বিদায়ী বছরে রক্ষা পেয়েছেন সিনিয়র ক্রিকেটাররা, এসেছে সেরা দুই জয়

তানজীল শাহরিয়ার:: ২০১৭- বাংলাদেশের ক্রিকেটে তাৎপর্যমণ্ডিত একটি বছর। ২০১৫ বিশ্বকাপের পর থেকে দুর্দান্ত ধারাবাotete-lekokহিক বাংলাদেশ এ বছর সেই ফর্ম  পুরোপুরি টেনে নিয়ে যেতে না পারলেও সাফল্যের নিরিখে পিছিয়ে ছিলো না।

২০১৭ সালে মোট নয়টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। জয় এসেছে দু’টিতে। জয়ের পাল্লাটা হালকা মনে হলেও শততম টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তাদের মাটিতেই জয়লাভ করা ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে। অন্যদিকে, ঘরের মাঠে পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সিরিজ ড্র করেছিলো টাইগাররা।

এই দুই জয় বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট সাফল্যের ইতিহাসে অনন্য অর্জন হয়ে থাকবে নিঃসন্দেহে।
oli-bi
এ বছর আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিলো, ইন্ডিয়ায় প্রথমবার বাংলাদেশ টেস্ট খেলেছে। হায়দ্রাবাদে ২০৮ রানে হারলেও বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিলো আশাব্যঞ্জক।

বছরের শুরুর দিকে নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়ে নাকানিচুবানি খেতে হয়েছিলো বাংলাদেশ কে। টেস্ট, ওয়ানডে, টি২০- কোনো ফরম্যাটেই সাফল্য পায়নি লাল সবুজ জার্সিধারীরা। ওয়ানডে ম্যাচগুলোতে তীব্র প্রতিদ্বন্দিতা গড়ে তুললেও পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে দল কে।

ওয়ানডে ফরম্যাটে এ বছর বাংলাদেশ দারুণ কিছু সাফল্য অর্জন করেছে। ডাম্বুলায় শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ওয়ানডে ফরম্যাটে জয়ের শুভ সূচনা করলেও, অন্যান্য বছরের মতো ধারাবাহিকতা রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। ১৪ ওয়ানডে ম্যাচ খেলে চার জয়, সেটিই প্রকাশ করছে। তবে সেই অধারাবাহিকতা  টাইগাররা ঢেকে দিয়েছিলো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমি ফাইনালে জায়গা করে নিয়ে। পরাশক্তি আর দুর্দান্ত পারফর্ম করা বিভিন্ন দেশ কে টপকে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিতে উঠে চমকে দিয়েছিলো বিশ্ববাসিকে।

বছরের শেষ সিরিজে সাউথ আফ্রিকা গিয়ে কোনো সুবিধাই করতে পারেনি বাংলাদেশ। তিন ফরম্যাটেই বাজেভাবে হেরেছে। সাথে ছিলো বিভিন্ন ক্রিকেটারের ইনজুরি সমস্যা। মাঠের ক্রিকেটে পারফর্ম ছিলো হতাশাজনক। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে কোচের বিতর্কিত আচরণ নিয়ে সমালোচনা। এই সিরিজ শেষ হবার আগেই কোচের সাথে ক্রিকেটার এবং বিসিবির টানাপোড়েন প্রকাশ্য হয়ে ওঠে।

মাঠের ক্রিকেট নিয়ে এই বছর অনেক উচ্ছ্বাস-উদ্দীপনা ছিলো। মাঠের বাইরের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা-সমালোচনা চায়ের কাপে ঝড় তুলেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিলো মাশরাফি বিন মর্তুজার টি২০ ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা। এই খবর দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিলো। বিদায়ী ম্যাচে মাশরাফি জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছিলেন।

এছাড়া মুমিনুল হক, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ কে টেস্ট দল থেকে বাদ দেয়া, সৌম্য, সাব্বির কে পারফর্ম না করা সত্ত্বেও নিয়মিত খেলানো। সাবেক কোচ চন্দ্রিকা হাথুরুসিংহের বিভিন্ন খামখেয়ালী সিদ্ধান্ত দেশের ক্রিকেট প্রেমি দর্শক কে সমালোচনামুখর করে তুলেছে। সিনিয়র ক্রিকেটারদের নিয়ে কোচের নোংরা পরিকল্পনাও ফাঁস হয়ে যায় গণমাধ্যমে। তিনি সিনিয়র ক্রিকেটারদের দল থেকে ধীরে ধীরে বাদ দেবার অপচেষ্টায় মত্ত ছিলেন। তবে বিদায়ী বছরের শেষে হাথুরুসিংহের বিদায়ে সিনিয়ররা রক্ষা পেয়েছেন।

সেই কোচ বাংলাদেশের দায়িত্ব ছেড়েছেন, এটাও বেশ আলোচিত ঘটনা এই বছরের। মাশরাফির অবসরের পর সাকিব আল হাসান কে টি২০ দলের অধিনায়কত্ব দেয়া হয়েছিলো। বছরের শেষ ভাগে বিসিবি সাকিব কে টেস্ট অধিনায়ক, মাহমুদুল্লাহ কে সহ-অধিনায়ক হিসেবে মনোনীত করেছে। এর আগে মুশফিকুর রহিম টেস্ট অধিনায়ক, তামিম ইকবাল সহ অধিনায়ক ছিলেন ক্রিকেটের প্রাচীন এই সংস্করণে।

মাঠের খেলায় ধারাবাহিক উন্নতির ছাপ ছিলো এই বছর। ইনজুরি থেকে ফিরে এসেছেন কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান। মেহেদি হাসান মিরাজ বল হাতে ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছেন। সাকিব-মাহমুদুল্লাহ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এক ইনিংসে জোড়া সেঞ্চুরি করে দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছেন। এসব আগামি বছর আরো ভালো পারফর্ম করার আত্মবিশ্বাসে জ্বালানির যোগান দেবে সন্দেহ নেই।

এফটিপি-তে বাড়ছে আরো বেশি টেস্ট ম্যাচ খেলার সুযোগ। পারফরম্যান্সের উজ্জ্বলতায় সব দেশই বাংলাদেশের সাথে সিরিজ খেলতে উৎসাহী। সবকিছু মিলিয়ে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ দুর্দান্ত কিছু সাফল্য উপহার দেবে, সেই প্রত্যাশায় আছে দেশের অজস্র ক্রিকেটপ্রেমি দর্শক।

লেখক: ক্রীড়া লেখক।

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/০০