয় দলে খেলার ব্যপারে কিংসলের পরিকল্পনা জানাচ্ছেন নিউজ ইনচার্জ শামসুল হক মিলাদ ও প্রতিবেদক খালেদ আহমদ । পাঠকদের জন্য এর চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো।

এসএনপিস্পোর্টস: প্রিমিয়ার লিগে বর্তমান দলের হয়ে আপনার পরিকল্পনা কি? লিগে নিজেকে কোথায় দেখতে চান?

কিংসলে: আসলে লিগটা মাত্র শুরু হয়েছে। মাত্রই কয়েক রাউন্ড আমরা খেলেছি। প্রথম পর্বটা এখনো শেষ হয় নি। তাই আপাতত কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে আমার মূল ফোকাস ম্যাচ বাই ম্যাচ এগিয়ে যাওয়া। এটা ধরে খেলতে পারলে লিগের শেষ পর্যায়ে একটা ভালো রেজাল্ট পাবো বলে আশা করছি।

এসএনপিস্পোর্টস: দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার মাঠে খেলছেন কেমন উপভোগ করছেন ঢাকার ফুটবল।

কিংসলে: বাংলাদেশে আছি পাঁচ বছর হতে চললো। এখানের মানুষেরা খুবই দারুণ ও আন্তরিক। ঢাকার ফুটবল উপভোগ করাটা নতুন কিছু নয়। উপভোগ করছি বলেই খেলছি এবং ভবিষ্যৎ আরো কিছুদিন খেলতে চাই। কারণ সংসারটা তো এখানেই। হাসি….

এসএনপিস্পোর্টস: ২০১৫ সালে শেখ কামাল ক্লাব কাপ খেলার পর বাংলাদেশ ফুটবল দল নিয়ে নিজের একটা পরিকল্পনা জানিয়ে ছিলেন ?

কিংসলে: আসলে ঐ সময়ে এই বিষয়ে খুব কথা হচ্ছিল। আর ঐ আসরে খেলার পর বাংলাদেশের দর্শক সম্পর্কে একটা ভালো ধারণা ও ভালোবাসা তৈরী হয়েছিলো। তাই আমি খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলাম। যদি সুযোগ হয়, কিন্তু এটাতো আপাতত বন্ধ আছে।

এসএনপিস্পোর্টস: এই আসরের আগে বাংলাদেশের দর্শক সম্পর্কে কেমন ধারণা ছিলো?

কিংসলে: আমরা যখন ঢাকার মাঠে খেলি তখন কিন্তু খুব কমই দর্শক দেখা যায়। মনে হয় যে, এদেশে ফুটবলটা কিছু না। কিন্তু চট্রগ্রামে খেলার পর ধারণা পাল্টেছে এদেশের মানুষ ফুটবল পছন্দ করে।

এসএনপিস্পোর্টস: শেষ প্রশ্ন, নাগরিকত্ব পেলে কি লাল -সবুজের জার্সি গায়ে উঠানোর ইচ্ছা আছে আপনার?

কিংসলে: হ্যাঁ, যদি সুযোগ হয় বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার আমি সেটা করবো। আমি এদেশের জার্সি গায়ে খেলতে আগ্রহী।

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/খা/১০৪