বাংলার ফুটবলে বছর সেরা তিন ‘আবিষ্কার’

আশিক উদ্দিন:  দেশের ফুটবল থেকে চলে গেলো আরো একটি ফুটবল বর্ষপঞ্জিকা। বিদায়ী ২০১৭ সালের ক্রান্তিলগ্নে এসে এবার পেছনে ফিরে তাকানোর পালা। বিদায় নিতে যাওয়া এক বছর কেমন কাটিয়েছে বাংলাদেশের ফুটবল? ফ্ল্যাশব্যাকে মিলবে অনেক পাওয়া না পাওয়ার স্মৃতি। দেশের ফুটবলের বিদায়ী বর্ষপঞ্জিকার কোন কোন স্মৃতি আপনাকে হাসাবে আবার কোনটা দিবে একরাশ হতাশা। যা ক্ষত তৈরি করে দিতে পারে দেশের ফুটবলের একনিষ্ঠ একজন ভক্তকে। আবার ভয়ংকর কোন সুন্দর স্মৃতি আপনাকে একটু মুচকি হাসিয়েই ছাড়বে।

বছরের অন্তিম মুহূর্তে এসে বিদায়ী বছরে দেশের ফুটবলের কিছু ‘মিষ্টি মধুর’ স্মৃতি তৈরি করে যাওয়া তারকাদের নিয়ে এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম পাঠকদের জন্য থাকছে আজকের এই আয়োজন। বছর সেরার মধ্যে তিনজন সেরা তারকার আবিষ্কার, যাদের বিভিন্ন প্রেক্ষাপট, সময় ও পারফরমেন্স বিবেচনায় সেরা বলে গণ্য করা যায়।

সেরা তিন চমকের একজন বলা যায় যুব দলের জাফর ইকবাল। বাংলাদেশের হয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ চ্যাম্পিয়নশিপে দুর্দান্ত পারফর্ম করে দেখিয়েছেন বান্দরবনের এই ফুটবলার। ২০১৭ সালে যুবাদের সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে ৪ ম্যাচ খেলে ৫ গোল করেন এই সম্ভাবনাময় তরুণ। যেখানে জোড়া গোল করেন ভারত ও ভুটানের বিপক্ষে। নেপালের সাথে পয়েন্ট ভাগাভাগি হওয়ায় সাফের শিরোপা জেতা হয় নি জাফরদের।

এছাড়া এএফসি অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইয়েও খেলেছেন পার্বত্য জেলার এই স্ট্রাইকার। চট্টগ্রাম দ্বিতীয় বিভাগ লিগ, চট্টগ্রাম পাইওনিয়ার লিগ খেলে ঢাকার মাঠে আগমন জাফরের। সেখানে গত মৌসুমে মর্যাদার প্রিমিয়ার লিগে আরামবাগের হয়ে ৫ গোল করে আলোচনায় আসেন তিনি। চলতি মৌসুমে চট্টগ্রাম আবাহনীতে নাম লেখান জাফর। যদিও ম্যাচে তেমন দেখা যায় না জাফরকে। মৌসুমের শুরুর দিকে অসুস্থ হয়ে পড়ায় পরবর্তীতে ক্লাবের ম্যাচে নিয়মিত হতে পারেন নি। বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছেন কয়েক ম্যাচ। ক্লাবে খেলা না হলেও জাতীয় বয়স ভিত্তিক দলে ঠিকই পারফর্ম করে যাচ্ছেন জাফর। যা দেশের ফুটবলের আলো জ্বালাতে আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করবে।

চলতি মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে শুরুর পাঁচ ম্যাচে টানা ৫ গোল করে রেকর্ড করে বসেন চট্টগ্রাম আবাহনীর তৌহিদ আলম সবুজ। জাতীয় দলে হাতেখড়ি অনেক আগে এই স্ট্রাইকারের। অভিজ্ঞতা আর ফিটনেস দিয়ে নিজেকে নিয়ে যাচ্ছেন অনন্য উচ্চতায়। টানা ম্যাচে ভালো খেলা যেকোনো দলেরই জন্য ইতিবাচক। সবুজ নিজের সেরা দিয়েই চলেছেন ম্যাচের পর ম্যাচ। ফলাফলও পায় দল। পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষ থেকেই শেষ করার কথা ছিলো লিগ। কিন্তু লিগ শিরোপার কাছাকাছি এসে অর্থাৎ লিগের শেষের রাউন্ড গুলোয় এসে খেই হারিয়ে ফেলেছে সবুজের বন্দরনগরীর দলটি। ফলে বর্তমান অবস্থান পয়েন্ট তালিকার তিনে।

আরেকজন তো ঢাকার মাঠে রীতিমতো ম্যারাডোনা সুলভ গোল দেখিয়ে দিয়েছেন। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ইংলিশদের ছয় ফুটবলারকে কাটিয়ে ম্যারাডোনার সেই ঐতিহাসিক গোল। যা তাক লাগিয়ে দেয় বিশ্বের কোটি ফুটবল ভক্তকে। নব্বইয়ের দশকের ম্যারাডোনার সেই গোলের স্মৃতি এখনো ভুলতে পারেন নি অনেকে। ২০১৭ সালে ঠিক ম্যারাডোনা সুলভ এক গোল দেখলো বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম। প্রিমিয়ার লিগে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের মতিন মিয়া মুক্তিযোদ্ধা ক্লাবের পাঁচ ফুটবলারকে কাটিয়ে অবিশ্বাস্য এক গোল করেন। চোখে লাগার মতো মতিনের সেই গোল বাফুফে কর্তারা ভাবছেন পুসকাসে পাঠাবেন।

গ্রামের মাঠ থেকে ঢাকার মাঠে রীতিমতো ধাপিয়ে ভেড়াচ্ছেন ছিপছিপে দেহের অধিকারী মতিন। রয়েছে ড্রিবলিং আর বল পায়ে দ্রুত দৌঁড়ানোর ক্ষমতা। প্রিমিয়ার লিগে সাইফের জার্সি গায়ে নিয়মিত মাঠে নামছেন মতিন। খেলেও যাচ্ছেন বেশ, নামডাক কুড়াতে একটু সময় নেন নি। অন্ধকারাচ্ছন্ন জাতীয় দলের আগামী দিনের কাণ্ডারির ভূমিকায় মতিন-সবুজ-জাফরদের মতো ফরোয়ার্ডদের বড্ড প্রয়োজন, কেননা ওদের পায়ে আছে গোলের জাদু। সাথে ফিটনেস আর স্কিল।

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/আশি/১০৪