বেঁচে থাকার লড়াইয়ে একজন আর্চি, অস্ট্রেলিয়া বলেই সম্ভব

জহির খান :: ‘আয়ারস’ রক বিশাল আকৃতির এক পাহাড়। এটি অন্যান্য পাহাড় থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এই পাহাড়টি ক্ষণে ক্ষণে রঙ বদলায়। সকালে এক রঙ তো দুপুরে আরেক রঙ। সন্ধ্যায় বা রাতে পাহাড়ের আরেক রুপ। এই পাহাড়ের নাম আয়ারস রক। মানুষজন এর নাম দিয়েছে ‘যাদুর পাহাড়’।

ভৌগলিকভাবে এ আয়ারস রকের অবস্থান অস্ট্রেলিয়ায় নরদার্ন টেরিটোরিতে। এমনি এক সৌন্দর্য ঘেরা উপত্যকায় উদিত হয়েছে নতুন দিনের ‘সূর্য’। এ সূর্য দিনে নয়, হাজার বছর ধরণীকে আলোকিত করতে নেমে এসেছে পৃথিবী নামক বৈচিত্র্যের এক গ্রহে। পুরো ক্রীড়া ভুবনে আজ বইছে নতুন দিকপালের হাওয়া। এই হাওয়া আছড়ে পড়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া শিবিরে। রূপকথার একবিংশ শতাব্দীতেও এমন রূপকথার গল্প আর দৃশ্যমান সৌন্দর্য উপভোগ করছে পুরো ক্রিকেট দুনিয়া।

ক্রিকেট শুধু একটি খেলা নয়, এর সাথে মিশে আছে আবেগ ও ভালোবাসা। যার জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত দেখিয়েছেন অস্ট্রেলিয় ক্ষুদে আর্চি শিলার। স্বপ্ন পূরণ হলো আর্চি শিলারের। মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ব্যাগি গ্রিন টুপিটা মাথায় পড়লেন। টসও করতে নামলেন অধিনায়ক টিম পেইনের সঙ্গে। তাকে যে ‘কো-ক্যাপ্টেন’ ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া!

দলের খেলোয়াড় তালিকায়ও আর্চির নামটি আছে ‘কো-ক্যাপ্টেন’ হিসেবে। টসের সময় ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি আর অস্ট্রেলিয়ার টিম পেইনের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আর্চি। টসের পর তার অনুভূতি জানতে চাওয়া হলে এক কথায় দলের জন্য একটি বার্তা দিয়ে দিলেন, ‘ছক্কা মারো আর উইকেট নাও।’

ক্রিকেটের খোঁজখবর যারা রাখেন, তারা অনেকে আগেই জেনে গেছেন ৬ পেরিয়ে মাত্র ৭ বছরে পা দেওয়া ক্ষুদে আর্চির রূপকথার গল্প। এরই মধ্যে ১২টি অস্ত্রোপচার হয়ে গেছে তার হৃদপিন্ডে। যার মধ্যে ৬টিই বড় ধরনের অস্ত্রোপচার। যাকে বলে ওপেন হার্ট সার্জারি। ৬ বছর বয়সেই হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আর্চি সেলার স্বপ্ন দেখতে থাকে, একদিন অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হবে সে।

এতটুকু বয়সে, এতটা শারীরিক জটিলতা নিয়ে যার বেড়ে ওঠা, সে কি না স্বপ্নের চুড়ায় উঠে গেছে ইতিমধ্য! তাঁর অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলের জার্সি গায়ে খেলার আক্ষেপের খবর খবরটা অস্ট্রেলিয়া শিবিরে পৌঁছামাত্র কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার এবং অস্ট্রেলিয়া টিম ম্যানেজমেন্ট উদ্যোগ নেয় খুদে এই ক্রিকেটারের স্বপ্ন পূরণ করার। সে লক্ষ্যেই অস্ট্রেলিয়া দলের ট্রেনিংয়ে সুযোগ দেয়া হয় তাকে এবং বলে দেয়া হয় বক্সিং ডে টেস্টে দলেও রাখা হবে আর্চি সেলারকে।

সেই কথামতোই মেলবোর্নে শুরু হওয়া বক্সিং ডে টেস্টে দলের সদস্য করা হয় আর্চিকে। শুধু খেলোয়াড় হিসেবে নয়, কো-অধিনায়ক হিসেবে। এবার আর্চির স্বপ্ন পেলো পূর্ণতা, ক্রিকেট পেলো আরেক গৌরবের ‘মুকুট’।

ধরণী আজ ২২ গজের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বকে জানান দিচ্ছে আর্চি শিলার নতুন জীবনের কথা। এ জীবন থামে না, মাঝে মাঝে থমকে দাঁড়ায় তাবৎ দুনিয়া আর ‘কুর্নিশে’ মাথা নুয়ে হাজার মাইল অপ্রান্ত থেকে বলতে থাকে, তোমার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে শিলার, আর থেমে থেকো না ছুটতে থাকো প্রাপ্তির শেষ দিন পর্যন্ত। ক্রিকেট সৌন্দর্যে এমন রূপকথা টিকে থাকবে যুগের পর যুগ।

(এসএনপিস্পোর্টস২৪ডটকম সব সময়ই পাঠকের প্রতি আন্তরিক ও শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখাটি লেখকের একান্তই নিজস্ব। আমরা সকলের মতামতকেই গুরুত্ব দেই। লেখকের মতামতের সঙ্গে আমাদের সম্পাদকীয় নীতির মিল নাও থাকতে পারে।)

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/পালে/০০