স্পোর্টস ডেস্ক:: নিষ্প্রভ এক সিআর সেভেন। কেউ বল পাস দেয় না, সতীর্থরা যেনো ইচ্ছে করেই পুরো ম্যাচে এক সময়ের দলের সেরা তারকাকে এড়িয়ে গেছেন। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলেছেন। স্পেনের গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারেননি। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর আরো একটি বিশ্বকাপ শেষ হলো ব্যর্থতায়, হতাশায়। সেই সাথে শেষ হলো পর্তুগালের জার্সিতে এক মহা তারকার।
ম্যাচে শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই মাঠে অশ্রু সজল ক্রিস্টিয়ানো। কিন্তুু সেদিকে যেনো ভ্রুক্ষেপ নেই কারো। রোনালদো মাঠে তখন যেন এক নির্জন বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। সতীর্থদের খুব একটা পাত্তা পেলেন না। কেউ কেউ নির্লিপ্তভাবে এসে হাত মিলিয়ে আলিঙ্গন করে গেলেন। তবে সেটা বেশ দৃস্টিকটুই মনে হয়েছে। ব্যর্থ রোনালদোর গুরুত্ব যেনো নেই কারোর কাছেই।
অনেকেই কাতার বিশ্বকাপে রোনালদোর শেষ দেখে ছিলেন। মরক্কোর কাছে শেষ আটে হারের পর ক্রন্দনরত এই তারকাকে দেখে অনেকেই ধরে ছিলেন পর্তুগালের জার্সিতে শেষবার মাঠে নামা হলো না। তবে তিনি থামেননি, বয়স আর ফিটনেসকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আরো চার বছর লড়াই করেছেন। এবারের বিশ্বকাপেও নিজেকে নিয়ে গেছেন। কিন্তুু তারুণ্যদীপ্ত সেই রোনালদোকে দেখা গেলো না এবারের বিশ্বকাপে। জোর করে যে ফুটবল খেলা যায় না, সেটাই যেনো বুঝিয়ে দিলো সিআর সেভেনের এবারের পারফরম্যান্স।
পুরো বিশ্বকাপে রোনালদো যেনে নিজের সতীর্থদের সঙ্গেই লড়াই করেছেন। তাঁকে সহজে কেউ পাস দেয় না, তিনি প্রতিপক্ষের মার্কারকে ছিটকে সামনে এগিয়ে দলের জন্যও দারুণ কিছু করতে পারেননি। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে নিষ্প্রভ থাকার পর সতীর্থদের কথাতেও ছিল কটাক্ষের সুর। মাঠের খেলা এবং বাইরের আলাপে মনে হচ্ছিল, রোনালদো মাঠে আছেন জোর করে। সবার ইচ্ছার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে তিনি চেষ্টা করছেন অবিশ্বাস্য কিছু করার।
ম্যাচ শেষে রোনালদোর পারফরম্যান্স নিয়ে সাবেক ইংলিশ ফরোয়ার্ড ক্রিস সাটন বলেছেন, ‘একজন সেন্টার ফরোয়ার্ডকে নড়াচড়া করতে হয়, খেলায় অবদান রাখতে হয়, প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে হয়। তাঁর খেলায় বৈচিত্র্য থাকতে হয়। কিন্তু রোনালদোর মধ্যে কিছুই ছিল না। তিনি যেন মাঠে একজন বৃদ্ধ মানুষের মতো ধীরে ধীরে হাঁটছিলেন। এ কারণেই পর্তুগাল বিদায় নিয়েছে। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো আজ কিছুই করতে পারেননি। সত্যি বলতে, তিনি কোনো প্রভাবই রাখতে পারেননি। এই পর্তুগাল দলে অসাধারণ অনেক ফুটবলার আছেন। তাঁদের অনেকেরই মনে হবে, এই বিশ্বকাপটা খেলতে এসে তাঁদের সময় নষ্ট হয়েছে।’
বিবিসি ওয়ানে সাবেক ইংল্যান্ড স্ট্রাইকার ওয়েইন রুনি যেমনটা বললেন, ‘রোনালদোর মতো একজন খেলোয়াড়কে হারানোর মধ্য দিয়েই পর্তুগালের নতুন যুগের শুরু হলো। তাঁর উপস্থিতিতে হয়তো কিছু খেলোয়াড় সব সময়ই তাঁর ছায়ায় ঢাকা পড়ে ছিল। অবশ্য তিনি ফুটবলে যা অর্জন করেছেন, তাতে এমনটা হওয়াই স্বাভাবিক। এখন অন্যদের সামনে নিজেকে পর্তুগালের প্রধান ভরসা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ এসেছে। অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের দায়িত্ব আরও বেশি করে কাঁধে তুলে নিতে হবে। একই সঙ্গে তরুণদেরও নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর সময় এসে গেছে।’
এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/ডেস্ক/০০
































