বিপিএলের নেট বোলার থেকেই বিপিএল স্কোয়াডে রাজা

জিয়াউল ইসলাম:: খেলেননি বয়স ভিত্তিক কোনো দলে। তখনো খেলা হয়নি সিলেট লিগেও। ওসামনীনগর থেকে সোজা ঢাকায়, প্রিমিয়ার লিগে খেলার পরই খেলেন সিলেট লিগে। এর মধ্যে আবার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেটের নেট বোলার। সেই রেজাউর রহমান রাজা এবার প্রিমিয়ার লিগের স্কোয়াডে। বিপিএলে নেট বোলিং করেছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স, রাজশাহী কিংসের মতো দলগুলোর অনুশীলনে।

অনেকটা বিস্ময়কর সাফল্যও সিলেটের পেসার রাজার। টেপ-টেনিস খেলতে গ্রামে-গঞ্জে। পেসার হান্ট হচ্ছে শুনে অন্যদের মতো তিনিও নাম লেখালেন। তাতেই বাজিমাত। গতি, লাইন-লেন্থ চোখে পড়ে কোচদের। সুযোগ মিলে যায় প্রিমিয়ার লিগে।

ততদিনে রাজা পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন। এরপরই সুযোগ মিলে সিলেট প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগে। মোহামেডানের হয়ে খেলেন সিলেট লিগে। গতিময় বোলার খ্যাতি পেয়ে যাওয়ায় ডাক আসে বিপিএলের নেট বোলারে। সেখানেই নজরে পড়েন কোচ ও নির্বাচকদের।

ডাক আসে বাংলাদেশ টেস্ট স্কোয়াডে। যদিও অভিষেক হয়নি। তবে আর পেছনে ফেরে থাকাতে হচ্ছে না সিলেটের এই পেসারকে। নির্বাচকেরা বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেটের প্লেয়ার্স ড্রাফটে তুলেন। সেখান থেকেই চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স দলে ভিড়িয়েছে এই পেসারকে। যেখানে জাতীয় দলের অনেক বোলারই বিপিএলে দল পাননি, সেখানে তরুণ রাজা দল পেয়ে দারুণ খুশি। করতে চান ভালো কিছু।

বয়স ভিত্তিক কোনো দলে না খেললেও রাজা গতির কারণে খুব দ্রুত পরিচিত হয়ে উঠেন। এরপর কেলেছে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে। বাংলাদেশ এইচপি দল ও ইমার্জিং দলের হয়ে লিস্ট ‘এ’ ম্যাচেও হাতেখড়ি হয়েছে ইতোমধ্যে।

এইচপি দলে চম্পাকা রামানায়েকের হাত ধরে বেশ খেটেছিলেন রাজা। যার ফলও পেলেন এবার। বাংলাদেশ দল যখন পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুরে সম্প্রতি শেষ হওয়া টি-টোয়েন্টি খেলছিল তখন টেস্ট দলের সম্ভাব্য বাকি সদস্যরা নিজেদের ঝালাই করছিল চট্টগ্রামে। সেখানে টেস্ট দলের বাকি কয়েকজনের নেট বোলার ছিলেন রাজা। তাসকিন-শরিফুলের চোটে নির্বাচকদের বিকল্প ভাবনায় রাজার নামই প্রথমে ছিল! এবার জাতীয় লিগে তার পারফরম্যান্স এমনিতেই নজর কেড়েছিল নির্বাচকদের। এর আগে ডানহাতি এই পেসারকে যখন এইচপি দলে ডাকা হয়, প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু তখন বলেছিলেন; ‘সম্ভাবনা দেখছেন রাজার মধ্যে’।

অথচ এইচপি বা ক্রিকেট বলে রাজার খেলার গল্প বেশ রোমাঞ্চকর। সিলেটের স্থানীয় ক্রিকেটে টেপ টেনিসে বেশ খ্যাতি ছিল তার। উপমহাদেশের স্থানীয় ক্রিকেটে টেপ টেনিসের বোলার মানেই গতির ঝড়। গতিতে ব্যাটসম্যানকে নাকাল করা বোলাররাই বেশিরভাগ সময় সেরার তকমা পান। রাজা স্থানীয় টেপ টেনিস টুর্নামেন্টে দ্যুতি ছড়িয়ে খেলেন একটি ক্রিকেট বলের টুর্নামেন্টে। সেখান থেকেই শুরু। স্টেডিয়ামে অনুশীলন-বিভাগীয় দল-এইচপি মাতিয়ে এখন জাতীয় দলে।

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/০০