বিশ্বকাপ সবার ভাগ্যে থাকে না: আরিফুল হক

ছক্কা নাঈমের কথা নিশ্চয়ই মনে আছে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২০০৯ সালে এক ম্যাচে তিন বলে তিন ছক্কা হাঁকিয়ে নাঈম ইসলাম থেকে ছক্কা নাঈমে পরিণত হন উত্তরবঙ্গের ছেলে। তার দেখানো পথে উত্তরবঙ্গ তথা রংপুর থেকে উঠে এসেছেন আরেক হার্ডহিডার ব্যাটসম্যান আরিফুল হক। যার কাছে আছে আধুনিক ক্রিকেটের সকল শক্তিমত্তা। মিডিয়াম পেস বোলিংয়ের সাথে আছে লোয়াল অর্ডারে ঝড়ো ব্যাটিং। ২০১৭ সালের বিপিএল আরিফুলের জন্য ছিল বড় মঞ্চ। তরুণদের নিয়ে গড়া খুলনা টাইটান্সের বড় বাজি ছিলেন আরিফুল। পারফর্ম দিয়ে জায়গা করে নিয়েছেন জাতীয় দলে। টি-২০ ক্রিকেটে নিয়মিত হয়েছেন এই বছর। তবে লক্ষ্য বহুদূর। জাতীয় দলকে সার্ভিস দিতে চান অনেক দিন। একই সাথে দুই চোখ জুড়ে আছে বড় কিছু করার স্বপ্ন। কি সেই স্বপ্ন সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আরিফুল হকের সাথে সাক্ষাৎকারে জানাচ্ছে নিউজ ইনচার্জ শামছুল হক মিলাদ…

আন-অফিসিয়াল একদিনের সিরিজের প্রথম ম্যাচে দারুণ পারফর্ম করলেন নিজের কাছে মূল্যায়ন কতটুকু ম্যাচ নিয়ে?

আরিফুল: ক্রিকেট ম্যাচে আসলে আলাদা করে কিছু ভেবে খেলা যায় না। পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলতে হয় এবং যখন যা করা উচিত তখন সেটাই করে দেখাতে হয়। ভালো লাগছে যে দলকে জয় এনে দেয়ার পাশাপাশি নিজেও পারফর্ম করেছি। ব্যাটিং-বোলিং দুটিই ভালো হয়েছে।

দ্বিতীয় ম্যাচে লঙ্কান ‘এ’ দলের কাছ থেকে আমাদের সিরিজ জয়ের সুযোগ ছিল কিন্তু একাদশ পরিবর্তনের কারণে ম্যাচটা হেরে গেলো বাংলাদেশ ‘এ’ দল?

আরিফুল: আসলে কম্বিনেশন দল থেকে পরিবর্তন করার চিন্তা ছিল না ঐ ভাবে। কিন্তু প্রথম ম্যাচের দুই পারফর্মার মিজানুর-ফজলে মাহমুদ ইনজুরি হয়ে যায়। যার কারণে আমাদের পরিবর্তন করতে হয়। ‌দ্বিতীয় ম্যাচে আমরা ওদের খুব মিস করেছি। নিজে থেকে চেষ্টাও চালিয়েছে। আমাদের একটা জুটি দাঁড়িয়ে গেলে ভালো কিছু হতে পারতো।

তিন ম্যাচের এই ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচ সিরিজ নির্ধারণী। স্বাগতিক দলের লক্ষ্যে কি?

আরিফুল: আসলে এই সিরিজটা আমাদের জন্য খুবই উপকারী। নিজেদেরকে মেলে ধরার একটা জায়গা। আর জিততে সবারই ভালো লাগে।  এখান থেকে ভালো কিছু নিতে পারলে সামনে আমাদের আয়ারল্যান্ড সফর আছে সেখানে আরো ভালো করতে পারবো।

উইন্ডিজের বিপক্ষে টি-২০ সিরিজের পরিকল্পনায় এই দলের বেশ কয়েকজন আছেন। আপনিও তাদের একজন কি ভাবছেন সিরিজ নিয়ে?

আরিফুল: সিরিজ নিয়ে আসলে ভাবনার কিছু নেই। টি-২০ খেলাটা এরকম যাবো খেলবো। পূর্ব পরিকল্পনার কোন সুযোগ নেই। ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে খেলতে হয়। আর এই মূর্হতে আমার ভাবনায় ঐ সফরটা নেই। কারণ আগামীকাল আমাদের খেলা এই মাঠে আছে এবং আমি এই ম্যাচ নিয়েই চিন্তা করছি।

সামনে আইসিসি বিশ্বকাপ একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডার খুব করে প্রয়োজন সেখানে বাংলাদেশ দলে। দলের পরিকল্পনায় আছেন বিশ্বকাপ নিয়ে ভাবনা কি?

আরিফুল : আমি যখন খেলা শুরু করি তখন থেকেই একটা ভাবনা ছিল জাতীয় দলে অনেকদিন পর্যন্ত খেলা। আল্লাহর রহমতে আমি এখন শুরু করেছি। ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই সেরাটা খেলতে চাই যদি জাতীয় দলে আমি নিয়মতি হই। জাতীয় দলের একজন অলরাউন্ডার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আর বিশ্বকাপ অন্য ব্যাপার। প্রত্যেক খেলোয়াড়েরই স্বপ্ন থাকে বিশ্বকাপ খেলা। সবার ভাগ্যে বিশ্বকাপ জুটেও না। এখন দেখা যাক কি হয়।

যদি ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে দলে সুযোগ পেয়ে যান তাহলে….

আরিফুল: অবশ্যেই সুযোগ পেলে চেষ্টা করবো বিশ্বকাপকে একটা স্মৃতি হিসেবে ধরে রাখতে। ঐ জায়গায় ভালো পারফর্ম করতে চাই। যাতে করে বিশ্বকাপটা মনে থাকে সারা জীবন।

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/১০৪