‘বড় জাদুকর’ মেসি, শুভ জন্মদিন!

আধুনিক ফুটবলের জাদুকর লিওনেল মেসির জন্মদিন আজ। পায়ের জাদুতে পুরো ফুটবল বিশ্বকেই মাতিয়ে রাখা এই ফুটবলার আজ ৩৪-এ পা দিলেন। আজ থেকে ঠিক ৩৪ বছর আগে ১৯৮৭ সালের ২৪ জুন আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে জন্মগ্রহণ করেন ছোটখাটো গড়নের এই ‘বড় জাদুকর’। যিনি  আজ ফুটবল কিংবদন্তী।
আশিক উদ্দিনঃ কেউ বলে ফুটবলের জাদুকর, আবার কেউ বলে ভিনগ্রহের খেলোয়াড়। বাঁ পা দিয়ে সবুজ মাঠে সবচেয়ে সুন্দর ছবি আঁকা শিল্পীর নাম মেসি। একবিংশ শতাব্দীর প্রায় সব মাস্টারমাইন্ড কোচকে তাদের ডিফেন্স মেকানিজম বদল করতে বাধ্য করা মানুষটি হলো মেসি। অথচ আজকের মেসির অনিন্যসুন্দর ক্যারিয়ারই ছিল একসময় হুমকির মুখে।

মেসির ছোটবেলা স্বাভাবিক শিশুদের মত ছিল না। দৈহিক অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ে খুব ছোট্ট থাকতেই। সেই অস্বাভাবিকতা জয় করে গত প্রায় ২ দশক করে ফুটবল মাঠে একের পর এক রেকর্ড গড়ে চলেছেন অবিশ্বাস্য ফুটবলার। তার পায়ের জাদুতে বিমোহিত গোটা ফুটবল বিশ্ব।

মেসি ২০০০ সালে আসেন বার্সেলোনায়। যুব দল পেরিয়ে ২০০৪ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে নাম লেখান বার্সার সিনিয়র দলে। তারপর টানা দেড় দশকের বেশি সময় ধরে পুরো ফুটবল বিশ্বকে মাতিয়ে রেখেছেন এই আর্জেন্টাইন তারকা। মেসি তার পুরো পেশাদার জীবন পার করেছেন বার্সেলোনায় যেখানে মোট একাধিক শিরোপা জিতেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ১০টি লা লিগা। এছাড়া ৪টি চ্যাম্পিয়নস লিগ, ৬টি কোপা দেল রে ও ৩টি ক্লাব বিশ্বকাপ।

মেসি আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। বয়সভিত্তিক পর্যায়ে মেসি আর্জেন্টিনাকে ২০০৫ ফিফা ইয়ুথ চ্যাম্পিয়নশিপ জেতাতে সাহায্য করেন যে টুর্নামেন্টে তিনি সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জয় করেন। এছাড়া তিনি ২০০৮ গ্রীষ্মকালীন অলম্পিকে স্বর্ণপদক জয় করেন। তবে জাতীয় দলে প্রাপ্তি খাতায় নেই মেসির শিরোপা।

মেসির হাত ধরে বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকায় মোট তিনবার ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। কিন্তু ভাগ্য তার সঙ্গে ছিল না। একবারও শিরোপা জেতা হয়নি ভিনগ্রহের এই ফুটবলারের। ২০১৪ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ, ২০১৫ ও ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকায় দলকে তুলেছিলেন ফাইনালে। কিন্তু তিন ফাইনালের একটিতেও শেষ হাসি হাসতে পারেননি মেসি। তিনবারই আটকা পড়েছেন শেষ বাঁধায়। এ যেন মেসির অপূর্ণতার দানে দানে তিন দান! তিন তিনটে ফাইনালে আক্ষেপের গল্পটি বদলায় নি।

ফুটবল ক্যারিয়ারে মেসির প্রাপ্তি ও সাফল্যের শেষ নেই। ফুটবলকে তিনি নিয়ে গেছেন ভিন্ন এক জগতে। ক্যারিয়ারজুড়ে বিশ্বকে শুধু নান্দনিক ফুটবলে অবাকই করে গেছেন। ৩৩টি বসন্ত পার হয়ে ফুটবল জীবনের প্রৌঢ়ত্বেও এখনো সমান সাবলীল মেসি। গতি হয়তো কমেছে, কিন্ত আঠারো গজ বক্সে মেসির পায়ে বল পড়লেই যেকোনো গোলরক্ষক, ডিফেন্ডারের ঘুম উড়ে যায়।

বার্সেলোনা ও আর্জেন্টিনায় এত কিছু জেতার পরও প্রতিনিয়ত সমালোচনা সহ্য করতে হয়েছে তাকে। দিনশেষে একটি জিনিসের অভাব খোদ মেসিকেই কুড়ে কুড়ে খায়। সবকিছু থাকার পরও যেন তার ট্রফি কেবিনেট কেমন খালি মনে হয়। জাতীয় দলের হয়ে কিছু অর্জন নেই যে! তবে সু্যোগ শেষ হয়ে যায় নি তাঁর। কোপা আমেরিকা ও কাতার বিশ্বকাপে আসছে শিরোপা উঁচিয়ে ধরার সুযোগ। তবে ভয় হয় এই ভেবে, ক্যারিয়ারে নিজেকে মেসি যতটা উচ্চতায় নিয়ে গেছেন; ঠিক ততটা বোধহয় পিছিয়েছে আর্জেন্টিনা! না হলে এতটা বছর শিরোপাহীন থাকতে হতো না আলবেসিলেস্তেদের। আর্জেন্টিনা যতদিন শিরোপাহীন থেকেছে, এই সময়টায় তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল ২ টা বিশ্বকাপ, ৫ টা কোপা আমেরিকা, ৪ টা কনফেডারেশন কাপ জিতেছে!

 

ব্রাজিল যে সময়টায় এত এত শিরোপা জয়ে মগ্ন, তখন আর্জেন্টাইন ভক্তরা মেসির ব্যক্তিগত অর্জনে সুখ খোঁজতে হয়েছে। এই শতাব্দিতে মেসি ৬ বার ফিফার বর্ষসেরা খেলোয়াড় হয়েছেন। ব্যালন ডি অর জিতেছেন ৬ বার। ২০০৯ থেকে ২০১২ পর্যন্ত টানা চারবার জিতেছেন ফিফার বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার। একের পর এক রেকর্ড গড়ে আর মাইলফলক পাড়ি দিয়ে হয়ে উঠেছেন এসময়ের অন্যতম সেরা ফুটবলার। তার অসাধারণ দক্ষতার কারণে কেউ কেউ তাকে ভিনগ্রহের! মানুষ হিসেবেও অভিহিত করেন।

এমনই করে ফুটবল বিশ্বকে নিজের পায়ের জাদুতে মোহাচ্ছন্ন করে রাখুক মেসি। আর ২০২১ কোপা আমেরিকা ও ২০২২ বিশ্বকাপ জিতে নিজের, দেশের ও বিশ্ব জুড়ে কোটি কোটি সমর্থকদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারুক সে। ফুটবলের ‘বড় জাদুকর’ মেসির জন্মদিনে রইল অনেক শুভেচ্ছা।

এসএনপিস্পোর্টসটোয়েন্টিফোরডটকম/নিপ্র/১১০